ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সবুজ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার স্বীকৃতি

সবুজ শিল্পাঞ্চল গড়ে  তোলার স্বীকৃতি
×

ইয়াংওয়ান করপোরেশন ও কেপিজেডের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কিহাক সাংয়ের হাতে বৃক্ষরোপণে প্রথম পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমকাল

 আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়ন এবং টেকসই শিল্পায়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেপিজেড)। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইয়াংওয়ান করপোরেশন ও কেপিজেডের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কিহাক সাংয়ের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।
বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন, ১৯৯৬-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত কেপিজেড চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ২ হাজার ৪৯২ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ এলাকা বনভূমি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেক, দীঘি ও উন্মুক্ত সবুজ অঞ্চল হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৮ শতাংশ জমি শিল্পকারখানা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯৯ সালে প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেখানে প্রায় ৩০ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিবছর আরও প্রায় দুই লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জরিপে এ এলাকায় ৪০০-এর বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি ৬০ একরজুড়ে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন গড়ে তুলেছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ হাজার ৮৫০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পানি সংরক্ষণেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। কেপিজেডে ৩৭টি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ৬০ কোটি গ্যালনের বেশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। এ বাস্তুতন্ত্রে বর্তমানে ২৯২ প্রজাতির প্রাণীর আবাস গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে জোনটিতে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ মেগাওয়াটের উৎপাদন ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত মান বজায় রাখতে সব শিল্প কারখানায় বর্জ্য পানি শোধনাগার (ইটিপি) পরিচালনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কেপিজেডে ৫৩টি শিল্পকারখানা উৎপাদনে রয়েছে। আরও ২৭টি শিল্পপ্রকল্পের নির্মাণকাজ চলমান এবং ৩৮টি প্রকল্প পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এখানে বর্তমানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী। প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শেষে ৮১ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ এবং প্রায় দেড় লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে দাবি করেছে কেপিজেড কর্তৃপক্ষ।
কেপিজেডের সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী একসময়কার অনুর্বর ভূমিকে একটি সবুজ শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এই জাতীয় স্বীকৃতি আমাদের আরও বেশি বৃক্ষরোপণ, পানি সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করবে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই কেপিজেডের মূল লক্ষ্য।’ 
 

আরও পড়ুন

×