ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টেকনাফে ভুয়া এনআইডি বাণিজ্য

টেকনাফে ভুয়া এনআইডি বাণিজ্য
×

কৃষক ফরিদ আলমকে বাবা বানিয়ে ভুয়া এনআইডি তৈরি করেছেন রোহিঙ্গা রহিম উল্লাহ। সরকারি চাল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ফরিদের এনআইডি হাতিয়ে এ জালিয়াতি করেন রহিম - সমকাল

 আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার)

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গরপাড়ার বাসিন্দা আবদুল জলিল ও মোস্তফা খাতুনের মেয়ে জমিরা বেগমকে বিয়ে করেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আবুল কালাম। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আবুল কালাম তার শ্বশুরকে বাবা ও শাশুড়িকে মা সাজিয়ে ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। যেটির নম্বর ৭৩৭৫৯৬৬১০৪। কালাম ও জমিরা স্বামী-স্ত্রী হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যমতে তারা আপন ভাইবোন। জালিয়াতি এতেই শেষ হয়নি। বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই দম্পতির ছেলে মোহাম্মদ ফারুকের নামেও এনআইডি সংগ্রহ করা হয়েছে, (নম্বর ১৫২৫৯১০৭১৫)। এনআইডিতে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গরপাড়া। পরে ওই এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে ফারুক মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। ক্যাম্পে বাস করা রোহিঙ্গা কাউছার (এনআইডি নম্বর-৫৯৯৮৩৮৭৫৯০) উত্তরপাড়ার ঠিকানা ব্যবহার করে সাইফুল্লাহ ও রহিমা খাতুন নামে দুজনকে মা-বাবা সাজিয়ে এনআইডি তৈরি করেছেন। পরে জাল পাসপোর্ট নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন।

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ২০২৩-২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু সারবাং ইউনিয়নেই এই সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। আর গোটা জেলায় ৪-৫ লাখ রোহিঙ্গা এনআইডি সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা ও দালালচক্রের যোগসাজশে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুয়া এনআইডি তৈরি চলছে। এসব এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তির সংকটে পড়ছে বাংলাদেশ।

বিশেষ অঞ্চলে কীভাবে এই জালিয়াতি
রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার হওয়া ঠেকাতে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৩১ উপজেলাকে বিশেষ অঞ্চল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব এলাকায় নতুন ভোটার হতে হলে আবেদনকারীকে বিশেষ একটি ফরম পূরণ করতে হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে। ওই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কাউকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে এত কড়াকড়ির পরও কীভাবে রোহিঙ্গারা এনআইডি ও পাসপোর্ট পাচ্ছে সেটা বিস্ময়কর।

কক্সবাজার জেলা রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি, অসাধু কর্মকর্তা ও দালালচক্রের যোগসাজশে জেলায় অন্তত ৪ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি এনআইডি সংগ্রহ করেছেন। টেকনাফে ভুয়া এনআইডি তৈরির হার সবচেয়ে বেশি রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাওয়ার বিষয়ে সুষ্ঠু ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে এনআইডি সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি সংগ্রহ করা রোহিঙ্গারা একসময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায়ও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ বাংলাদেশি পরিচয় পাওয়ার পর তাদের শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।’

যেভাবে তৈরি হয় ভুয়া এনআইডি
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রথমে পুরোনো রোহিঙ্গাদের সহায়তায় নতুনরা ক্যাম্প ছেড়ে সীমান্ত গ্রামে আশ্রয় নেয়। পরে দালালচক্র ভুয়া ‘মা-বাবা’ তৈরি করে জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করে এবং জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের যোগসাজশে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কারসাজি করা হয়।
জানা যায়, একজন রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরি বাবদ ২-৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়; যা দালাল, জনপ্রতিনিধি, চৌকিদার, ইউনিয়ন পরিষদ ও নির্বাচন অফিসের অসাধু কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ হয়। পরে সেই এনআইডি ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরিতে খরচ ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা। 
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার আশ্রয় শিবিরে।

