ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফিরে দেখা

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও প্রেক্ষিত

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও প্রেক্ষিত
×

মইনুল হোসেন চৌধুরী

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১০:৫৭ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ১২:০৭

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ৩০ মে। ১৯৮১ সালের এই দিনের আগে-পরের ঘটনাবলী কাছ থেকে দেখেছেন মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (অব.) বীরবিক্রম। তিনি ২০১০ সালে প্রয়াত হন। তাঁর রচিত ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক’ গ্রন্থ থেকে প্রাসঙ্গিক অংশ সমকালের পাঠকদের জন্য সংকলন করা হলো।

জিয়া হত্যাকাণ্ড
৩০ মে শুক্রবার আমি তখনও বিছানায় শোয়া। ভোরেই আমার সহকর্মী আর্মি হেডকোয়ার্টারের পিএসও জেনারেল নুরুদ্দিন (পরবর্তীতে মন্ত্রী) ফোন করে আমাকে সত্বর সেনাসদরে যেতে বললেন। সে সঙ্গে জানালেন, জেনারেল জিয়া চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন। আমি তাড়াতাড়ি ইউনিফর্ম পরে সেনাসদরে উপস্থিত হই। সেখানে গিয়ে দেখি জেনারেল এরশাদ আগেই উপস্থিত হয়েছেন। এরশাদ ছিলেন সামরিক পোশাক পরিহিত এবং ধীর, স্থির ও শান্ত। আমার পরে সেনাসদরে এলেন আরেক পিএসও জেনারেল মান্নান সিদ্দিকী (পরে এরশাদ সরকারের মন্ত্রী)। আমরা জেনারেল এরশাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, এখন কী হবে? জেনারেল এরশাদ সরাসরি কোনো উত্তর দিতে চাননি, বরং পরোক্ষ ইঙ্গিতে সামরিক আইন জারির কথা বললেন। আমরা বললাম, সামরিক আইন জারির কোনো যুক্তি বা অবস্থা এখন নেই। উপরাষ্ট্রপতি সাত্তার আছেন। তিনি তখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, তখনও পর্যন্ত জেনারেল এরশাদ উপরাষ্ট্রপতি সাত্তারকে জিয়া নিহত হওয়ার খবর জানাননি। আমরা বলার পর জেনারেল এরশাদ গেলেন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য।

সকাল ৯টার দিকে জেনারেল মঞ্জুর চট্টগ্রাম থেকে আমাকে ফোন করলেন। আমি তখন জেনারেল নুরুদ্দিনের কক্ষে। জেনারেল মঞ্জুর আমাকে আমার অফিসকক্ষে না পেয়ে জেনারেল নুরুদ্দিনের কক্ষেই ফোন করেন। ফোনে মঞ্জুর বললেন, ‘জেনারেল জিয়ার নিহত হওয়ার ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কিন্তু এ মুহূর্তে সবাই যেন শান্ত থাকে। ঢাকায় আর যেন রক্তক্ষয়, সংঘর্ষ ইত্যাদিতে কেউ জড়িয়ে না পড়ে। আমি আর বলতে পারছি না, অসুবিধা আছে।’ এরপর ফোন লাইন কেটে যায়। অনেক পরে ১৯৯০ সালে আমি জানতে পারি, জেনারেল মঞ্জুর তখন জুনিয়র অফিসারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ও চাপের মধ্যে ছিলেন।

জিয়া হত্যার ব্যাপারে অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস তাঁর এ লিগ্যাসি অব ব্লাড বইতে (পৃ. ১৬৯) জেনারেল মঞ্জুর ও জেনারেল শওকতের ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের উভয়ের সম্পর্ক ভালো ছিল না তা আমি আগেই বলেছি। একইভাবে ওই বইয়ে বলা হয়, জেনারেল মঞ্জুর ঢাকায় একাধিকবার ফোন করেছেন এবং আমি তাঁর ফোন পেয়ে অস্বস্তি বোধ করেছি বা হতবাক হয়েছি– এটাও সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমি এসব ঘটনার সাক্ষী। জেনারেল এরশাদের শাসনামলে এসব ভুল তথ্য আর্মিতে মুক্তিযোদ্ধা-বিরোধীরা ম্যাসকারেনহাসকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরবরাহ করে। বইটি পড়লেই এর উদ্দেশ্য বোঝা যায়।

