ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সচেতনতা

সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বাড়াবেন?

সমস্যা সমাধানে  দক্ষতা বাড়াবেন?
×

লার্নিং ডায়েরি লেখার অভ্যাস আত্মবিশ্বাসী করে তোলে... ছবি :: সাহস

ফেরদৌস আলম

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৬:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্কুল থেকেই অনেকের নোট করে পড়ার অভ্যাস। বিশেষ করে আশপাশের ভালো ছাত্রদের ওপর চোখ বোলালে তা বুঝতে পারবেন অনায়াসেই। এটি চলে আসছে অনেক আগে থেকেই। সত্তর-আশির দশকেও নোট করে লেখাপড়ার প্রচলন ছিল। বর্তমানে অনেক নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ডায়েরিতে হোমটাস্ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিখে দেয় বা নোট করে আনতে বলে। সে অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা পড়া বা হোমওয়ার্ক তৈরি করে এবং অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার অগ্রগতির ওপর নজর রাখেন। তাই বলে আপনি তো আর স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন না। আপনি নিজেই নোট পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজের ওপর নিজেই নজর রাখতে পারেন। কীভাবে? চলুন, জেনে নিই- 

সংযোগ স্থাপন
পঠিত বিষয় নিজ পদ্ধতিতে মনে রাখার চেষ্টা করেন অনেকেই। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে সংযোগ স্থাপন পদ্ধতি। হতে পারে গল্প পদ্ধতি, স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্ধতি, সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্ধতি, মাইন্ড ম্যাপিং, লার্নিং জার্নালসহ অন্য অনেক পদ্ধতি। তবে পূর্ণবয়স্ক মানুষের অবচেতন মনে যেহেতু অনেক স্মৃতি ও তথ্য জমা থাকে, ফলে মনে রাখার সহজ পদ্ধতি হলো লার্নিং ডায়েরি।
 
লিখুন পর্যালোচনার জন্য
লার্নিং ডায়েরি হলো লার্নিং জার্নালের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় সারাদিন যা শেখেন বা যা লেখাপড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত–সেসব বিষয় ডায়েরিতে লিখে রাখেন পরবর্তী সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করার জন্য। লার্নিং ডায়েরিতে সব বিষয় লিখে রাখতে হয় না। বরং আগে শোনা হয়নি, জানা হয়নি বা শেখা হয়নি–এমন কোনো বিষয় পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করার জন্য চার বা পাঁচ কলামের ছকে লিখে রাখা। 
পরে ব্যবহার করতে চাইলে 
প্রতিদিন প্রয়োজনে, এমনকি অপ্রয়োজনেও বহু আর্টিকেল দেখি এবং পড়ি। বই-পুস্তক পড়ি, সময় কাটানো বা তথ্য সংগ্রহের জন্য ম্যাগাজিন পড়ি, অনেক সময় বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডায় কোনো গল্প বা জোকস শুনি। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মনে হতে পারে আর্টিক্যাল, গল্প বা জোকসটি মনে রাখা দরকার। অথচ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তা মনে পড়ছে না! এ পরিস্থিতিতে যদি আপনি সত্যি সত্যিই বিষয়টি মনে রাখতে চান, তাহলে একবার লার্নিং ডায়েরি সংরক্ষণ করে দেখুন, কত সাবলীলভাবে সবকিছু সময় মতো মনে করতে পারছেন! আপনি যে বয়সের পাঠকই হোন না কেন, কোনো কিছু পরে ব্যবহারের জন্য লার্নিং ডায়েরি সংরক্ষণ করুন।

ইচ্ছা ও সামঞ্জস্য 
মনে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যে কোনো একটি বিষয় মনে রাখার প্রচণ্ড ইচ্ছা এবং সে বিষয়টির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্য কোনো বিষয়, ঘটনা, গল্প বা অবস্থানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। আগে শেখা হয়নি এমন কোনো ঘটনা, গল্প বা যে কোনো বিষয় মনে রাখার জন্য চার বা পাঁচ কলামের একটি ছক ব্যবহার করুন। প্রথম কলামে তারিখ, দ্বিতীয় কলামে যা শিখলেন বা যা মনে রাখতে চান তা সংক্ষেপে লিখুন। তৃতীয় কলামে কোথায় কার কাছ থেকে শিখলেন, চতুর্থ কলামে সেই শিক্ষা কোথায় কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং পঞ্চম কলামে যদি কোনো চিত্র আঁকা যায় তা নিয়ে কোনো মন্তব্য লিখে রাখুন।

বাড়বে দক্ষতা 
দুই চার মাস লার্নিং ডায়েরি লিখে ও চর্চা করে দেখুন, আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন আপনি। এ ছাড়াও আপনার মনোযোগ বাড়বে, সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বাড়বে, আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, কোনো 
বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বা কোনো কিছু 
বলতে ও লিখতে আপনি নিজ থেকেই অনুপ্রেরণা পাবেন। আপনার জন্য রইল শুভকামনা। 

আরও পড়ুন

×