প্রেরণা
জীবন গড়ুন পরিশ্রমে...
জন ন্যাশ ছবি : সংগ্রহ
ইমরান খান
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
জন ন্যাশ। ‘ইকোনমিক সায়েন্স’-এ নোবেলজয়ী আমেরিকান গণিতবিদ। প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া জয় করে গণিতের কিংবদন্তি হয়ে ওঠা এ গণিতবিদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইমরান খান
আমার জীবনজুড়ে কেবলই লড়াইয়ের গল্প। তীব্র মানসিক অসুস্থতা বা প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া জয় করে গণিতে ফিরে এসেছি এবং নোবেল পুরস্কারও পেয়েছি। এখানে অবশ্য বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার প্রভাব রয়েছে।
যৌক্তিক কারণ
আমি সবসময় সংখ্যা এবং যুক্তিতে বিশ্বাসী ছিলাম। তবুও সারা জীবন এই সবের পেছনে ছুটে আজ আমি প্রশ্ন করি–আসল যুক্তিটা কী? সত্য কার হাত ধরে আসে? আমার এই খোঁজার জার্নি আমাকে গণিত থেকে দর্শনে, এবং সেখান থেকে অতিন্দ্রীয় জগতে নিয়ে গেছে। অবশেষে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করেছি: কেবল ভালোবাসার রহস্যময় সমীকরণেই সব যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
ভিন্নধর্মী চিন্তা
প্রচলিত বা স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা অনুসরণ না করার সঙ্গে সৃজনশীল চিন্তার একটা গভীর সম্পর্ক আছে। আমি যদি সবার মতো সাধারণ নিয়মে ভাবতাম, তবে হয়তো কোনোদিনও ভালো কোনো বৈজ্ঞানিক আইডিয়া তৈরি করতে পারতাম না। মাল্টিভ্যারিয়েবল ক্যালকুলাসে আপনি যেমনটা দেখতে পাবেন, ঠিক তেমনই বাস্তব জীবনের যেকোনো সমস্যারই একাধিক সমাধান থাকে।
অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রতি আচ্ছন্নতা
শৈশব থেকে গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি এক ধরনের আচ্ছন্নতা আমার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার দিনগুলোতে অন্য ছাত্রদের তুলনায় আমি বরং একটু বেশি মাত্রায় অঙ্ক করতে পছন্দ করতাম। মিউজিকের প্রতি মোৎসার্টের যেমন টান ছিল, আমিও তেমনই টান বোধ করি অঙ্কের প্রতি। আমার খুব অল্প বয়সে বাবা-মা বুঝে গিয়েছিলেন তাদের ছেলেটার চিন্তা-চেতনায় বিশেষ কিছু রয়েছে। সেটির বিকাশ ঘটাতে প্রেরণা জুগিয়ে গেছেন তারা। স্কুলের যে শৃঙ্খলা, তাতে কোনো ছাত্রের বিশেষ কোনো মেধার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ বলতে গেলে ছিলই না। আপনি বিশেষ রকমের কিছু করে বসুন–এমন প্রেরণাও স্কুল থেকে পাইনি। তবু অজান্তেই নিজের ভেতরে অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রতি আচ্ছন্নতা ধরে রেখেছি।
ধনী-গরিবের ব্যবধান
সমাজে ধনী-গরিবের ব্যবধান বিদ্যমান। ফলে এ ব্যাপারে কিছু করা উচিত–এমনটা বলা খুব সহজ। কথা হলো, সমাজে ধনী ও গরিবের অস্তিত্ব বরাবরই ছিল। তবে একজন মানুষ ততটা গরিব না হলেও তাকে আমরা ‘গরিব’ বলে অভিহিত করতে পারি। আমি বলতে চাচ্ছি, যার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় কম সম্পদ আছে, সেই গরিব। তার মানে, আপনার কাছে হয়তো কোনো জিনিস প্রয়োজনের তুলনায় শতকরা ১০ ভাগ কম আছে, আবার কোনো জিনিস ১০ ভাগ বেশি। তবে তুলনামূলক ব্যাপারটি হয়তো তত খারাপ নয়।
আপনার প্রতীক্ষায়
এই যে আমরা অসুস্থ হই, কখনও পিছিয়ে পড়ি; এর ফলে মন ভার করে বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর কোনো কিছুই আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না। আপনি যদি পিছিয়ে পড়া থেকে পরিত্রাণের পথ না খোঁজেন কেউই টেনে তুলবে না। তবে একটু উঠে দাঁড়াতে চাইলে অনেকে এগিয়ে আসবেন হাত ধরতে। তাই নিজেকে পিছিয়ে না রেখে এগিয়ে নিয়ে যান।
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা