চারদিক
পাবিপ্রবির ১৮ বছরের পথচলা
মো. বাবুল হোসেন
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ সাধন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৮ সালের ৫ জুন ৩০ একর জায়গার ওপর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) যাত্রা শুরু করে। উচ্চশিক্ষায় এ দেশের মানুষকে সমৃদ্ধ করার জন্য ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ব্রিটিশ, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছরে বর্তমানে দেশে ৬১টি পাবলিক ও ১১৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একসময়ের অপেক্ষাকৃত অনুন্নত উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।
পাবনা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে রাজাপুর নামক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫ জুন ১৮তম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন করতে যাচ্ছে। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), গণিত, ব্যবসায় প্রশাসন– এই চারটি বিভাগ ১৮০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক এবং পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বর্তমানে ২১৩ জন শিক্ষক, ১৭৩ জন কর্মকর্তা এবং ১৫৮ জন কর্মচারী এখানে কর্মরত। শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন প্রায় ছয় হাজার। প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলক নবীন হলেও শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে আগাচ্ছে।
বর্তমানে পাঁচটি অনুষদের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১টি বিভাগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৫ সালে ইনস্টিটিউট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট নামে একটি ইনস্টিটিউট, রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার সেল ও সেল ফর ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন নামে দুটি সেল গঠন করা হয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে পুরোনো একাডেমিক ভবনসহ ১২ তলা দুটি একাডেমিক ভবন, ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন, চারটি হল, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, আনন্দ সরোবর নামে দৃষ্টিনন্দন একটি লেক, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, কনভেনশন হল, শিক্ষক-কর্মকর্তা ক্লাব, টিএসসি ভবন, ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, মন্দির, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন, আধুনিক কনফারেন্স ভবন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যানবাহন ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক একটি ভিডিও কনফারেন্স রুম, স্বাধীনতা চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ নানা স্থাপনা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দ্বারা বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক সংগঠন ও ক্লাব গড়ে উঠেছে। পাবিপ্রবিতে আছে ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পাবনার অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এর আশপাশে দৃষ্টান্তমূলক অগ্রগতি ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এই এলাকায় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, আবাসন, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, যোগাযোগসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব এগ্রিকালচাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের (এসএআরডি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও কোষাধ্যক্ষ ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। সেখানে শিক্ষকস্বল্পতা আছে, শুধু একটি খেলার মাঠ বাদে উন্মুক্ত জায়গা নেই, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল, আইটি সুযোগ কম। এ ছাড়া অন্য ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করার বিষয়ে উপাচার্য সচেষ্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও সমাবর্তন করা যায়নি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ধাপে ধাপে কাজ করছে এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সমাবর্তন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে।
এক দল তরুণ মেধাবী জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থান করে নিচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তরিকতা এবং শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের উজ্জ্বল এক মানদণ্ডে পৌঁছাবে– এটাই প্রত্যাশা।
মো. বাবুল হোসেন: উপপরিচালক (জনসংযোগ), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- বিষয় :
- চারদিক