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে খালেদ ও মুজাফফর
এ ছাড়া আমি যখন থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (১৯৮৯-৯৩) তখন জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত অন্যতম পলাতক আসামি মেজর খালেদ ব্যাংককে ছিলেন। অপর পলাতক আসামি মেজর মুজাফফর ছিলেন ভারতে। ভারত থেকে এসে মেজর মুজাফফরও খালেদকে নিয়ে ব্যাংককে আমার সঙ্গে দেখা করেন। জিয়া হত্যার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তথ্য জানার ইচ্ছা আমার ছিল এবং সেরূপ চেষ্টাও করি। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় আমি যা জেনেছি তা সংক্ষেপে এ রকম: মতি, মাহাবুব ও খালেদের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ২৪ ডিভিশনের জুনিয়র অফিসাররা জিওসি জেনারেল মঞ্জুরের অজান্তে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে সার্কিট হাউস থেকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল– জিয়াকে চাপ দিয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়, বিশেষ করে সেনাপ্রধান এরশাদসহ অন্যান্য দুর্নীতিপরায়ণ সামরিক অফিসার এবং পাকিস্তানপন্থি শাহ আজিজ ও অন্য দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করানো। কারণ এরশাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হয়রানি, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের ঢালাওভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি করাসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্নস্তরের ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছিল। মূলত এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাদের ওই উচ্ছৃঙ্খল বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে। বিদ্রোহের সেই রাতে বেশ ঝড় হচ্ছিল এবং জিয়া সার্কিট হাউসের দোতলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে অফিসাররা অতর্কিতে সার্কিট হাউস আক্রমণ করে। ওই আক্রমণের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, তাতে কোনো সৈনিক, জেসিও বা এনসিওকে সরাসরি জড়ানো হয়নি। জুনিয়র অফিসাররা নিজেরাই দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে সার্কিট হাউসে রকেট লঞ্চার নিক্ষেপ করে। পরে এক গ্রুপ গুলি করতে করতে ঝড়ের বেগে সার্কিট হাউসে ঢুকে পড়ে। গুলির শব্দ শুনে জিয়া রুম থেকে বের হয়ে আসেন এবং কয়েকজন অফিসার তাঁকে ঘিরে দাঁড়ায়। ওই সময় লে. কর্নেল মতিউর রহমান মাতাল অবস্থায় টলতে টলতে ‘জিয়া কোথায়, জিয়া কোথায়’ বলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে আসে এবং পলকেই গজখানেক সামনে থেকে তার চায়নিজ স্টেনগানের এক ম্যাগাজিন (২৮টি) গুলি জিয়ার ওপর চালিয়ে দেয়। অন্তত ২০টি বুলেট জিয়ার শরীরে বিদ্ধ হয় এবং পুরো শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। উপস্থিত অন্য অফিসাররা ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যায়। তারা কোনো গুলি ছোড়েনি। শুধু দু-একজন অফিসার ‘কী করছেন, কী করছেন’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। কিন্তু ততক্ষণে প্রেসিডেন্ট জিয়া মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

লে. কর্নেল মতির ক্ষোভের কারণ ছিল ভিন্ন
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্থায় ঢাকায় এলে (১৯৯১ সালে) আমি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মেজর খালেদ ও মুজাফফরের সঙ্গে আমার আলোচনা বিস্তারিতভাবে অবহিত করি। যেসব অফিসারের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেনারেল জিয়াকে হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে একমাত্র মেজর খালেদ ও মেজর মুজাফফরই তখন জীবিত ছিলেন। লে. কর্নেল মতিউর রহমান এবং লে. কর্নেল মাহবুব দুজন পালিয়ে যাওয়ার সময় মানিকছড়ির কাছে গোলাগুলিতে নিহত হন। মুজাফফর ও খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে মুজাফফর ভারতে এবং খালেদ ব্যাংককে চলে যান। বাকিদের কোর্ট মার্শালে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে খালেদ ব্যাংককে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান এবং তাঁর লাশ ঢাকায় পাঠানো হয়। বস্তুত ঘটনার পরদিন মঞ্জুরের সঙ্গে কথা হওয়ার পর আমি বুঝতে পারি, মঞ্জুর জিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত নয় এবং পরে মেজর খালেদের কাছ থেকেও জানতে পারি যে, আমার ধারণাই সঠিক। আমার মনে হয়, জিয়াকে হত্যার পেছনে লে. কর্নেল মতির ক্রোধ ও আক্রোশের কারণ ছিল অন্যত্র। ১৯৮১ সালের মে মাসের প্রথম দিকে আমেরিকাতে সামরিক প্রশিক্ষণে মনোনয়নের জন্য তৎকালীন লে. ক. মতিউর রহমান, লে. কর্নেল ইমামুজ্জামান (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) ও পাকিস্তান-প্রত্যাগত লে. কর্নেল সাখাওয়াতসহ (পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার) পাঁচজনকে একত্রে সেনাসদরে বাছাইয়ের জন্য ডাকা হয়। এঁদের মধ্যে সাখাওয়াত ছিলেন ১০ মার্চ ১৯৮১ সালে এরশাদ কর্তৃক মনোনীত একটি কোর্ট মার্শালের প্রসিকিউটর, যেখানে ষড়যন্ত্র ও অভ্যুত্থান পরিকল্পনার দায়ে মুক্তিযোদ্ধা অফিসার লে. ক. নুরুন্নবী বীরবিক্রম, কর্নেল দিদার ও একজন বেসামরিক ব্যাংকার মনির হোসেনের বিচার হয়েছিল। কোর্ট মার্শালে লে. ক. নুরুন্নবীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং এক বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়। দিদারকে ১০ বছরের জেল এবং মনির হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেনাপ্রধান ইমামুজ্জামান ও মতিকে বাদ দিয়ে সাখাওয়াতকে আমেরিকায় প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করেন, যদিও যোগ্যতাবলে বাকি এক অফিসার সাখাওয়াতের চেয়ে ভালো ছিল বলে অনেকের ধারণা। মনোনয়ন না পেয়ে মতিউর রহমান অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হন এবং ওইদিনই বঙ্গভবনে গিয়ে জিয়ার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সাদেকের সঙ্গে দেখা করেন। মনোনয়নে অনিয়মের কথা তিনি সরাসরি জেনারেল সাদেককে বলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা আর্মিতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানানোর জন্য জেনারেল সাদেককে অনুরোধ করেন। জিয়া হত্যার পরদিন সকালেই কথা প্রসঙ্গে জেনারেল সাদেক আমাকে মতিউর রহমানের ক্ষোভের বিষয়টি অবহিত করেন। জেনারেল সাদেক আরও বলেন, মতিই সম্ভবত জেনারেল জিয়াকে হত্যা করেছে।

