ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া জুলাই আন্দোলন সম্পূর্ণ হবে না: আলোচনা সভায় বাম নেতারা

গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া জুলাই আন্দোলন সম্পূর্ণ হবে না: আলোচনা সভায় বাম নেতারা
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০১:০৫ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০১:২৬

জনআকাঙ্ক্ষা অনুসারে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া জুলাই আন্দোলন অসমাপ্ত। হাজারও শহীদের আত্মত্যাগ ও কোটি জনতার লড়াইকে সার্থক করতে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র থাবা, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত করতে হবে। দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, ডা. মনোজ দাশ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন।

সভায় মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ চেয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদা ও অধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। যার বাস্তবায়ন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে জনগণের সেই প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে।

কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ। সেই গণআন্দোলনে প্রকাশিত মানুষের আকাঙ্ক্ষা ধামাচাপা দিয়ে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী দেশকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি সমগ্র জনগণের সংগ্রামের ইতিহাস। এই ইতিহাসকে যারা দলীয় সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক বিভাজন বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়- তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

নেতারা বলেন, শাসকগোষ্ঠী চায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা স্মরণসভার বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান হবে এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে জনগণ হবে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। যার ধারাবাহিকতায় একদিন বৈষম্য ও শোষণের অবসান হবে।

সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আরও পড়ুন

×