ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

করোনা মোকাবিলা

পুলিশের সুরক্ষায় ছাড় নয়

পুলিশের সুরক্ষায় ছাড় নয়
×

‘মিশন সেভ বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ঢাকার উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে অভাবী লোকজনকে ১০ দিনের খাবার দেওয়া হয়- সমকাল

--

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:১৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

অস্বীকার করা যাবে না যে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপীই স্বাস্থ্য বিভাগ রয়েছে সামনের সারিতে। কিন্তু নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য যে নিছক স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা ও পরামর্শই জরুরি নয়, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও আমরা দেখছি, রীতিমতো টহল দিয়েও নাগরিকদের পুরোপুরি ঘরে রাখা যাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় করোনা মোকাবিলায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষত পুলিশের ভূমিকা হয়ে উঠছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের 'অগ্রবর্তী দল' হিসেবে। কেবল নাগরিকদের ঘরে রাখা নয়; ঘরে বা বাইরে থাকা অবস্থায় তাদের নানা অসুবিধায় পুলিশকেই আমরা পাশে এসে দাঁড়াতে দেখছি। ঘরে ওষুধ-খাদ্য নেই, পুলিশ পৌঁছে দিচ্ছে। হাসপাতালে যেতে হবে, নাগরিকরা শরণাপন্ন হচ্ছে পুলিশের। বস্তুত গত কয়েক সপ্তাহে আমরা পুলিশের যে 'মানবিক মুখ' দেখেছি, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। করোনাভাইরাসের দুঃসময়ে এই বাহিনীর জনঘনিষ্ঠ ও মানবিক ভূমিকা যেন একটি নতুন ভাবমূর্তি বিনির্মাণ করেছে। আমাদের মনে আছে, গত পুলিশ সপ্তাহেও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ চিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে পুলিশকে। দেশের প্রচলিত আইন, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধই হবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।

করোনা দুর্যোগে আমরা পুলিশকে সেই ভূমিকাতেই দেখতে পাচ্ছি বললে অত্যুক্তি হয় না। এটাও সত্য যে, প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি সামাজিক সংস্পর্শের কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতেও রয়েছে পুলিশ। আরও দুর্ভাগ্যজনক সত্য, করোনা থেকে পুলিশের সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভবত সবচেয়ে নাজুক। শনিবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কেবল নিম্নমানের 'মাস্ক' সম্বল করে পুলিশ সদস্যরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে। যেখানে দেশে দায়িত্বরত পুলিশের সংখ্যা কমবেশি দুই লাখ, সেখানে তাদের হাতে রয়েছে মাত্র ১০ হাজার পিপিই। আমরা মনে করি, পুলিশের সুরক্ষায় ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। আমরা জানি না, করোনা পরিস্থিতি কতদিন অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এটা জানি যে, যতদিন যাবে মানবিক দায়িত্ব ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রেক্ষিত আরও বাড়তে থাকবে। সেক্ষেত্রেও একটি কার্যকর ও সক্রিয় পুলিশি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কিন্তু খোদ পুলিশের যদি করোনা সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল থাকে, তাহলে সেই পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে? চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্নিষ্ট অন্যদের সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করি না; কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় পুলিশেরও প্রয়োজন একই মাত্রার সুরক্ষা, ভুলে যাওয়া চলবে না। মনে রাখতে হবে, গত কয়েক বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও বাহিনীটি জঙ্গিবাদ দমন ও নাশকতা প্রতিরোধে সাফল্য দেখিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে সুনাম কুড়ানো বাহিনীটির 'ট্রিপল নাইন' সেবার কার্যকারিতা করোনাকালেও নতুন মাত্রা পেয়েছে। নতুন ধরনের এক লড়াইয়েও তারা যাতে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সবকিছুর আগে নিশ্চিত করতে হবে তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। 

আরও পড়ুন

×