সচেতনতা
চেনা জীবনে অচেনা অসুখ
অতিরিক্ত কেনাকাটা
অতিরিক্ত কেনাকাটা সাময়িক আনন্দ দিলেও ছদ্মবেশে ডেকে আনে বিপদ শিল্পকর্ম :: জেনা ফোরনিয়ার
জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
শপিংয়ের কথা শুনলেই যাদের মাথা চক্কর মেরে ওঠে; স্থির থাকতে পারেন না; ঘর থেকে হুটহাট বেরিয়ে পড়েন তাদের এই আচরণটাকে ব্যামো বা রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। শপিংয়ে যাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, যারা মাত্রাতিরিক্ত শপিং করেন, তাদের এই আসক্তিটা হতে পারে নানা রকমের। এটি সবসময় আবার টাকার ওপর নির্ভর করে না। মনের ওপর ভর দিয়েই চলে! কীভাবে এই আসক্তিটা আপনার ওপর আসন গেড়ে বসে চলুন দেখে নিই-
শপিংয়ে আসক্তির তাড়া: এই আসক্তিটা নানাভাবে আপনাকে তাড়া দিতে পারে।
–আপনি যদি মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন তো আপনার ভেতর শপিং-ভূতটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
–আমাদের অনেকেই আছেন; যারা প্রয়োজনীয় দ্রব্যটি মনের মতো না কেনা পর্যন্ত বারবার কিনেই যান। কিনতেই থাকেন।
–কেউ কেউ আবার চান তার উপস্থিতিতে কারও চোখ যেন অন্য টেনে নিতে না পারে।
–অন্যের প্রয়োজনে শপিংয়ে গেলেও কম দামে পেলে অনেকে কিনতে থাকেন।
–আশপাশে তাকালে এমন লোকের লিস্টও লম্বা দেখা যায়, যারা কেনেন আর ফেরত দেন।
–শখের শপিংপাগলুও দেখা যায়। তারা বাজারে আসা নতুন যে কোনো ট্রেন্ডই সংগ্রহে রাখার জন্য মার্কেটের এ-মাথা ও-মাথা ঘুরে বেড়ান।
শপিং আসক্তির পূর্বাভাস: নানাভাবে আপনার ভেতর এই বীজ গজিয়ে উঠতে পারে। এ নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যায়, ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলেন, শপিংয়ের সময় ব্রেন যেভাবে কাজ করে বা বিক্রেতা যে প্রতিক্রিয়া দেখান, তাতে অনেকেই আসক্ত হয়ে যান তার প্রতি। কেনাকাটার সময় ক্রেতার ব্রেনে অ্যান্ডোসপ্রিন আর ডোয়ামিন অ্যানজাইম নির্গত হয়। এতেই আসক্ত হয়ে পড়েন অনেকে। এর সংখ্যা সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
আসক্তির লক্ষণ: এটা খুবই জটিল এবং হতচ্ছাড়া রকমের লক্ষণ। এই শপিংপাগলুরা আমাদের কাছের মানুষ হওয়ায় তাদের চিহ্নিত করা খুবই কষ্ট আমাদের পক্ষে! এই রোগে ভোগা পাগলুদের কিছু লক্ষণ এমন–
–এদের প্রধান লক্ষণটাই গিয়ে ঠেকে আবেগের মধ্যে। তখন তারা অন্য আসক্তদের মতোই নিজের লক্ষণগুলোকে লুকাতে চান।
– পরিবারের আয়-ব্যয়ের সামর্থ্যের কথা না ভেবে তারা শপিং করেই যাবেন।
–হতাশা বা রাগ-ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটাতে যদি আপনার পরিবারের মানুষটি শপিং করে যায় তাকেও আপনি এই তালিকায় স্থান করে দিন।
–আগের শপিং লজ্জা মেটাতে আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন শপিংয়ে।
ঝটপট যাচাই: খুব সহজেই নিজেকে কিংবা আপনার পরিবারের একান্ত প্রিয় মানুষ বা কাছের মানুষ শপিংয়ে আসক্ত কিনা–
–আপনি রেগে থাকলে শপিং করেন?
–শপিং নিয়ে প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছে?
–আপনার ভেতর এমন চেতনা জাগ্রত হয় যে, আমি শপিং করে অনেক কিছু করে ফেলেছি?
–তাছাড়া শপিংয়ের পর আপনার কী এমন মনে হয় যে আপনি কোনো কিছুতে লজ্জা পান?
–খুব আগ্রহ নিয়ে কেনা পোশাক রেখে আপনি কি আবার মার্কেটের পথে ছুটছেন?
–সব সময় কি শপিংয়ের টাকা নিয়ে ভাবেন?
আসক্তির দাওয়াই: শপিং আসক্তির দাওয়াই পুরোটাই নির্ভর করে নিজের ওপর। এর ওষুধেও আশাব্যঞ্জক কোনো ফল পাননি চিকিৎসকরা। তবে হাতাশা কাটানোর ওষুধ থেকে কিছুটা প্রতিকার পেতে পারেন। তবে এর চূড়ান্ত প্রতিকারের জন্য আপনাকে হতে হবে আত্মসচেতন।
- বিষয় :
- কেনাকাটা
