ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যে সমাজ সকলের

চিন্তা, পরিকল্পনা ও চেষ্টা

চিন্তা, পরিকল্পনা ও চেষ্টা
×

আবুল কাসেম ফজলুল হক

আবুল কাসেম ফজলুল হক, প্রাবন্ধিক শিক্ষাবিদ

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৯ | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

গণতন্ত্র এমন একটি ধারণা– যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অগ্রসর হয়। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের বাস্তবায়ন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার সঙ্গে জড়িত। এ মুহূর্তে তেমন লক্ষণীয় অগ্রসরমানতা দেখা যাচ্ছে না, তবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এটিও সত্য। যদিও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মপন্থা ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও নির্বাচনী কাঠামো বিচার করে উদ্যোগগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা বিষয়ে, খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার অবস্থা আমাদের আছে বলে মনে করতে পারছি না। 

“কালের গতিতে মানুষের মননশক্তি ও জ্ঞানের সীমানা নিয়তই প্রসারিত হচ্ছে। জ্ঞান ও দর্শনের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। সেজন্য মানুষের মনের ও সমাজ-বিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে রাষ্ট্রচিন্তারও নিরন্তর পরিমার্জনা ও পুনর্গঠন হওয়া স্বাভাবিক। [বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তা ১ম খণ্ড, সৌরেন্দ্রমোহন গঙ্গোপাধ্যায়; পৃষ্ঠা: রাষ্ট্র-৯.ক]”

গণতন্ত্র যদি অগ্রসর না হয় তাহলে সমাজে কিছু সমস্যা স্থায়ীরূপে থেকে যায় এবং ক্রমশ আরও জটিল রূপ ধারণ করে, ফলে জাতির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। আমাদের দেশের রাজনীতিকদের এ বিষয়ে কোনো আন্তরিক দুর্ভাবনা আছে কিনা প্রশ্ন জাগে। 

পৃথিবীর একেক স্থানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কালভেদে রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে তারতম্য থাকে। কাল-পরিক্রমায় প্রত্যেকের সংকটেই নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। ক্রমশ পুরাতন চিন্তা বাতিল হয়ে যায়। কোনো দেশের রাজনীতিকরা যদি দেশে সুস্থধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাদের পুরাতন চিন্তাগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে হয়। এই ধারা বজায় থাকলে ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ মানুষের মনে নতুন সবল সমাজের উপযুক্ত হয়ে ওঠার মতো চিন্তাভাবনা কাজ করতে থাকে। 
চিন্তা, পরিকল্পনা, চেষ্টা– এই তিন ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ যদি বিদ্যমান রাজনীতির প্রেক্ষিতে আমাদের গণদাবিতে পরিণত হয়, তাহলে দলগুলোকে এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, এরপর বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। তবে জনসাধারণের ওপর কোনো অভিমত চাপিয়ে দিয়ে নয়। তাদের অভিমত শুনতে হবে। 

গণতন্ত্রের পথে আমাদের চিন্তা বা কাজ ভালোভাবে এগোচ্ছে না। যদি ত্রিশ বছর আগে গণতন্ত্রের প্রত্যাশায় যে দাবিগুলো মানুষ তুলেছে, লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে, এখনকার দাবিগুলোও তা থেকে ভিন্ন কিছু নয়। আমরা আর এগোইনি, বরং কোনো কোনোদিকে আরও পিছিয়ে গিয়ে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থার ভেতর পড়েছি। 
পৃথিবীতে যুদ্ধ চলছে। ১৯৪৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কখনও হয়তো কোনো আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অল্প কিছুকাল বন্ধ থাকে, এরপর যথাসময়ে আবার যুদ্ধাবস্থা ফিরে আসে। বর্তমানে সেই পুরাতন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এখন বিশ্ববাসীর ভেতর কিছু ভালো ভালো চিন্তা প্রকাশিত হচ্ছে, কিছু কিছু চিন্তা বিকশিত হচ্ছে। যখন রাষ্ট্রে  ভালো চিন্তা বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকে না, তখন সেই রাষ্ট্রের রাজনীতির অগ্রগতি ঘটে না। বিশ্বের দিকে তাকালে এটিই দেখতে পাই। বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একই চক্র বিদ্যমান। 

শুভচিন্তা ও কাজের সম্মিলন না ঘটলে গণতন্ত্র কী, গণতন্ত্র কী-নয়, তা বোঝা যাবে না। জনগণের মাধ্যমে জনগণের রাষ্ট্র গড়ে তোলার পন্থা গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের অর্থ কেবল নির্বাচন নয়। আমাদের দেশের জনগণের কাছে গণতন্ত্রের বোঝাপড়া চার দশক আগেও যেখানে ছিল, আজ যেন সেখানেও নেই, আরও পিছিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে এগোলেও তার ধারাবাহিকতা থাকেনি। পূর্ণরূপে কার্যকর হওয়ার আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 

