ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘সবখানে মাটি কাটা হচ্ছে আমি কাটলে সমস্যা কী?’

‘সবখানে মাটি কাটা হচ্ছে  আমি কাটলে সমস্যা কী?’
×

নির্দয়ভাবে কাটা হয়েছে টিলা। ফলে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে একটি বসতবাড়ি। রাউজান পৌরসভার ওয়াহেদেরখিল এলাকা থেকে তোলা সমকাল

 প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম) 

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাউজান উপজেলায় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে পাহাড়-টিলা ও কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে  পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, ধ্বংস হচ্ছে উর্বর ফসলি জমি। মাটি কাটায় জড়িতরা স্থানীয় এমপি গিয়ান উদ্দিন কাদের চৌধুরীর লোক হিসাবে পরিচিত। এমপি অবশ্য বলছেন, মাটি কাটা সহ্য করা হবে না। যার ট্রাকই হোক তিনি জব্দ করবেন।  
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একাধিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে পাহাড়-টিলা ও কৃষিজমি কেটে মাটি বিক্রি করছে। এসব মাটি ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন পুকুর-জলাশয় ভরাট কাজে ও ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়া, ইউনিয়ন পরিষদের ও উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন চারটি স্থানে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইলীখীল, হলদিয়া বিল, রাউজান বাগান, কাজীপাড়া ও বাগানমুখী এলাকায়ও টিলা কাটা হচ্ছে।
রাউজান ইউনিয়নের রশিদাপাড়া ও মঙ্গলখালী, ডাবুয়া ইউনিয়নের কলমপতি ও উত্তর হিংগুলাবাড়ি, হলদিয়া ইউনিয়নের ইছানগর, বিনাজুড়ি ইউনিয়নের কাঙ্গিয়া, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আধারমানিক, বাগোয়ান ইউনিয়নের দেওয়ানপুর, নোয়াপাড়া, পাহাড়তলী, উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট ও বাড়িঘোনা এবং গহিরা ইউনিয়নের দলইনগর এলাকাতেও কৃষিজমি কাটা হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে রাতেই মাটি কাটা হয়। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজম খান বলেন, ‘আমাদের গ্রামসহ আশপাশের অন্তত পাঁচটি স্থানে কৃষিজমি কাটা হচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও জড়িত। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০ জনের একটি চক্র এ কাজে জড়িত বলে তারা দাবি করেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা সুজন দত্ত বলেন, ‘আমি মাটি কাটছি না। আমি চট্টগ্রাম শহরে থাকি। সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রেজাউল আলী ও সোহাইব খান মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত।’ অভিযোগের বিষয়ে সোহাইব খান বলেন, ‘রাউজানের সব জায়গায় মাটি কাটা হচ্ছে, আমি কাটলে সমস্যা কী?’

অব্যাহত মাটি কাটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘একটি মাটির ট্রাক আটক করার পর জানতে পারলাম, এসবের সঙ্গে জড়িত সবাই আমার লোক। সবাই যদি মাটি কাটে, তাহলে আমি কোথায় যাব?’ তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, চারদিকে মাটি পড়ে বেহাল অবস্থা। আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাকে সহযোগিতা করেন, মাটি কাটা বন্ধ করেন। কেউ যদি মাটি কাটে, তাহলে আমাকে বাধ্য হয়ে ট্রাক জব্দ করতে হবে।’ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি বলেন, ‘শুধু পুলিশ দিয়ে কাজ হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, প্রশাসনের কিছু লোক টাকা নিয়ে নীরব থাকে।’
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংচিং মারমা বলেন, ‘অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন

×