বালু-কাদায় দুর্ভোগ ফেরিঘাটে
বৃষ্টিতে পিচ্ছিল মজুচৌধুরীর হাট ফেরিতে ওঠানামার পথ সমকাল
আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৃষ্টি হলেই লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বালুমহল থেকে ছড়িয়ে পড়া বালু-বৃষ্টির পানিতে মিশে সড়ককে কর্দমাক্ত করছে। আবার রহমতখালী নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ায় ফেরি ঘোরানো, নোঙর ও চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট হয়। এতে মাঝেমধ্যে যানবাহনগুলো এক থেকে দুদিন পর্যন্ত আটকা পড়ে।
সরেজমিন দেখা যায়, ফেরিঘাটের প্রবেশমুখে কাদা জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ভোলা যাওয়ার জন্য বেগম সুফিয়া কামাল ফেরিটি অপেক্ষায় থাকলেও ঘাট এলাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে আসা অর্ধশতাধিক মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। ঢাকা থেকে আসা ট্রাকচালক মো. তাফাজ্জাল মাতাব্বর বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় এখানে এসেছি। এখনও ফেরি পাইনি। আজ যেতে পারব কিনা তাও নিশ্চিত না। এখানে থাকা-খাওয়া এমনকি ওয়াশরুমেরও তীব্র সমস্যা।’
দূরপাল্লার যাত্রী মো. কামরুল হাসান, সাখাওয়াত হোসেন ও আরিফুর রহমান বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই এ অবস্থা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি না। কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’
ট্রাকচালক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে।’
টিকিট বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া জানান, মজুচৌধুরীর হাট থেকে মেঘনা নদী পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রহমতখালী নদীতে পলি জমে নাব্য কমে গেছে। ফলে ফেরি ঘোরানো, নোঙর করা ও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে বেগম রোকেয়া, বেগম সুফিয়া কামাল, কাবেরী ও কুসুমকলি নামে চারটি ফেরি চলাচল করছে। এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার যানবাহন চলাচল করে। শতাব্দী, স্টার, যমুনা, শ্যামলী ও সোহাগ পরিবহনের বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ ঘাট ব্যবহার করে থাকে।
ঈদসহ ছুটির মৌসুমে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন টানা যানজট লেগে থাকে। এ ঘাট দিয়ে মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার হয়। তবে জোয়ার-ভাটার ওপর ফেরি চলাচল নির্ভর করায় প্রায়ই দুর্ভোগে পড়তে হয় চালক ও যাত্রীদের।
একাধিক চালক অভিযোগ করেন, ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াশরুম ও বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা নেই। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরিঘাটের আশপাশে প্রতিদিন শতাধিক বালুবাহী ডাম্পার চলাচল করে। এসব গাড়ি থেকে সড়কে বালু পড়ে গিয়ে রাস্তা পিচ্ছিল ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা কাদায় পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন ও স্বপন মিয়া বলেন, ‘রোদে বালুর ধুলা আর বৃষ্টিতে কাদা– দুই সময়েই মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামান বলেন, ‘২০১৪ সালের ১৭ মার্চ লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথকে নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে নদীর নাব্য কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে ফেরি চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।’ বেগম রোকেয়া ফেরির মাস্টার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘জোয়ার থাকলে দুই ঘণ্টা, না থাকলে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। নদীর নাব্য কমে যাওয়াই মূল সমস্যা।’
তবে বালু ব্যবসায়ী মো. সেলিম মিয়া দাবি করেন, তারা বৈধ অনুমতি নিয়েই বালু ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি বলেন, ‘মজুচৌধুরীর হাট একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ফেরিঘাট