গণতন্ত্রের আলাপে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের প্ররোচনায় বিষয়টি বেশ প্রচারিত, এবং ভুল পথে ব্যবহৃত হয়। এই প্রচারণার আওতায় থাকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ। এই ছাত্রসমাজ নিজেদের চিন্তাকে বিকশিত ক’রে, চেষ্টাকে জনগণের রাজনীতির পথে পরিচালিত ক’রে, দেশীয় রাজনীতিতে গণতন্ত্রের পথে ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক, তারা আজ রাজনীতির সঙ্গে আর যুক্ত হতে চায় না। গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তক পেরিক্লিস বলেন, মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে যারা চিন্তাভাবনা করে না, তারা ক্ষতিকর না, তবে অপদার্থ। রাষ্ট্রের নিয়মকানুন হয়তো মুষ্টিমেয় কয়েকজন তৈরি করে, কিন্তু সেইসব নিয়মকানুনের ভালো-মন্দ নিয়ে প্রত্যেকের কথা বলা দরকার।

নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান রাজনীতিকরা গণতান্ত্রিক যাত্রায় প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণ করছে কি? এমন পরিবেশ যে দেশে বজায় থাকে, সে দেশে গণতন্ত্র অগ্রসর হবে না, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তখন ভুল পথে পরিচালিত হয়। কেন ও কীভাবে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে তা আমাদের ছাত্রসমাজ সেই অর্থে চিন্তা করছে না। বিষয়টির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এমন– ‘এসব তো সবাই জানে’, সুতরাং ‘এখন দরকার নির্বাচন’। এ ধরনের কথাবার্তাগুলো শোনা যায়। গণতন্ত্র কী, এর সঠিক অস্তিত্ব যদি আমরা নিরূপণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাই, নিছক নির্বাচন গণতন্ত্র নয়। এমনকি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি যে ধরনের বার্তা দেওয়া হয়, তার কোনোটির ভেতরই প্রত্যাশিত গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ খুঁজে পাওয়া যাবে না। 

জনগণের ভেতর থেকে জনপ্রতিনিধি বের হয়ে আসতে হবে। এ ধারা বিকশিত হলে সাধারণ জনগণের ভেতর গণতান্ত্রিক সচেতনতার জন্ম নেয়, এবং এর ফল শুভ হয়। রাজনীতিকরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের ধারণা কতটা ধারণ করেন– এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। দলীয় জনপ্রতিনিধিরা এখন আর জনগণের ভেতর থেকে তাদের প্রকৃত সমর্থনে ভর করে আসেন না। ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার শর্তগুলোও অপূর্ণ থেকে যায়। 

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের অন্যতম চালিকা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কথা জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায়ই ব্যবহার করে থাকে এবং আমাদের দেশের তুলনামূলক অগ্রসর রাজনীতিকদের মুখেও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রমাণ অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন তখনই সফল হবে যখন রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তার সঙ্গে কর্মের সমন্বয় ঘটবে। জাতিসংঘ সবার অন্তর্ভুক্তিতে সায় দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোও তা করে না। এ বিষয়ে অস্বচ্ছতা দেখে ধারণা হয়, অদৃশ্য কোনো শক্তি তাদের পেছনে কাজ করছে। তাদের নীতি ও কাজে স্বচ্ছতা না এলে এই অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হবে না। 

নির্বাচন চলাকালে এখানে ভোট চুরি কিংবা ব্যালট বাক্স ডাকাতি, অনেক মিথ্যা কথা প্রচার করা রাজনৈতিক নেতারা অনুমোদন করেন। ফলে তাদের নির্বাচনপূর্ব বাগাড়ম্বরের প্রভাব জনগণের মনে এক সপ্তাহের বেশি থাকে না। তাদের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে। রাজনীতিকরা যখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেন, সেখানে গণতন্ত্র শব্দটি উচ্চারিত হয়।  প্রয়োজন– গণতন্ত্রহীনতার বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে, কেন বিগত পাঁচ দশকেও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ এখানে প্রতিষ্ঠিত হলো না তা নিয়ে আন্তরিক আলোচনা করা। একটা কথা এখানে ব্যবহৃত হয়– গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। যদি আগে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকত, তাহলে পুনরুদ্ধার বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটানো যেত। আগেও-বা গণতন্ত্রের অধিষ্ঠান ঘটেছে কোথায়? এর আগেও সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করা হয়নি। যে ধরনের শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠী একটি দেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেন, তেমন জনগোষ্ঠীও এখানে তৈরি করার কোনো সদিচ্ছা কোনো রাজনীতিক রাখেন না বলেই মনে হয়। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো মানবকল্যাণমূলক, আধুনিক, সৃষ্টিশীল, সর্বজনীন শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষা খাতে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। কোনো দেশের গণতন্ত্র স্থবির হয়ে পড়ার পেছনের অনেক কারণের ভেতর এটিও একটি। 

আমাদের দেশে স্থবিরতার প্রায় সব লক্ষণ উপস্থিত। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও তাই এখন পর্যন্ত ক্ষীণ। 

