ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নাটোরে চামড়ার আড়তে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

নাটোরে চামড়ার আড়তে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
×

শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার আড়তে আসতে শুরু করেছে চামড়া। ছবি: সমকাল

নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬ | ১৫:১৫

এবার কোরবানির ঈদে গ্রাম থেকে চামড়া কিনে নাটোরের চামড়া আড়তে বিক্রি করতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আড়তে সিন্ডিকেট করে চামড়া কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদ্রাসা সুপার। অন্যদিকে, আড়তদাররা বলছেন, চামড়া না চেনার কারণেই এমন অভিযোগ।

সরেজমিনে আড়ত ঘুরে দেখা যায়, এবার ভালো গরুর চামড়া প্রতিটি আকারভেদে ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনছেন আড়তদাররা। আর ছাগলের চামড়া প্রতিটি ২০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা হয়েছে। তবে গাভি গরুর চামড়ায় আগ্রহ দেখা গেল না ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের।

মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা সুপারদের অভিযোগ, নাটোরের আড়তে আড়তদাররা নিজেরাই চামড়ার ছোট, মাঝারি ও বড় আকার নির্ধারণ করে দাম দিচ্ছেন। আবার ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ বলে অনেক চামড়া বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে আড়তে।

চামড়ার ভালো দাম না থাকায় এবার এতিমখানায় চামড়া দান করেছেন নলডাঙ্গা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কোরবানিদাতা লিমন আহমেদ, ফজলুল করিম, বুলবুল আহমেদসহ অনেকেই। শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকার কোরবানিদাতা জনি আহমেদ এবার এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরু কিনেছেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দাম না বলায় মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন। শহরের ফুলবাগান এলাকার পলাশ খান, ইদ্রিস আলী ও ফারুক হোসেনও ক্রেতা না পেয়ে এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন চামড়া।

মৌসুমি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামে ঘুরে ষাঁড় ও গাভি মিলে গরুর চামড়া এবং ছাগলের চামড়া কিনে আড়তে বিক্রি করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আড়তে ছাগলের চামড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা আর ষাঁড় গরুর চামড়া ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। গাভি গরুর চামড়া বিক্রি করেছি প্রতিটি দেড় শ টাকা। আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছামতো দাম দিয়ে চামড়া কিনছেন। আবার ভালো ভালো চামড়া লাম্পি বলে বাদ দিচ্ছেন। এতে করে আমরা মূলধন হারিয়ে লোকসানে পড়েছি।’

মাঝদীঘা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, এবার ঈদে গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছেন ৮৯টি; আর ছাগলের চামড়া পেয়েছেন ৪০৬টি। চামড়া নিয়ে তিনি নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার আড়তে আসেন। সেখানে প্রতিটি গরুর চামড়া ১ হাজার ৫০ টাকা করে জানান আড়তদার। কিন্তু ৪২ পিস চামড়ার দাম দেওয়ার পরে বাকি চামড়া নষ্ট বলে ১০০ টাকা দাম ঠিক করেন। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষ বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। আব্দুর রহমান বলেন, ‘এভাবেই সিন্ডিকেট করে এতিমদের হক মারছেন আড়তদাররা।’

মাদ্রাসা সুপার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, চামড়া বিক্রি করে ভালো একটা অর্থ পাব। কিন্তু আড়তদারদের কারসাজিতে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।’

তবে আড়তদার রকিব উদ্দিন রকিবের দাবি, ‘আগে চামড়া চিনতে হবে, তারপরে কিনতে হবে। ভালো চামড়া ভালো দাম আর খারাপ চামড়া খারাপ দামেই কেনাবেচা হবে। গ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসার লোকজন চামড়া না চেনায় দামের কমবেশি হয়।’

নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সায়দার খান বলেন, ‘ট্যানারি মালিক বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় ২০০টি আড়তের মধ্যে ১০০টি আড়ত ধারদেনা করে চামড়া কিনছে। এবার নাটোর চামড়া আড়তে প্রায় ১২ লাখ পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হবে আশা করা হচ্ছে।’

সরকারি দামেই চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে বলে জানান সায়দার খান। সিন্ডিকেট থাকার দাবিও নাকচ করে দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী চামড়া কেনাবেচা করা হয়। সাধারণ লোক চামড়া না চেনায় এমন অভিযোগ করছেন।’

নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন বলেন, ‘চামড়ার সঠিক মূল্য নিশ্চিতসহ নাটোরের চামড়া আড়তের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।’

নাটোর শহরতলির চকবৈদ্যনাথ এলাকা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার বাজার। প্রতিবছর ট্যানারির চাহিদার প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ কাঁচা চামড়া এই আড়ত থেকে সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুন

×