ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

করোনা-সতর্কতা

সামাজিক দূরত্বেও মানবিক নৈকট্য

সামাজিক দূরত্বেও মানবিক নৈকট্য
×

অনেকটা নিয়তির পরিহাসের মতো- দুর্যোগে বা বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মজ্জাগত হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে আমাদের থাকতে হচ্ছে দূরে দূরে। কেবল বাংলাদেশে নয়, গ

--

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৪:১৬

অনেকটা নিয়তির পরিহাসের মতো- দুর্যোগে বা বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মজ্জাগত হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে আমাদের থাকতে হচ্ছে দূরে দূরে। কেবল বাংলাদেশে নয়, গোটা বিশ্বেই করোনা-সতর্কতার অংশ হিসেবে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে রীতিমতো আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ করে। আমরাও চাই, এই দুর্যোগে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের স্বার্থে সবাই যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুক। বিশেষত হাসপাতালগুলোতে একের সংক্রমণ থেকে অন্যকে সুরক্ষার তাগিদ আমরা এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই দিয়েছি। কিন্তু এর মানে এটা হতে পারে না যে, সামাজিক দূরত্বের মধ্যেও আমরা মানবিক আচরণ ভুলে যাব। বস্তুত দূরত্ব রক্ষা করেও যে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো যায়, এর উদাহরণ দেশে ও বিদেশে কম নেই। দুর্ভাগ্যবশত কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, করোনা আতঙ্কে স্বাভাবিক প্রবৃত্তিও ভুলে যাচ্ছে মানুষ।

স্বজনের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে আরেক স্বজন। জ্বর, কাশি বা সর্দি দেখলেই সঙ্গীকে ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে আরেক সঙ্গী। অথচ মনে রাখা জরুরি- জ্বর বা কাশি মাত্রই করোনাভাইরাসের লক্ষণ না-ও হতে পারে। ভুলে যাওয়া চলবে না যে, করোনাভাইরাস হলেও তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী নয়। বিশেষত হাসপাতালগুলোতে যখন সাধারণ রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না, তা কেবল অমানবিকতা নয়, অপেশাদারিত্বেরও প্রমাণ। শনিবার ভোরে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের শিকার একজন মুক্তিযোদ্ধাকে চার চারটি হাসপাতালে নিয়েও ভর্তি করানো যায়নি এবং পরবর্তীকালে একটি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি- সোমবার সমকালে প্রকাশিত এই সংবাদ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য একটি অক্ষয় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে থাকবে। আমরা মনে করি, করোনাভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ থাকলেও চিকিৎসাপ্রার্থীকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার এই 'আতঙ্ক' চলতে দেওয়া যায় না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী তথা পিপিই সরবরাহের তাগিদ আমরাই দিয়েছি। এর ভিত্তিতে পর্যাপ্ত না হলেও নূ্যনতম সংখ্যক পিপিই বিভিন্ন হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষ থেকে পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে।

তারপরও চিকিৎসাপ্রার্থী হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে? আমরা দেখতে চাই, সামাজিকভাবেও নাগরিকরা যেন মানবতার ডাক অগ্রাহ্য না করে। সুরক্ষাবিধি মেনেই যেন একে অন্যের 'পাশে' দাঁড়ায়। প্রবাস থেকে ফিরলেই বা করোনা আক্রান্ত সন্দেহ হলেই সামাজিক হেনস্তার যে খবর আমরা বিভিন্ন এলাকায় দেখতে পাচ্ছি, তারও অবসান হতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন সংগঠনগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই দুর্যোগে আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব। মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ যুগে যুগে প্রতিষ্ঠা করেছে, সামাজিক দূরত্বে থেকেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না বলে প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন

×