কিছু সহজ বিষয়কে জটিল করে তোলা হচ্ছে। রাজনীতিকরা সর্বক্ষণ গণতন্ত্রের কথা বলছেন। তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে। সামনে নির্বাচন আসছে। নির্বাচন এলে চারপাশে হুজুগ সৃষ্টি করে ভোট বাগিয়ে নেওয়ার প্রবণতা কাজ করে। নিজেদের ধারণাগুলো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে দলগুলো। এমনকি এদের পেছনে এরা বড় একটি জনগোষ্ঠীকেও সমর্থক হিসেবে দেখাতেও সক্ষম হয়। এখানে বিদেশেরও ইন্ধন থাকে। 

রক্তক্ষয়ী গেটিসবার্গ গৃহযুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের দেওয়া বিখ্যাত গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস চিরপ্রাসঙ্গিক। দাসত্ব বিলুপ্তির ঘোষণা এসেছিল সেই ভাষণে, এবং এরই সূত্র ধরে বিখ্যাত একটি বাক্য উচ্চারিত হয়– Government of the people, by the people, for the people। এটিকে গণতন্ত্রের বক্তব্য হিসেবে প্রথমে ওয়াশিংটন থেকে প্রচার করা হয়। এরপর সারা বিশ্বের মানুষ তা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং কথাটি অনেকটাই গণতন্ত্রের ধ্রুপদি সংজ্ঞা হিসেবে স্বীকৃত। ওয়াশিংটনের সততার মতোই তাদের লুকোছাপা ও অসততাও সারা পৃথিবীকে প্রভাবিত করে। 

সব দুর্বল রাষ্ট্রেই বিদেশি শক্তি বহুলাংশে রাজনীতি পরিচালনা করে। যারা মাঠপর্যায়ে সরকার পরিবর্তনে কাজ করে ও যারা এর নেতৃত্ব দেয়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রচুর আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। বাইরে থেকে যে শক্তি কাজ করে তারা আমাদের চাওয়ার অনেক আগে থেকেই লেগে থাকে। তাদের বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ দেশীয় রাজনৈতিক, কখনও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে। কোন কোন প্রক্রিয়ায় তারা এ দেশীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে সেই প্রক্রিয়াগুলো সবার জানা দরকার। পেছনের সেই শক্তিগুলো গণতান্ত্রিক বিকাশের দায়িত্ব পালনে কোনো সহায়তা করে না। তবে ‘গণতন্ত্রের বিকাশে তোমাদের সাহায্য করব’ বলে ঘনিষ্ঠ হয়। আমাদের দেশে বিগত পঞ্চাশ বছরে প্রধানতম রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এ ধরনের অপশক্তির দ্বারা বারবার প্রভাবিত হয়েছেন। 

অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে আসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা। সারা পৃথিবীতে অগণিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো আসার পর নানাভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর চিন্তাভাবনা ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে, এবং এর পেছনে বিদেশি শক্তি ও দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোও ভূমিকা রেখেছে। আমি মনে করি কোনো দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সপক্ষে সবচেয়ে বড় পরিসরে কাজ করতে পারে সেই দেশটির বিরোধী দল। তারা তাদের সংগঠিত করে, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা নিরসনে সরকারের ওপর চাপ দিতে পারে। 

সাতচল্লিশ সাল থেকেই দেখতে পাই, নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রকৃত কল্যাণে, তাদের স্বকীয়তা ও স্বার্থ সংরক্ষণে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা সরকার আন্তরিক উদ্যোগ নেয়নি। তারা শুধু বেশ কিছু আকর্ষণীয় কথা গোষ্ঠীগুলোকে মাঠে রাখার জন্য ব্যবহার করেছে। 

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের শিক্ষাদীক্ষায়, অর্থনৈতিকভাবে বিকশিত হয়ে রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে। নিজেদের একটি পৃথক রাজনৈতিক দলও গড়তে পারে, যদি তারা চায়। আমি মনে করি তাদের ভেতর চিন্তাশীল লোক আছে, এবং রাজনীতিতে আসার মতো মেধা ও অভিজ্ঞতা আছে। সশস্ত্র যে সংগঠনগুলো পাহাড়ে কাজ করছে সেগুলোর দ্বারা এই আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোনো অগ্রগতি হবে বলে আমি মনে করি না। বরং সাধারণ আদিবাসী-সমাজ তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হবে বলে আমি মনে করি। 

গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদের রাজনীতিকদের এ সমস্ত দিকে এবার আন্তরিক দৃষ্টি দেওয়ার সময় এসেছে। গণতন্ত্র, নয়াগণতন্ত্র সম্বন্ধে চিন্তা, স্বচ্ছ ধারণালাভ ও তাদের বাস্তবায়নের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ক্রমেই বাকস্বাধীনতা ও ভারসাম্যপূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পথে আমাদের নিয়ে যাবে, আমি মনে করি। 

আরও পড়ুন

×