ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

ইসরায়েলি নির্বাচনের ‘আরব শরিক’

ইসরায়েলি নির্বাচনের ‘আরব শরিক’
×
×

হারেৎজ সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বেশির ভাগ ব্যালট গণনার পর অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট বাদ দিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিরোধী দলের পক্ষে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৬৭, যার মধ্যে প্রায় ১৯টি আসন আরব দলগুলোর এবং প্রায় ৪৮টি আসন আইসেনকোট ব্লকের। অন্যদিকে, বর্তমান জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৫৩টি আসন। ফলে লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন নিয়ে এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হলেও ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। গত নির্বাচনের পর থেকে এই সরকার তাদের উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন হারিয়েছে।

এই হিসাবটি আরব সম্প্রদায়ের অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সাফল্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তারা ইহুদিদের সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের পক্ষে গণহারে ভোট দিয়েছেন। ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ ও সংশয় থাকা এবং বিশেষ করে বর্ণবাদী উস্কানিমূলক প্রচারণার মধ্যেও রেকর্ড ১৯টি আসন থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে– আমরা এই দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শুধু আরব ভোটাররাই যে অভূতপূর্ব প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; তা নয়। তাদের রাজনৈতিক নেতারাও একটি সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা এই লড়াইয়ে নিজেদের অংশীদার হিসেবে প্রকাশ করতে কোনো ভয় পাননি; তা সরকারে যোগ দিয়েই হোক কিংবা বাধাদানকারী ভোটিং ব্লক বা নিরাপত্তা নেটের মাধ্যমে সমর্থন জুগিয়ে হোক।

আরবদের এই রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নির্বাচনের দিনে লিকুদের আচরণে। তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছিল– ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের নির্বাচন আরব দলগুলো চুরি করেছে।’ এমনকি লিকুদ এ বিষয়ে পুলিশ ও শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্ত করার দাবিও জানায়।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৬৭ বনাম ৫৩-এর হিসাবটি অত্যন্ত সহজ হওয়া উচিত। একটি গণতান্ত্রিক-উদারপন্থি ব্লকের এই সংখ্যা দেখে উল্লাস করার কথা। এর পেছনে রয়েছে ব্যবহারিক কারণ। সেটি হলো এটি নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনাকে প্রশস্ত করে এবং মৌলিক কারণ হলো একটি টেকসই গণতান্ত্রিক শিবিরের উচিত আরব সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব চাওয়া, যারা আজ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু এমন এক দেশে, যেখানে নেতানিয়াহু বিরোধীদের জন্যও বর্ণবাদী নিয়ম তৈরি করে দেন; সেখানে আশঙ্কা থেকেই যায়– এই ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা কেবল আরব ভোটারদের সমর্থিত হওয়ার কারণে ১৯টি আসনকে ছুড়ে ফেলে দেবেন। যেসব নাগরিক একীভূত হওয়ার আশায় দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন; এটি হবে তাদের মুখের ওপর এক চপেটাঘাত। ব্লকের নেতাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব হলো অবিলম্বে আরব দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা, ঠিক যেমনটি নেতানিয়াহু নিজের স্বার্থে করে থাকেন। কাপুরুষতা ও বর্ণবাদকে যেন এই নির্বাচনে জয়ী হতে না দেওয়া হয়।
এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে– যখন আরব সম্প্রদায়ের বৈধতা কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা তাদের এই মহান অর্জনকে নস্যাৎ করে দিতে চাইছে–ঘোষণাপত্রের সেই উদ্ধৃতিটি স্মরণ করা উচিত। ‘পরিবর্তনকামী ব্লক সেই উদ্ধৃতি তাদের স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এতে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের আরব বাসিন্দাদের প্রতি আমাদের আহ্বান– যাতে তারা শান্তিরক্ষা করেন এবং পূর্ণ ও সমান নাগরিকত্ব এবং রাষ্ট্রের সমস্ত অন্তর্বর্তী ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনে অংশগ্রহণ করেন; যদিও গত কয়েক মাস ধরে আমাদের ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ চলছে।’

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজের সম্পাদকীয়; ভাষান্তর 
ইফতেখারুল ইসলাম 

আরও পড়ুন

×