এনআইডি পেয়েছে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারাও
রোহিঙ্গা রহিম উল্লাহও শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গরপাড়া বাসিন্দা ফরিদ আলমকে বাবা ও মমতাজ বেগমকে মা বানিয়ে রোহিঙ্গা ভুয়া এনআইডি (নম্বর ৬০২৮৮১০৭৩৪) হাতিয়ে নেন। ফরিদ-মমতাজ দম্পতি স্বীকার করেছেন, রহিম উল্লাহ নামে তাদের কোনো সন্তান নেই।
টেকনাফে জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র দিচ্ছে সংঘবদ্ধ দালালচক্র। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে শুধু সাবরাং ইউনিয়নে ৫ হাজার এবং গোটা উপজেলায় ১৫-২০ হাজার রোহিঙ্গা ভুয়া এনআইডি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে। এনআইডি বাণিজ্যে জনপ্রতিনিধিদেরও ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 
অনুসন্ধানে দেখা যায়, শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গরপাড়া এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে দালালচক্র সালমা আকতার নামে আরেক রোহিঙ্গা নারীকেও একটি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (নম্বর ৩৭৮০৭৮২৪১৭) তৈরি করে দেয়। এনআইডিতে বাবার নাম বশির আহমেদ ও মায়ের নাম ধলা বানু উল্লেখ করা হয়। একইভাবে রোহিঙ্গা শাহেদুল ইসলামও ভুয়া এনআইডি (নম্বর ৭৩৫৮৭৬০৯৯৪), তৈরি করেন, সেখানে বাবার নাম তাজ উদ্দিন ও মায়ের নাম আমেনা খাতুন লেখা হয়েছে। আজম উল্লাহ নামের আরেক রোহিঙ্গাও  এনআইডি (নম্বর ১০৪৭১৪৭৪১৬) পেয়েছেন, যেখানে বাবার নাম মো. রফিক ও মায়ের নাম মনোয়ারা শামসুন নাহার দেখানো হয়েছে। ঠিকানা দেখানো হয়েছে শাহপরীর দ্বীপের মাঝার পাড়া। 

ক্যাম্পে থেকেও অনেক রোহিঙ্গা টাকার 

বিনিময়ে এআইডি কার্ড নিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন, মো. উসমান (এনআইডি নম্বর-৬৯৩২২৭৪৩৪০) বাবা মো. নুর, মায়ের নাম খালেদা বেগম। ঠিকানা শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়া। জোবাইর (এনআইডি নম্বর-৯১৭৭৭৫১৭৮২) বাবা আবদু শুক্কুর, মায়ের নাম গোলজার বেগম। ঠিকানা শাহপরীর দ্বীপ ডেইল পাড়া। আসাদ উল্লাহর এনআইডি নম্বর (এনআইডি নম্বর-৪৬৫৩৬০৫৭০১), বাবার নাম বশির আহমদ, মা আয়েশা খাতুন, ঠিকানা উত্তর পাড়া। রহমত উল্লাহ (এনআইডি নম্বর-৯১৭৫২৯১২৩০৩), বাবা সলিম উল্লাহ, মা ছালেহা বেগম, শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়া। একই এলাকার শাহেদুল ইসলাম (এনআইডি নম্বর-৭৩৫৮৭৬০৯৯৪), বাবা তজু উদ্দীন, মা আমিনা খাতুন। মোহাম্মদ আনাছ (এনআইডি নম্বর-৮৭২৫২২০৭০৪), বাবা মোহাম্মদ সালাম, মা রাশিদা বেগম, ডেইল পাড়া। এছাড়া নুর আবছার, হাম্মাদ ছিদ্দিকী, হাফছা বেগম, জেসমিন বেগম, মনোয়ারা বেগম, উম্মে হাবিবাসহ হাজারো রোহিঙ্গা ভূয়া এনআইডি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে।

