ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সেন্টমার্টিনের হোটেল-রেস্তোরাঁ

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছাড় নহে

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছাড় নহে
×
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

যথেষ্ট সংখ্যক পর্যটক থাকিলেও দেশে পর্যটন ব্যবস্থাপনা যে অত্যন্ত নাজুক– তাহা বারংবার প্রমাণিত। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বৃহৎ ঘাটতির খবর উদ্বেগ বৃদ্ধি করিয়াছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সমকালের শীর্ষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথায় আড়াই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ থাকিলেও কোনোটির ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নাই। এমনকি সেইগুলির অধিকাংশেরই নাই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন। অনেক স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পয়োশোধনাগার ও জরুরি নির্গমন পথের ন্যায় মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় পর্যটনের নূতন মৌসুম ঘিরিয়া দ্বীপের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিলেও পর্যটকের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার উদ্বেগ সংগত।

সেন্টমার্টিনের এহেন পরিস্থিতিতে অধিক শঙ্কার কারণ, সম্প্রতি কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১১ পর্যটক প্রাণ হারাইয়াছেন। উক্ত রিসোর্টে অগ্নি নিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না, যথায় কাষ্ঠ নির্মিত অবকাঠামো ও দাহ্য উপকরণ থাকিবার কারণে আগুন অধিক বিধ্বংসী হইয়া উঠে। সেন্টমার্টিনের রিসোর্টসমূহও অনুরূপ; কাষ্ঠ, বাঁশ ও দাহ্য উপকরণ দিয়া নির্মিত এই সকল রিসোর্টে সমুদ্রের বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়াইবার আশঙ্কা রহিয়াছে।

গত বৎসরই সেন্টমার্টিনের তিনটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে। তথায় ফায়ার সার্ভিসের অনুপস্থিতি হেতু অগ্নিনির্বাপণের জন্য মূল ভূখণ্ডের সহায়তা লইতে হয়। তৎকারণেও সেন্টমার্টিনের হোটেল ও রিসোর্টসমূহে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা থাকা অত্যাবশ্যক।

বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার হইবার কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকগণ তথায় অবকাশ যাপনে গিয়া থাকেন। পূর্বে বৎসরব্যাপী সেইখানে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ থাকিলেও সেন্টমার্টিনের নাজুকতা বিবেচনায় অধিকাংশ সময় উহা বন্ধ রাখা হয়। পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১ নভেম্বর হইতে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকগণ যাতায়াত করিতে পারিলেও উহার পরিবেশ সংরক্ষণে পর্যটকদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হইয়াছে। সেন্টমার্টিনের জন্য এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই স্বাগত। তবে এই সময়ে পর্যটকদের জন্য তথায় গমনের সুযোগ দেওয়া হইলেও তাহারা যাহাতে নিরাপদে অবস্থান করিতে পারেন সেই ব্যবস্থাও লইতে হইবে। সংগত কারণেই সেন্টমার্টিনের হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। 

অভিযোগ রহিয়াছে, সেন্টমার্টিনে এখনও নূতন করিয়া হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ গড়িয়া উঠিতেছে। যেথায় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানেরই অনুমোদন সমস্যা এবং এই সকল অবকাঠামোর ভারে ন্যুব্জ সেন্টমার্টিন, সেথায় কীভাবে নূতন স্থাপনা গড়িয়া উঠিতেছে? তথাকার স্থানীয় প্রশাসন তাহা হইলে কী করিতেছে? গত এক বৎসরে পরিবেশ অধিদপ্তর ৩১টি হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করিয়াই ক্ষান্ত হইয়াছে। আমরা মনে করি, এই ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অধিক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করিতে হইবে। 
সেন্টমার্টিনের স্থাপনা ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় তথায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা প্রয়োজন। অন্তত বৎসরের যেই সময়টি পর্যটকদের জন্য খুলিয়া দেওয়া হয়, সেই সময়ে ফায়ার সার্ভিসের সেবা ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয় হইতে হইবে। যেহেতু কিছু সময়ের জন্য তথায় রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হইয়াছে, সেই কারণেও ইহা জরুরি।
হোটেল, রিসোর্ট ইত্যাদির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উহার মালিকদেরও সচেতন ও উদ্যোগী হইতে হইবে। পর্যটকদের জীবন হুমকিতে রাখিয়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা প্রত্যাশিত নহে। টেকসই বাণিজ্যের পূর্বশর্ত হিসাবেই তাহাদের বিষয়টি উপলব্ধি করিতে হইবে। যাহারা অনুমোদন না লইয়া বাণিজ্য চালাইতেছেন, তাহাদের উচিত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। 
 

আরও পড়ুন

×