মঞ্জুর জিয়া হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন না
আমি ভালোভাবেই জানতাম, রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা কোনো পরিকল্পিত সামরিক অভ্যুত্থান বা বিদ্রোহ ছিল না। এটা ছিল কিছু তরুণ সেনা-অফিসারের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং তা ক্ষমতা দখলের জন্য ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যার পর জেনারেল মঞ্জুরের অধীন অফিসাররা যখন তাঁর কাছে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানান, তখন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একজন ডিভিশন কমান্ডার হিসেবে তিনি ওই ঘটনার দায়দায়িত্ব নিতে বাধ্য হন। তাঁর অধীনের অফিসাররা যদিও তাঁর অজান্তে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তবুও একজন সামরিক অধিনায়ক হিসেবে তাঁকেই ওই ঘটনার জন্য দায়ী করা হতো। তা ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে তিনি যে জড়িত নন, সহজভাবে তা বিশ্বাসযোগ্য হতো না। অথচ জেনারেল মঞ্জুরকে পলাতক অবস্থা থেকে ধরে এনে কোনো তদন্ত ছাড়াই সুপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রপূর্বক ঠান্ডা মাথায় অন্তরীণ অবস্থাতেই হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিয়া হত্যার জন্য দায়ী করা হয়। জেনারেল মঞ্জুরকে অন্তরীণ অবস্থায় হত্যার কারণ হলো, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হলে জিয়া হত্যার ষড়যন্ত্রের আদ্যোপান্ত প্রকাশ পেয়ে যেত। আর তাঁকে হত্যা করা না হলে ভবিষ্যতে অনেকের স্বার্থসিদ্ধির পথ হতো কণ্টকময়। ৩০ মে জিয়া হত্যার পর সেনাসদরে আমার সঙ্গে মঞ্জুরের ফোনে কথোপকথন থেকে আমি বুঝতে পারি তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছিল। আমার এই ধারণা আমি আর্মি হেডকোয়ার্টারে সেনাপ্রধান এরশাদসহ আমার অন্য সহকর্মী, পিএসওদের সামনে ব্যক্ত করি। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ ছাড়া বেশ তড়িঘড়ি করেই ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মঞ্জুরকে জড়িত করে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়ে যায়। যদিও আমি মতপ্রকাশ করি যে, কোনো প্রকার খোঁজখবর না করেই রেডিও-টিভিতে এ রকম প্রচারণা ঠিক নয়। মঞ্জুর যে জিয়া হত্যায় জড়িত ছিলেন না তা আরও দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়। ৩০ মে ভোরে যখন মঞ্জুরকে জিয়া হত্যার খবর দেওয়া হয় তখন তিনি বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী যখন শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন তখন তারা স্লিপিং ড্রেস পরা ছিলেন। আরেকটি ঘটনা হলো, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় দুজন অফিসার, একজন পুলিশ ও চারজন গার্ড রেজিমেন্টের সদস্য মারা যান। ঢাকা থেকে যাওয়া প্রেসিডেন্টের গার্ড রেজিমেন্টের আহত ও নিহত সৈন্যদের পেনশনাদির জন্য পরে তাদের ইউনিটে একটি লোকাল কোর্ট অব ইনকোয়ারি করা হয়। অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে সেই কোর্ট অব ইনকোয়ারির রিপোর্ট আমার গোচরে আসে। ওই রিপোর্টে গার্ড রেজিমেন্টের দুজন সদস্যের বক্তব্য বেশ প্রণিধানযোগ্য। তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, জিয়া হত্যার পর বিদ্রোহীরা গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যদের সার্কিট হাউস থেকে একটি গাড়িতে করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে যান। বিদ্রোহে জড়িত অফিসাররা তাদের গাড়িতে তোলার আগে এই বলে হুঁশিয়ার করে দেন যে, সেনানিবাসে যাওয়ার পর তারা যেন কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলেন। তবে যদি জিওসি জেনারেল মঞ্জুর এসে তাদের কাছে সার্কিট হাউসের ওই রাতের ঘটনা জানতে চান তাহলে তারা যেন বলেন, ‘ঝড়বৃষ্টি এবং অন্ধকারের কারণে কারা গোলাগুলি করেছে আমরা দেখিনি।’

আরও পড়ুন

×