মূল্যস্ফীতি
সরকারি পে কমিশন, অন্যদের কী?
দশ বছর পর নতুন বেতন কমিশন
মাহফুজুর রহমান মানিক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৫ | ১৮:৪৩ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৫ | ১৯:১৪
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য পে কমিশন গঠনের বিষয়টি ইতিবাচক। কারণ দশ বছর আগে পে স্কেল হয়েছিল। সেজন্য ইতোপূর্বে সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। অনেকেই আশা করছিলেন, জুন মাসে ঘোষিত নতুন অর্থবছরের বাজেটে তা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার বদলে বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন নতুন করে বেতন কাঠামো তাদের জন্য সুখবরই বলতে হবে।
তবে যখনই সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা বা পে কমিশনের কথা আসে তখনই বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের আলোচনাও সমান্তরালে চলে আসে। গত ডিসেম্বরে যখন মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি সরকার ইতিবাচভাবে চিন্তা করছিল তখন আমি লিখেছিলাম– মহার্ঘ ভাতা দিন, সাধারণের কথাও ভাবুন (সমকাল, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪)। বৃহস্পতিবার এবারের নতুন পে কমিশন গঠনের খবরে কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। পে কমিশনের যৌক্তিকতা বুঝাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মূল্যস্ফীতির কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি যদিও কিছুটা কমেছে, কিন্তু এখনও সহনীয় মাত্রার উপরে আছে।
সাধারণ মানুষও যাতে স্বস্তি পায় সেজন্য মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে আনতে হবে। এর আগের লেখায় আমি সরকারের করণীয় হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলাম– বাজার অস্থিতিশীল না হতে দেওয়া; বাজার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসা এবং যারা বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাদের বেতন কিংবা মজুরি বাড়ানোর বিষয়েও সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনেক খাতেই বঞ্চনার শিকার মানুষ। সরকারকে সেসব দিকে নজর দিতেই হবে।
যা হোক, সরকার পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। এটা যত দ্রুত হয়, ততই মঙ্গল। সবচেয়ে ভালো হয়, এই সরকার যদি বিষয়টা বাস্তবায়ন করে যেতে পারে। তা না হলে নতুন সরকার এলে আবার কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে। আর, নতুন পে কমিশন বাস্তবায়ন করার সময় একশ্রেণির সুযোগ সন্ধানী বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
নতুন পে কমিশনে ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীই লাভবান হবে না, এর সঙ্গে তাদের পরিবারসহ আরও অনেকে এর উপকারভোগী হবেন নিশ্চয়ই। একই সঙ্গে বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষও যাতে উপকার হয় সেজন্য সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, সরকার কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যই না, দেশের সব মানুষের জন্যই। সেজন্য বাজারের পাশাপাশি আরও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ আরও কীভাবে সবাইকে নিয়ে আসা যায়, দিন শেষে সেটাই ভাবতে হবে।
মাহফুজুর রহমান মানিক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, সমকাল
[email protected]
- বিষয় :
- বেতন
- সরকারি চাকরিজীবী
