হতদরিদ্রদের চাল চুরি
কাঙালের ধনেও থাবা!
রাবা খান ও ইশরাত করিম
--
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:১৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় 'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি'- এই প্রবাদ বাক্যতুল্য চরণটির চিরন্তনতা সব কালেরই। এই ক্রান্তিকালে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মহৎ উদ্দেশ্য কীভাবে ভেস্তে যাচ্ছে, এরই প্রতিফলন দেখা গেছে শনিবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। যাদের জন্য এই কর্মসূচি তারা তো উপকার পাচ্ছেনই না, উপরন্তু সরকারের চাল আত্মসাৎ করছেন অসাধুরা। করোনা সংকটে দেশের হতদরিদ্ররা হয়ে পড়েছেন কর্মহীন; তার ওপর তার বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৩৫৬ বস্তা চাল জব্দ করার পাশাপাশি অপকর্মে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এগুলো খণ্ড চিত্রমাত্র। গভীরে আরও অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা অসম্ভব নয়। এভাবে কাঙালের ধন হস্তগত করা তথা গরিবের হকে থাবা বসানো নিঃসন্দেহে গর্হিত অপরাধ। আমরা জানি, হতদরিদ্রদের জন্য গৃহীত যে কোনো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এর আগে কম তুঘলকি কাণ্ড ঘটেনি। এমনকি তাদের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন মাঠ পর্যায়ের অসাধু দায়িত্বশীলরা।
প্রধানমন্ত্রী বারবার এসব ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা সত্ত্বেও অসাধুরা তা যে আমলেই নেননি, বিদ্যমান বাস্তবতা এরই সাক্ষ্যবহ। ভিজিডি-ভিজিএফের চাল, গম আত্মসাৎ কিংবা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রি করার খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত-প্রচারিত হলেও অপরাধীরা শাস্তি পায় কদাচিৎ। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে অপকর্মের অধিকাংশ হোতাই পার পেয়ে যান। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের আত্মসাৎ করা চাল উদ্ধার ও আত্মসাৎকারীদের গ্রেপ্তার করায় আমরা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এখানেই থেমে গেলে চলবে না। প্রশাসনের সক্রিয়তার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ-অসাধুদের দৃষ্টান্তযোগ্য বিচারের পথও সুগম করতে হবে। যদি এসব অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বটবৃক্ষের ছত্রছায়ায় থাকা অসাধুদের নিরস্ত্র করা যাবে বলে আমরা মনে করি। সরকারি সব সাহায্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
