তবলার বোলে ‘গুরু প্রণাম’
রেওয়াজের ‘গুরু প্রণাম’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তবলা লহরা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গুরু-শিষ্য পরম্পরার চিরন্তন ঐতিহ্য, শ্রদ্ধা ও ভক্তিকে ধারণ করে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার অনুষ্ঠিত হলো শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান ‘গুরু প্রণাম’। চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে শাস্ত্রীয় সংগীতের সুর, তাল, কণ্ঠ ও তারের অপূর্ব মেলবন্ধনে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
তবলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রেওয়াজের শিষ্যদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রামের প্রখ্যাত তবলাগুরু সুদীপ সেনগুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন। সূচনায় গুরু সুদীপ সেনগুপ্ত তাঁর শিষ্যদের নিয়ে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। বাচিকশিল্পী প্রবীর পালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী ঝুলন দত্ত এবং সদস্যসচিব বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী সানি দে।
এরপর শুরু হয় মূল পরিবেশনা। উদ্বোধনী পরিবেশনায় রেওয়াজের শিক্ষার্থীরা ‘গুরুবন্দনা’ শীর্ষক বৃন্দ তবলা লহরা পরিবেশন করেন। ত্রিতালে বিলম্বিত, মধ্য ও দ্রুত লয়ে গুরু সুদীপ সেনগুপ্তের সৃষ্ট কায়দা, টুকরা, চক্রদারসহ বিভিন্ন বোল দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করে তারা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান। হারমোনিয়ামে নগমায় সহযোগিতা করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সৈকত দত্ত।
এরপর শিষ্যরা গুরু প্রণামের মাধ্যমে তাদের প্রিয় গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব শেষে মঞ্চে আসেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক রিটন কুমার ধর। তিনি রাগ ইমন পরিবেশন করেন। বিলম্বিত একতাল দিয়ে শুরু করে মধ্য ও দ্রুত লয়ে তান, বোলতান ও খেয়ালের বিভিন্ন অনুষঙ্গ পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরে মিশ্র পাহাড়ি রাগে ঠুমরি পরিবেশন করেন। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন সানি দে ও রোমেন বিশ্বাস রাজু, হারমোনিয়ামে ছিলেন অভিষেক নন্দী এবং তানপুরায় চয়ন চক্রবর্তী।
পরবর্তী পরিবেশনায় বেহালাশিল্পী অপরাজিতা চৌধুরী রাগ যোগ-এ বিলম্বিত একতাল থেকে মধ্য ও দ্রুতলয়ে একক বেহালা পরিবেশন করেন। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন জুয়েল চৌধুরী ও দেবাশীষ দাশ। এরপর ‘রেওয়াজ’-এর আমন্ত্রণে রূপক তবলা ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা বৃন্দ তবলা লহরা পরিবেশন করেন। প্রখ্যাত তবলাগুরু আশীষ চৌধুরী-এর পরিচালনায় এ পরিবেশনায় অংশ নেন রিপন দাশ, শেখ আরমানুল ইসলাম আদর, সৌমেন দাশ ও প্রথম কুমার জৈন। নগমায় সহযোগিতা করেন সৈকত দত্ত।
সমাপনী পরিবেশনায় মোহনবীণায় সুরের মূর্ছনা তোলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী দোলন কানুনগো। রাগ মিয়া কি মাল্লার-এ তাঁর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে। তবলায় সঙ্গত করেন সুশান্ত কর চৌধুরী ও তিষাণ ঘোষ।
- বিষয় :
- উৎসব পালন