ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক

ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে, সব ‘কার্ড’ শির হাতে

ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে, সব ‘কার্ড’ শির হাতে
×

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং

সাইমন টিসডাল

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১০:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎপরতার সঙ্গে তুলনা চলে নিয়ন্ত্রণহীন এক ধ্বংসকারী বলের মতো, যা এলোমেলোভাবে এদিক-ওদিক দুলতে থাকে। পরিণতির কথা খুব একটা না ভেবেই তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছেন। সুসংহত কৌশল, কার্যকর পরিকল্পনা বা ধারাবাহিক লক্ষ্যের অভাবে তিনি খামখেয়ালি ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেই যাচ্ছেন। একটি ভঙ্গুর, উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্র এবং জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে অন্যত্র ক্ষমতার দাপট দেখান। এর ফলে দেশগুলোতে রেখে যান দুর্দশা, বিভ্রান্তি ও ধ্বংসস্তূপ। স্বভাবতই তিনি একটি ভুয়া বিজয় দাবি করেন। অন্যদের কাছে ক্ষতিপূরণ ও তার খরচ বহনেরও দাবি জানান। তারপর ভাঙার জন্য নতুন কিছুর সন্ধান করেন। 

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বেইজিং সফরের মাধ্যমে এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেকটি আন্তর্জাতিক মাইনফিল্ড– চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থায় প্রবেশ করবেন। ইউক্রেন, গাজা, ন্যাটো, গ্রিনল্যান্ড এবং এখন ইরান ও লেবাননকে কেন্দ্র করে নীতিগত দিক থেকে তিনি একের পর এক অপমানজনক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। এর পরও অসহায় ট্রাম্প দেশে জাহির করার জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য চাইছেন। কিন্তু তিনি সর্বশেষ যেভাবে ইরান যুদ্ধে নেমে পড়েছেন, তাতে ভোটার টেনে নেওয়ার বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে তাঁর আশা ম্লান হয়ে পড়েছে। সর্বাত্মক যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ইরানকে যাতে চীন অস্ত্র সরবরাহ না করে, শি-এর কাছ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের দরকার। এর পাশাপাশি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে একটি প্রস্তাবিত কাঠামো তৈরিতেও শি-এর সাহায্য প্রয়োজন তাঁর। 

শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের অবস্থানগত দুর্বলতা এই কল্পনাকে উস্কে দিচ্ছে– তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন সমর্থন হ্রাস করাটাই হয়তো শির সদ্ভাবের উপহার। শি জানেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধের দাম বাড়ানোর জন্য ট্রাম্পকে সর্বজনীনভাবে দায়ী করা হয়। ইউরোপীয় মিত্ররা তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছে। রাশিয়া বাড়তি তেলের মূল্য থেকে অন্যায্যভাবে লাভবান হচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলোই এর চরম দুর্ভোগের শিকার। সামরিকভাবেও ট্রাম্প জিতছেন না, যা তাঁর অপরিপক্ব ও অনিয়মিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ থেকেই স্পষ্ট। তিনি তাঁর নিজের তৈরি করা এই চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং শি-এর সুবিধা কমাতে মরিয়া।

তাঁর এই প্রচণ্ড বদমেজাজি অতিথি নিয়ে শি কী ভাববেন? চীনের জন্য ট্রাম্প হলেন এমন এক উপহার, যা ক্রমাগত সুবিধা দিয়ে যায়। তার বদৌলতে আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমবর্ধমান এক আগ্রাসী সম্ভাব্য শত্রু অথবা বিশ্বাসঘাতকতায় লিপ্ত এক অবিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রভাব-প্রতিপত্তির ক্ষতিতে বেইজিংয়েরই লাভ। যেমন ট্রাম্পের অস্থিরতা শিকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার নতুন রক্ষক হিসেবে চীনকে তুলে ধরতে সহায়তা করে। ইরানের অচলাবস্থা মার্কিন বাহিনীকে এশিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। যেমন মধ্যপ্রাচ্যে এখন তাদের দুটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতের চীনা আগ্রাসন থেকে তাইওয়ান ও আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষা করার সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করছে।

শি জিনপিংয়ের জন্য অসুবিধার দিকটি হলো, এমন এক সময়ে এই যুদ্ধের ফলে জ্বালানি মূল্য, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং রপ্তানি চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যখন চীনের অর্থনীতি এমনিতেই অবনতির মুখে। 

সাইমন টিসডাল: গার্ডিয়ানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক ভাষ্যকার; গার্ডিয়ান থেকে
ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম 

 

আরও পড়ুন

×