ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোষা প্রাণীর জন্য ভালোবাসা

পোষা প্রাণীর জন্য ভালোবাসা
×

যত্ন পাক আপনার প্রিয় পোষা প্রাণী... মডেল: অনন্যা; ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

আশিক মুস্তাফা

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

শখের বশে কিংবা একাকিত্ব কাটাতে পোষা প্রাণীকে বেছে নেয় মানুষ। তবে দেশের তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। এটি নিশ্চয় ইতিবাচক। প্রাণীরা একবার পোষ মেনে গেলে তার মালিক ছাড়া দুনিয়ার কাউকেই গুনতে চায় না! শখ থেকে তরুণদের একান্ত প্রিয় হয়ে ওঠা পোষা প্রাণীর ভালোবাসা ও যত্নআত্তির বিষয় তুলে এনেছেন আশিক মুস্তাফা

পো  ষা প্রাণী, সেই আদিমকাল থেকে মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কখনও মানুষ শখের বশে তা লালন-পালন করে আসছে। কখনও একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে পোষা প্রাণীকে বেছে নেয়। কোনো প্রাণী একবার পোষ মেনে গেলে তার মালিক ছাড়া দুনিয়ার কাউকেই যেন গুনতে চায় না! একটি পোষা প্রাণীর কাছ থেকে এর চেয়ে বড় পাওয়া কিইবা থাকতে পারে? এদের নিয়ে দুনিয়াতে অসংখ্য ঘটনা, কিংবদন্তিও আছে। আমাদের দেশেও তার অভাব নেই। মুনিবের মৃত্যুর পর তার জন্য চোখের পানি ফেলে, না খেয়ে, এক প্রকার অনশন করে মৃত্যু বেছে নিয়েছে অনেক কুকুর। মানুষও তার প্রিয় প্রাণীটিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে 
ঘুরেছে অনেক! 

শখ থেকে হয়ে ওঠে প্রিয় বন্ধু
প্রাণীদের জন্য সবারই অন্যরকম একটা টান থাকে। এই টান ধীরে ধীরে শখে রূপান্তরিত হয়। আর শখ থেকেই প্রেম, ভালোবাসা, মায়া আর বন্ধুত্ব। শুরুতে প্রায় সবাই শখ করেই প্রাণী পোষেন। তারপর এক সময় প্রাণীটি হয়ে ওঠে সব সময়ের সঙ্গী। বাড়তে থাকে মায়া। এভাবেই একান্ত প্রিয় বন্ধু হয়ে যায় প্রিয় পোষা প্রাণীটি।

টেলিপ্যাথি ও প্রেমিকা
আপনার একান্ত প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে যখন ভাবতে বসেন, একই সময়ে হয়তো তিনিও আপনাকে নিয়ে ভাবেন। ভাবনার বিষয়ও এক হয়ে যায় মাঝেমধ্যে। আপনি কোনো কাজ করার আগে মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে ফোন হাতে নেন। একই সময় একই কথা বলতে মাও হাতে ফোন তুলে নেন। এই যে মিল, একে বলে টেলিপ্যাথি। আপনার পোষা প্রাণীটি আস্তে আস্তে যখন আপনাকে বুঝতে শুরু করবে। আপনিও তাকে; তখন দুজন দুজনের মনের কথা ঠিকই বুঝে নিতে পারবেন। আপনার চাওয়া মুখ ফুটে বলার আগেই হয়তো সেই কাজটা করে দেবে সে। এমন প্রাণপ্রিয় প্রাণীটি হয়তো তখন প্রিয় প্রেমিকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যেসব প্রাণী পুষতে পারেন
রাজ্যের পোষা প্রাণী থাকলেও কুকুর এবং বিড়াল মানুষের খুবই নির্ভরযোগ্য পোষা প্রাণী। এ কথা স্বীকার করবেন যে কেউ। এ ছাড়াও খরগোশ, হ্যামস্টার, সাদা ইঁদুর, গিনিপিগ এবং কিছু সরীসৃপের মধ্যে কাছিমও পালন করে আসছে অনেকে। তবে আমাদের দেশে ময়না এবং টিয়া পাখিও বেশ জনপ্রিয়। কারণ এদের স্বল্প খরচে পোষা যায় এবং ঝামেলাও কম। মানুষ কিন্তু এতেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের প্রাণী পোষ মানিয়ে রাখে নিজের কাছে। তবে পোষ মানানোর জন্য যে বোঝাপড়া দরকার। সেটি থাকলেই হলো। কাজে নেমে যেতে পারেন।

