সাক্ষাৎকার : জেরিনা হোসেন
সিডিএ দায়িত্বশীল হলে বদলে যাবে অনেক কিছু
জেরিনা হোসেন সাধারণ সম্পাদক, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জেরিনা হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়। প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক কারণে এমন সংজ্ঞা দেওয়া হলেও এটির বাস্তব চিত্র একেবারে ভিন্ন। ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে এই নগর। দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না বলে এ নগরের মানুষরাও মানছে না আইন। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এর বাইরে নয়। স্রোতে গা ভাসিয়ে তারাও যতটা না সেবা দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি করছে ব্যবসা। তাই পার্কিয়ের স্থানে তারা প্যাথলজি বসাচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার রাখছে। ডাক্তারের চেম্বারও করছে। কিন্তু এভাবে গণহারে নিয়ম ভাঙার সাহস তারা পাচ্ছে কোথায়? এই শহরকে বদলাতে হলে দায় নিতে হবে সিটি করপোরেশনকে। সিডিএ দায়িত্বশীল হলেও বদলে যাবে অনেক কিছু।
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষের প্রাণ রক্ষা হয়। বিপদে-আপদে মানুষ আশ্রয় খুঁজে এখানে। কিন্তু সেই হাসপাতালই যদি নিয়ম না মানে, আইন ভঙ্গ করে, মানুষের বিপদ বাড়ায় তাহলে তা খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সমাজে। জিইসি থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত সড়কটি নগরীর খুব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি। এখান দিয়েই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতে হয়। বেশির ভাগ
বেসরকারি হাসপাতাল এই এলাকাতে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের বেশিরভাগ চেম্বারও এই জোনে। কিন্তু ব্যস্ত এই পয়েন্টেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় রোগী কিংবা তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে। এটা জানে সিডিএ। তারা এটাও জানে কেন হচ্ছে এই যানজট? কিন্তু কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পার্কিং নিয়ে হাসপাতালগুলোর অনিয়মে সিডিএ’রও দায় রয়েছে।’
জেরিনা হোসেন বলেন, সিডিএ’র অনুমোদিত মূল নকশা অমান্য করে ভবন বা পার্কিং এরিয়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সিডিএ চাইলে নকশার বাইরে গিয়ে পার্কিংয়ের জায়গায় করা অবৈধ অফিস, দোকান, চেম্বার বা অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলতে পারত শুরুতেই। তারা তা করেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সুযোগ নিয়েছে। এখানে উভয় পক্ষের দায় দেখছি আমি।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার