ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবৈধ স্থাপনায় বাড়ছে অপরাধ, অতিষ্ঠ রোগী, স্বজন ও ছাত্রীরা

অবৈধ স্থাপনায় বাড়ছে অপরাধ, অতিষ্ঠ রোগী, স্বজন ও ছাত্রীরা
×

নগরের চান্দগাঁও থানার হাজী চাঁন্দ মিয়া সড়কের শমসের পাড়ায় চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান। দোকানে আড্ডা বসে বখাটে ও মাদকাসক্তদের সমকাল

 শৈবাল আচার্য্য

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:১১ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগর ও মফস্বল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। নগরের চান্দগাঁও থানার হাজী চাঁন্দ মিয়া সড়কের শমসের পাড়ায় অবস্থিত এই ক্যাম্পাসে একই সঙ্গে রয়েছে ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ। যে কারণে প্রতিদিন সকাল থেকেই হাজারো রোগী, স্বজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ভিড় হয় ক্যাম্পাসে। তবে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এর প্রধান কারণ, হাসপাতালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছোট-বড় দোকান।

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অনেকে ভ্যানে করেও বসিয়েছেন ভাসমান দোকান। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যার যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে বসানো হচ্ছে অবৈধ দোকান। এতে ব্যস্ততম এই সড়কে তৈরি হচ্ছে যানজট; ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। কিছু অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব স্থাপনা ঘিরে প্রতিনিয়ত ইভটিজিং, ছিনতাই, মাদকসেবন এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তাই এ থেকে পরিত্রাণ পেতে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রোগীদের স্বজন যাতায়াত করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশপথের সামনে কবরস্থানের পাশে গড়ে ওঠা কিছু অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা এখন নিরাপদ চলাচলের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। তখন মাদকসেবন, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো অপরাধীদের নিরাপদ অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘কলেজ ও হাসপাতালের প্রবেশমুখেই অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় সেখানে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়েছে। এ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় নারী শিক্ষার্থী, রোগী ও তাদের স্বজনদেরও ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এর আগেও আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবর্তন আসেনি। প্রশাসনের কঠোরতার অভাবে এখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অবৈধ দোকানের সংখ্যা। এতে হাসপাতালে প্রবেশে রোগীদের দুর্ভোগও পোহাতে হয়। এ কারণে নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। একটি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অবশ্যই নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হওয়া প্রয়োজন। তাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আমরা পুলিশের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছি।’ 

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদন আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি সবোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘সকাল থেকেই আজেবাজে ছেলেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় প্রধান প্রবেশ পথের সামনের স্থানটি। এখানে গড়ে উঠা দোকানপাট ও ভাসমান দোকানে সিগারেট খেতে খেতে মেয়েদের ইভটিজিং করা হয়। তারা একসাথে অনেকজন থাকায় প্রতিবাদ করতেও সাহস হয় না।’

ইতিমধ্যে তিন প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষার পাশাপাশি যাবতীয় বিষয় তদারকি করতে পুরো ক্যাম্পাসে বসানো হয়েছে ১৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বাইরের ভাসমান অবৈধ দোকানের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এর সুফল। 

আরও পড়ুন

×