ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর হাট-বাজার

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর হাট-বাজার
×

স্টিফেন স্টার্ন

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়েস্টমিনস্টারের এই সময়টা নগ্ন উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ভর করে চলছে। হয় ক্ষমতায় টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা, নয়তো শীর্ষে পৌঁছাতে মরিয়া। রাজনীতি– যাকে কখনও কখনও অন্যায়ভাবে ‘কুৎসিত মানুষদের জন্য প্রদর্শনী ব্যবসা’ বলে হেয় করা হয়; সবসময় মানবতার সেরা রূপটি প্রকাশ করে না। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা যে ধারাবাহিকভাবে বিপর্যয়কর খারাপ শাসন সহ্য করেছি, তাকে লাগামছাড়া মন্দ উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক চর্চা হিসেবে দেখা যায়। ‘ফেয়ার অর ফাউল-দ্য লেডি ম্যাকবেথ গাইড টু অ্যাম্বিশন’-এর লেখক হিসেবে শেকসপিয়রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখার ক্ষমতা আছে বলে আমি বলতে পারি, এর পরিণতি কী হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বীরা কর্তব্য, জনসেবা এমনকি আত্মমর্যাদার দোহাই দিয়ে সুন্দর সুন্দর শব্দ ও সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করবে। কিছু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হয়তো নিজেদের এই বলে আশ্বস্ত করছেন, তাদের উদ্দেশ্য মূলত মহৎ। প্রকৃতপক্ষে ওয়েস্টমিনস্টার হলো একটি যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে ক্ষমতার সুযোগ সন্ধান ও প্রয়োগ চলে।

কখনও কখনও এই সত্যটি স্বীকারও করা হয়। ২০ বছরেরও বেশি আগে ‘ডেজার্ট আইল্যান্ড ডিস্কস’ অনুষ্ঠানে বরিস জনসন অকপটে স্বীকার করেছিলেন, কী তাঁকে উৎসাহ দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার সিলিকন চিপ, আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সিলিকন চিপ; এই সম্মানসূচক দৌড় এই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য তৈরি হয়েছে।’ জনসনের একজন সাবেক নিয়োগকর্তা হলেন ম্যাক্স হেস্টিংস। তিনি একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একই ধরনের একটি নেতিবাচক চারিত্রিক প্রশংসাপত্র দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া তিনি মৌলিকভাবে একজন দুর্বল মানুষ।’

কিয়ার স্টারমার যে সমস্যায় পড়েছেন, তার একটি কারণ হলো সফল হওয়ার জন্য তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রকল্প ঘিরে গড়ে ওঠেনি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন? তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লিখিত ওয়েস স্ট্রিটিং-এর তীব্র সমালোচনা রয়েছে। বলা হয়েছে, ‘যেখানে আমাদের দূরদৃষ্টি প্রয়োজন, সেখানে আমরা পেয়েছি শূন্যতা। যেখানে দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, সেখানে পেয়েছি লক্ষ্যহীনতা।’ এসব জনসমক্ষে সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি স্টারমারের কিছুটা উৎসাহ থাকলে হয়তো পরিস্থিতি সহজ হতো। কিন্তু ক্রুদ্ধ ভোটাররা শুধু তাকিয়েই আছেন এবং বুঝতে পারছেন না– তাঁর আদৌ বড় কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা।

আপনি যদি একজন দক্ষ চালক হন এবং ভাগ্য আপনার সহায় থাকে, তবে কেবল পদটি ধরে রাখার উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে রাজনীতির শীর্ষে কিছুদিন টিকে থাকার চেয়ে বড় কোনো লক্ষ্য নিহিত থাকে না। ডেভিড ক্যামেরন একবার বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন, তিনি ‘এই কাজে পারদর্শী’ হবেন। কিন্তু ‘আপনি কেন এই পদে আসছেন’– এই প্রশ্নের এটি খুব ভালো উত্তর ছিল না। অবশেষে তাঁর ভাগ্য ফুরিয়ে গেল। আর এখন, দুই বছরেরও কম সময় আগে নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর স্টারমারের ভাগ্যও ফুরিয়ে গেছে।

ম্যাকবেথ হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভুল পরিণতি সম্পর্কে একটি সতর্কবার্তা। যখন লেডি ম্যাকবেথ তাঁর স্বামীকে বলেন, ‘তুমি মহান হতে চাও, তোমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে বটে, কিন্তু তার জন্য যে অসুস্থতা থাকতে হয়, তা তোমার নেই।’ তখন তিনি আমাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা কতটা নিচে নামতে পারি, সে সম্পর্কে একটি উদ্বেগজনক বার্তা দেন। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা কী করতে সক্ষম, তা তিনি বোঝেন। কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো খারাপ জিনিস নয়। এর জন্য হিংস্র বা স্বার্থপর হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমরা বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য, মহৎ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে পারি। আমরা কেবল একটি ভালো জীবন যাপনের জন্যও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে পারি। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করতে, নতুন ব্যবসা শুরু করতে, জরুরি সমস্যার সমাধান করতে এবং ভালো নেতৃত্ব দিতে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ প্রয়োজন।

সম্প্রতি অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সদ্য স্নাতক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সমাবর্তন ভাষণে অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ড এক বক্তৃতা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘যারা আগে কথা বলত না, তাদের একত্র করুন। এটাই নেতৃত্ব। এটাই পরিবর্তন আনে।’ 

স্টিফান স্টার্ন: ‘ফেয়ার অর ফাউল-দ্য লেডি ম্যাকবেথ গাইড টু অ্যাম্বিশন’ বইয়ের লেখক; দ্য গার্ডিয়ান থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম

আরও পড়ুন

×