আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে আমেরিকার পরীক্ষা
অ্যান্ড্রু রথ
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১০:১৯
ভেনেজুয়েলার যুগল ভূমিকম্প পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এমন একটি দেশের জন্য কার্যকর দুর্যোগ-সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে, যাকে তারা লাতিন আমেরিকায় নিজেদের নতুন মিত্র বলে অভিহিত করছে।
জানুয়ারিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শক্তিশালী শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এই পরিবর্তনের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভূমিকম্পের পর ত্রাণ কার্যক্রমকে ‘বৃহৎ, দ্রুত ও কার্যকর’ এবং সরকারের সব সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে শহর এলাকায় উদ্ধারকাজে বিশেষায়িত তিনটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে এবং ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাজ করা এক সাবেক বিশেষজ্ঞের মতে, কোনো দুর্যোগের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এত বড় সহায়তা ঘোষণা তিনি আগে দেখেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় পাঠানো ডিজাস্টার অ্যাসিস্ট্যান্স রেসপন্স টিমে ২৫০ জনেরও বেশি সদস্য রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সংকুচিত করে দুর্যোগ সহায়তার দায়িত্ব পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে নিয়ে এসেছে। এর ফলে হাজার হাজার ত্রাণকর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে বিচার চলছে। তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক অনুগত।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, সেখানে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে। কারাকাসে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে এবং আমাদের অনেক মানুষ সেখানে সহায়তা করছে। তাঁর ভাষায় ‘মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। আমরা লাখ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছি এবং সেই আয় যুদ্ধের ব্যয় বহুবার পুষিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ উপার্জন করছে।’
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শনিবার জানিয়েছেন, বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় যে, তারা আবার তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যেতে পারছে।’ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থান ইতোমধ্যে কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলা প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তথ্য পেতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ দিন দেরি হয়েছিল, যা সংকট মোকাবিলায় বড় প্রভাব ফেলেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সহমর্মিতার অভাবের অভিযোগও রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হারিকেন মারিয়ায় বিধ্বস্ত পুয়ের্তো রিকো সফরের সময় তিনি পানি ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকা মানুষের দিকে কাগজের তোয়ালের রোল ছুড়ে দিয়েছিলেন। সান হুয়ানের তৎকালীন মেয়র একে ‘ভয়াবহ ও ঘৃণ্য’ আচরণ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ত্রাণ কার্যক্রম এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য সমালোচনার আগেই কার্যকর পদক্ষেপের প্রমাণ দেওয়া যায়। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ফেলো স্যাম ভিগারস্কি বলেন, ‘তারা চাপ অনুভব করছেন এবং এই জরুরি পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সম্পদ ব্যবহার করছেন। আশা করা যায়, এতে যেসব মানুষ মরিয়া হয়ে সহায়তার অপেক্ষায় আছেন, তারা উপকৃত হবেন।’
ভিগারস্কি আগে আফ্রিকায় মার্কিন দুর্যোগ-সহায়তা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ইউএসএআইডির বৈদেশিক দুর্যোগ সহায়তা দপ্তরে কাজ করেছেন। ভিগারস্কির ভাষায়, ‘ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিষয়টি স্পষ্টভাবেই দৃশ্যমান। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সেই সরকারকে সফল ও স্থিতিশীল দেখতে চাওয়াই তাদের স্বার্থ।’
অ্যান্ড্রু রথ: ওয়াশিংটনে থাকা গার্ডিয়ানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক; গার্ডিয়ান থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক
- বিষয় :
- আন্তর্জাতিক
