পরিকল্পনা
বিন্দু থেকে শুরু...
প্রথম উপার্জনই হোক আগামীর বড় সম্পদ... ছবি: সাহস
জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিয়া
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস টাকা! টাকার এই প্রয়োজনীয়তা বুঝে সবাই। তবে তরুণ বয়সে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় এর মর্ম অনেকেই বুঝতে চান না। নতুন চাকরি পাওয়ার পরও বেশ কিছুদিন চলে যায় এর গুরুত্ব বুঝতে। অহেতুক বাহাদুরী দেখাতে কিংবা অকারণেই টাকা উড়িয়ে বেড়ান। কারও আবার টাকা জমানোর ভাবনা মাথায় এলেও কী করে যে জমাবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না। চলুন, আপনাকে কিছু রাস্তা দেখানো যাক–
লাগাম টানুন নিজের
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, নিজের মধ্যে থাকা টাকা ওড়ানোর বদঅভ্যাসটাকে বশ মানাতে পারলে খুব স্বচ্ছন্দেই টাকা জমাতে পারবেন আপনি। এ ক্ষেত্রে হয়তো কোনো কোনো বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষ আপনাকে ‘কিপ্টা’ বলে হাসাহাসি করতে পারে। আপনি যদি সেইসব অহেতুক হাসি-তামাশাকে পাত্তা না দেন, তাহলে আখেরে লাভটা কিন্তু আপনারই হবে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর দেখবেন, তারা উল্টো আপনাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।
প্রয়োজনীয়তার মাত্রা
ঠিক কোন কোন খাতে আপনার খরচ হচ্ছে– দিনের শেষে তার একটা তালিকা করতে পারেন। তারপর ভাবতে বসে যান, এই তালিকার মধ্যে প্রয়োজনীয়তার মাত্রা কতটুকু, আর কতটুক অহেতুক। এরপর চেষ্টা করতে থাকুন অহেতুক বা বাজে খরচ একটু একটু করে বন্ধ করতে। এক সময় দেখবেন, বাজে খরচ না করে জমানো টাকার পরিমাণ ঠিক কম নয়। আর তা আপনার কতটা উপকারী হয়ে উঠতে পারে–সে কথা বলাই বাহুল্য।
টাকা জমানোর অভ্যাস
ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখার অভ্যাস করুন। এই অর্থের জোগান আপনি বাজে খরচের হিসাব এবং প্রতিদিনের হাত খরচ থেকে জমিয়ে খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে শুধু ইচ্ছাশক্তিটিই যথেষ্ট। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর এই জমাকৃত টাকা আপনার জন্য অনেক সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা
তরুণ বয়সী অনেকের মতো আপনিও যদি নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অমনোযোগী থাকেন, তাহলে ছোটখাটো থেকে শুরু করে গুরুতর অসুখে পড়ার আশঙ্কা কিন্তু রয়ে যাবে আপনার। আর অসুখ যেমন শারীরিকভাবে আপনাকে দুর্বল ও অসহায় করে দেবে, তেমনি আপনার নিজের কিংবা পরিবারের ভান্ডার থেকে ছিনিয়ে নেবে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা। ফলে, স্বাস্থ্য সচেতন থেকে আপনি এমনতর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারেন।
সাবলীল জীবনযাপনে অভিভাবক
এ বয়সে হয়তো আপনার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ তেমন কিছুই নয়, তাই বলে পারিবারিক সম্পদ যা আছে সেগুলোর যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে অনিষ্ট করবেন না। এর আর্থিক মূল্য আপনার না জানা থাকলেও কিংবা দৃশ্যত সেটি গুরুত্বপূর্ণ না হলেও ভবিষ্যতে এগুলো আপনাকে সুন্দর ও সাবলীল জীবনযাপনে অনেকটা অভিভাবকের মতোই আগলে রাখবে।
এভাবে, নিজের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে টাকা বাঁচানোর সুন্দর ও স্বাভাবিক পথ আপনি বেছে নিলে আখেরে বেশ উপকৃত হবেন। u
- বিষয় :
- পরিকল্পনা