ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলাম ও সমাজ

ইসলামে হালাল ও হারাম

ইসলামে হালাল ও হারাম
×

মো. শাহজাহান কবীর

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

হারাম ও হালাল হলো চেতনা, মূল্যবোধ, আইন ও রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণের ভিত্তি। হালাল-হারামের সীমারেখা দ্বারাই মানুষের ধর্মীয় জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। এতে রয়েছে পার্থিব জীবনে শান্তি ও পরকালীন জীবনে মুক্তির নিশ্চয়তা। প্রতিনিয়ত হালাল-হারামের সীমার সচেতনতা মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার শ্রেষ্ঠ উপায়। ইসলামে হালাল-হারাম নির্ধারণের উৎস হলো ওহি। অর্থাৎ মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ। 

মানুষ জীবনে যা কিছু ভোগ বা উপভোগ করে, সবই তার রিজিক। রিজিক হালাল বা পবিত্র ও বৈধ হওয়ার দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, বস্তু বা বিষয়টি হালাল, পবিত্র এবং অনুমোদিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, তা প্রাপ্তি বা অর্জনের পথ ও উপায় হালাল বা বৈধ হতে হবে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১৬৮ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ 

কোনো ব্যবসায়ী যদি পণ্যে ভেজাল দেয়; ওজন বা পরিমাণে কম দেয়; নকল পণ্য বিক্রি করে বা মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তার উপার্জনও হালাল বা বৈধ হবে না। ক্রেতাও যদি কোনোভাবে বিক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে তার রিজিকও হালাল বা বৈধ হবে না।

আমরা যা খাই তা দিয়েই আমাদের রক্ত, মাংস ও শরীর গঠন হয়। হারাম খেলে দোয়া ও ইবাদত কবুল হয় না। এক সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি চাই আমার দোয়া কবুল হোক।’ নবীজি (সা.) বললেন: ‘তোমার খাদ্য হালাল করো’ (তাবরানি)। 
হারাম উপার্জন দিয়ে দান-সদকা করলেও তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। হালাল ব্যবসায় বরকত থাকে। সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, ওজনে কম দেওয়া হারাম হওয়ার কারণ হলো এগুলো সমাজে জুলুম ও অশান্তি সৃষ্টি করে। 

আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-মুতাফ্ফিফিন-এর ১-২ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘ওই সব লোকের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ, যারা মানুষ থেকে গ্রহণ করার সময় ঠিকমতো নেয় এবং মানুষকে দেওয়ার সময় কম দেয়।’ 
ইবাদত কবুলের পূর্বশর্তই হলো হালাল বা বৈধ উপার্জন। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, দান-সদকাহ কোনো ইবাদতই কবুল হবে না যখন শরীর ও পোশাক হারাম উপার্জনে কেনা হয়। আল্লাহ অকারণে কিছু হারাম করেননি। মদ, শূকর, মৃত প্রাণী হারাম। কারণ এগুলোতে রয়েছে রোগ-জীবাণু ও মস্তিষ্কের ক্ষতি। মদ মানুষের বিবেক নষ্ট করে দেয়। জেনা-ব্যভিচার, সমকামিতা, পর্নোগ্রাফি হারাম বা নিষিদ্ধ। কারণ এগুলো ব্যক্তি ও পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং মানুষের লজ্জা নষ্ট করে দেয়। 

সুদ, ঘুষ, জুয়া, দুর্নীতি হারাম। কারণ এগুলো ধনীকে আরও ধনী ও গরিবকে আরও গরিব করে।
ইসলাম চায় সম্পদের সুষম বণ্টন। কিয়ামতের দিন প্রতিটি উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে: ‘কোথা থেকে উপার্জন করেছ এবং কোথায় ব্যয় করেছ’ (তিরমিজি)। হারামের টাকায় কেনা গাড়ি-বাড়িতেও শান্তি নেই। হালাল রুজিতে অল্পতেও বরকত ও শান্তি। সবাই হালাল-হারাম মানলে সমাজে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, হত্যা, প্রতারণা, জুলুম কমে যাবে।
মহান আল্লাহ সবসময় সবকিছু দেখছেন ও শুনছেন– এই বিশ্বাস সবসময় থাকা। সন্দেহজনক বিষয়, বস্তু বা কাজ এড়িয়ে চলা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন সন্দেহজনক বিষয় ছেড়ে দিতে। মহান আল্লাহ আমাদের হালাল ও হারামের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের সবাইকে হালাল পন্থায় উপার্জন করা ও যাবতীয় হারাম থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। 

ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
 

আরও পড়ুন

×