ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

ছয় মাসে বিএনপি সরকার অদক্ষতা, অসততার দৃষ্টান্ত

ছয় মাসে বিএনপি সরকার অদক্ষতা, অসততার দৃষ্টান্ত
×

নাহিদ ইসলাম

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিয়েছে এনসিপি। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত বলে অভিযোগ করে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে প্রমাণিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনার।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ-বিষয়ক উপকমিটি।

‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’র ফিরিস্তি পড়ে শোনান নাহিদ ইসলাম। যা বই আকারে প্রকাশ করেছে এনসিপি।
এতে বলা হয়েছে, সরকার প্রথম ছয় মাসেই তেল-বিদ্যুতের রেকর্ড বৃদ্ধি করেছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এতে শিল্প উৎপাদন ২৪ শতাংশ কমেছে। গার্মেন্টে ২৫-৩০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরও গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কৃষক সার পাচ্ছে না। বস্তাতে ৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি।

সরকারের ব্যর্থতার ফিরিস্তি দিয়ে বলা হয়, ব্যাংক লুটেরাদের আবার সুযোগ দিতে এস আলমকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ দেওয়া হয়েছে এলসি খুলতে। সরকার মেগা প্রকল্প না করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দুটি মেট্রোরেলের ব্যয় ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে যে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে, তা পারমাণবিক বিদ্যুতের চেয়েও ব্যয়বহুল হবে। 
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কোম্পানির চাপে বাতিল এবং হামে শিশুমৃত্যু গোপনের অভিযোগ করেছে এনসিপি। বিরোধী দলের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ করে বলেছে, এনসিপির এমপিসহ নেতাকর্মীর ওপর হামলা হচ্ছে। মতপ্রকাশে বাধা, সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিএনপির ছয় মাসে গণপিটুনিতে ১৩৩ জন নিহত হয়েছে।

গণভোটে ফল এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করাকে বিএনপির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ছয় মাসে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় মতাদর্শের ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগ, স্থানীয় সরকার এবং সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিতে বিএনপি নেতাদের নিয়োগকে দলীয়করণ বলছে এনসিপি।
আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে দায়ী করেছে এনসিপি। এতে বলা হয়েছে, ছয় মাসে ৮৩০ রাজনৈতিক সংঘাতের ৭৭০টিতে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে। দলীয় কোন্দলে বিএনপির ৩১ জন নিহত হয়েছে।

ছয় মাসে সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলেও বিরোধী দল হিসেবে ১১-দলীয় ঐক্য, বিশেষ করে এনসিপি গত ছয় মাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন বিরোধী দল এনেছে। সরকার এর জবাব দিয়েছে আমাদের এক ভাইয়ের চোখ কেড়ে নিয়ে। 
‘বিরোধী দল আসলে ব্যর্থ দুর্বল’– এসব প্রচারকে ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার প্রোপাগান্ডা’ বলে আখ্যা দেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেছেন, বিরোধী দল দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত দেখিয়ে যাচ্ছে, সরকার কোথায় কোথায় ভুল করছে, প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে। রাজনৈতিকভাবেও এর প্রতিরোধ করা হবে। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ হবে পাঁচ বিভাগে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। বড় বার্তা সরকারকে দেওয়া হবে। এরপরও যদি সরকার সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তাহলে আন্দোলনের পথ বেছে দিতে হবে বিরোধী জোটকে। এনসিপি সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলা-জেলা পর্যায়ে ও মহানগরগুলোয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১৮০ দিনের তিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল– দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ছয় মাসের তথ্য-উপাত্ত ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, এতে সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলকে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা বলে আখ্যা দেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। বিএনপি তার ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহার ছুড়ে ফেলে নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বিস্তৃত করেছে। জুলাই গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। শহীদ পরিবার-আহতদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দিল্লিতে ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনি এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত, গঙ্গাচুক্তি করে নবায়ন করে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, সীমান্তে পুশইন ও হত্যা বন্ধ হলে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব। তা না করে তারেক রহমান দিল্লি গেলে সেটি বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর ঘটনা হবে। 
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

আরও পড়ুন

×