চাল দেওয়ার কথা বলে জালিয়াতি
শাহপরীর দ্বীপের ডাংগর পাড়ায় মরিচ ক্ষেতে চাষি কাজে ব্যস্ত ছিল কৃষক ফরিদ আলম। তার নাম ব্যবহার করে কিভাবে রোহিঙ্গা রহিম উল্লাহ এনআইডি কার্ড বানালেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে রহিম উল্লাহ আমার এনআইডি নিয়েছিল। সে যে এত বড় জালিয়াতি করবে, তা কখনো ভাবিনি। সে আমার ছেলে নয়, তবু আমাকে ‘বাবা’ এবং আমার স্ত্রীকে ‘মা’ বানিয়ে এনআইডি কার্ড তৈরি করেছে আমি তার এনআইডি বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

কারা করে সহযোগিতা
রোহিঙ্গাদের এনআইডি পেতে টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করে দালালচক্রের সদস্যরা। এলাকায় এনআইডি তৈরির সহযোগী হিসাবে যাদের নাম আলোচিত তাদের মধ্যে অন্যতম শাহপরীর দ্বীপের নুর হাসান (লয়েশিয়ায় পলাতক), জাদেহ উল্লাহ ওরফে যায়তুল্লাহ, মো.ফয়সাল, বেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ রুবেল, ফয়েজ উল্লাহ, ও রোহিঙ্গা শাহেদুল ইসলাম (বর্তমানে সৌদি আরবে পলাতক), মোহাম্মদ সৈয়দ, রমজান আলী, মো. রাকিব, আবদু শুক্কুর, আকতার হোসেন ও হালিমা খাতুন। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোহিঙ্গা ভোটার বলেন, “শাহপরীর দ্বীপে টাকার বিনিময়ে এনআইডি তৈরি করে দেওয়ার একটি দালালচক্র রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই আমরা বাংলাদেশি এনআইডি সংগ্রহ করেছি। দালালচক্রের মাধ্যমে গেলে কোথাও কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় না। পুরো প্রক্রিয়ায় আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’

জনপ্রতিনিধিরা কেন স্বাক্ষর করেন
রোহিঙ্গা আবুল কালাম, রহিম উল্লাহ, কাউছার, জোবাইর ও সালমা আক্তারের এনআইডির সত্যতা যাচাই করে স্বাক্ষর করেছেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউর করিম রেজু। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা কীভাবে এনআইডি সংগ্রহ করেছে, তা আমার জানা নেই। কোনো রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ বা এনআইডি পেতে সহায়তা করার প্রশ্নই আসে না। ’  
তিনি আরও বলেন, “শুধু এ কয়েকজন নয়, আরও অনেকে রোহিঙ্গা ভুয়া জন্মসনদ ও এনআইডি সংগ্রহ করেছে। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আমাদের সিল-স্বাক্ষার জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি বানিয়ে দিচ্ছেন রোহিঙ্গাদের। বিষয়টি জানার পর এনআইডিগুলো বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছি।”
শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম ও আবদুল মান্নান বলেন, “টাকার বিনিময়ে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে। আমাদের দুই ওয়ার্ডে সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কয়েকশ রোহিঙ্গা এনআইডি সংগ্রহ করেছে বলে তথ্য পেয়েছি। ইতিমধ্যে তাদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ভুয়া এনআইডি বাতিলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

কী বলছেন নির্বাচন কর্মকর্তা
টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, সম্প্রতি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে অবৈধভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টার সময় অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গার ফাইল জব্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেদা পশ্চিম পাড়ার ছৈয়দ আলম (ভোটার ফরম নম্বর-১১৯১৬৫২৭৫) ও একই এলাকার নুর ছাফা আক্তার (ভোটার ফরম নম্বর-১১৯২৪৩৬৭৮)। এ ছাড়া আরও সাতটি আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নাম ব্যবহার করে ভুয়া এনআইডি তৈরির অভিযোগে আরও শতাধিক এনআইডি কার্ড তদন্তাধীন রয়েছে। কিছু এনআইডি জালিয়াতির সত্যতা পেয়ে বাতিলের জন্য তা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অনীক চৌধুরী। 
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ বলেন, ‘রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এনআইডি তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি রয়েছে। এরপরও রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চিন্তার বিষয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনোভাবে যাতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি এনআইডি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×