শখকে চোখ রাঙানি
অনেকের হঠাৎ করে শখ হয় পশুপাখি পোষার। পছন্দের পশুপাখি সংগ্রহ করে তা পোষাও শুরু করেন। কিছুদিন পর দেখা যায়, পশুপাখির ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে যায়। আর অমনি পোষা প্রাণীটির দেখাশোনাও কমে যায়। এটি ঠিক নয়। তাই পোষা প্রাণী আনার আগে ভালোভাবে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিন। তার যত্নআত্তি এবং ভালো দেখাশোনা করতে না পারলে এর থেকে দূরে থাকাই ভালো। আর মাথায় রাখবেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পোষা প্রাণীর দেখাশোনা করতে হয় দিনের বেলায়। দিনে আপনি প্রাণীটির পেছনে কতটুকু সময় দিতে পারবেন সেটি মাথায় রেখে তাদের আপন করার কথা ভাবুন। 

যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে...
পোষা প্রাণী কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখবেন। যেমন, প্রাণীটি সুস্থ কিনা, তা ভালোভাবে দেখে নিন। পারলে চিকিৎসক এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে রাখুন। 
যে জাতের প্রাণী নিতে চান, সে জাত সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  
যে প্রাণীটি নিয়ে আসছেন ঘরে, তার জীবনযাপন সম্পর্কে জানুন।
প্রাণীটি কেনার পরপরই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
টিকা দিয়ে দিন। টিকা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরাই বলে দেবেন পরবর্তী সময়ে কী করতে হবে।
তার জন্য পর্যাপ্ত খাবার নিয়ে নিন।
বাসায় ছোট বাচ্চাকাচ্চা থাকলে এমন প্রাণী আনুন, যা তাদের জন্য আদরণীয় হয়।
ক্যারিয়ারগত দিক থেকে স্থির অবস্থানে না এলে এসবে না যাওয়াই ভালো। 
পরিবারের সঙ্গে মানানসই প্রাণী পছন্দ করুন। পছন্দ করার পর ওই প্রাণীটির আচার-আচরণ, প্রয়োজনীয়তা, সাবধানতা এগুলো নিয়ে পড়াশোনা করুন।
প্রাণীটির দেখাশোনায় কেমন খরচ হতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। আপনার দৈনন্দিন খরচের একটা বড় অংশ তার পেছনে চলে গেলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। 

যত্নআত্তি
বাসায় নিয়ে আসার পর মন দিতে হবে প্রিয় প্রাণীটির যত্নআত্তিতে। কেননা, পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে- 
    প্রিয় প্রাণীর থাকার জায়গায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
    তাকে সুষম খাবার দিতে হবে।
    বাজারের কেনা খাবারের চেয়ে বাড়ির তৈরি খাবারে অভ্যস্ত করতে পারলে ভালো।
    নিয়মিত গোসল করাতে হবে। সপ্তাহে ক’বার গোসল করানো হবে, তা নির্ভর করে তার নোংরা হওয়ার ওপর। আর গোসলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার করুন।
    নিয়মিত নখ কেটে দিন।
    লোমের ধরন বুঝে চিরুনি ব্যবহার করুন।
    রোগাক্রান্ত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
    বয়স, জাত ও ঋতুভিত্তিক টিকা নিন।
    বছরে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রিয় বন্ধু ওহে
সব ঠিকঠাক থাকলে আর আপনার মায়া থাকলে ধীরে ধীরে এই প্রাণীটিই হয়ে উঠবে আপনার প্রিয় বন্ধু। একটা সময় দেখবেন, তাকে ছাড়া কোনোভাবেই আপনি থাকতে পারছেন না। থাকতে পারবে না সেও। কোথাও গেলে মন টিকবে না। মন পড়ে থাকবে প্রিয় প্রাণীটির কাছে। তখন মানুষের প্রতিও প্রাণীটির অন্যরকম একটা মায়া-মমতা কাজ করবে। এ ছাড়া মন খারাপের দিনে, কিংবা আপনার না বলা কথা তাকে বলে অন্য রকম একটা প্রশান্তি পাবেন। 
আপনি যদি আপনার মতো করে প্রিয় প্রাণীটিকে গড়ে তুলতে চান তাও পারবেন। এর জন্য আপনাকে যেটি করতে হবে তা হচ্ছে, প্রাণীটিকে বাড়িতে আনার পর থেকেই একটু একটু করে প্রশিক্ষণ দেবেন। এতে বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যাবে। তবে দেশি জাতের প্রাণী পোষার ক্ষেত্রে নানা সুবিধা রয়েছে। আর প্রিয় প্রাণীর সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন প্রসাধনীসহ নানা নকশার পোশাক। বাজারে রয়েছে এমন নানা উপকরণ। এর মধ্যে রয়েছে লোমশ প্রাণীর জন্য মেডিকেটেড শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে মাউথ ফ্রেশনার, নানা ব্র্যান্ডের সুগন্ধি। এ ছাড়া বেল্ট, নানা রং-নকশার খাবার বাটিও বাজার থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। এসব সংগ্রহ করে প্রিয় পোষা প্রাণী, প্রিয় বন্ধুকে নিজের সঙ্গে নিয়েও ঘুরে বেড়াতে পারেন। সে-ই তখন একমাত্র কাছের হয়ে উঠবে আপনার! 

আরও পড়ুন

×