ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্মৃতি বিস্মৃতির নীরব জগৎ

স্মৃতি বিস্মৃতির নীরব জগৎ
×

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে গতকাল বুধবার আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের একক প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া কয়েকটি দুর্লভ চিত্র সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে মানুষের ভিড়, রঙিন উৎসব আর কোলাহলের ভেতরেও কখনও কখনও এমন কিছু দরজা খুলে যায়, যার ওপারে সময় থমকে দাঁড়ায়। আলো-ছায়ার সংযত বিন্যাসে সেখানে নিঃশব্দে কথা বলে মানুষ, স্মৃতি আর ইতিহাস। বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে প্রবেশ করলেই তেমন এক নীরব জগৎ; যেখানে প্রতিটি ফ্রেম একেকটি জীবন্ত দলিল।

পাঁচ দশক আগে এই প্রাঙ্গণে তরুণ আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন প্রথমবারের মতো তুলে ধরেছিলেন ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে তাঁর চিন্তাজগৎকে; যেখানে ছিল মানুষের মুখ, সময়ের ছাপ আর ভেতরের গল্প। সেই তরুণ আজ ‘পোর্ট্রেটের কবি’ নামে খ্যাত। তাঁর ৬৭তম একক প্রদর্শনী ‘ফটোজিয়াম: স্মৃতি বিস্মৃতির মুখচ্ছবি’ নিয়ে আবার ফিরেছেন শুরুর ঠিকানায়।

পহেলা বৈশাখ সকালে নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হয় প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান। বর্ধমান হাউসের নিচতলা আর দোতলার দুটি কক্ষ যেন স্মৃতির এক জীবন্ত আকর। প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে একের পর এক সাদাকালো মুখাবয়ব। এগুলো নিছক প্রতিকৃতি নয়। যেন সময়ের স্তর ভেদ করে উঠে আসা অনুভূতি। নাট্যকার সাঈদ আহমদের ছেলেবেলার ছবিতে স্পষ্ট ভবিষ্যতের দীপ্তি; বইয়ে নিমগ্ন হাসান হাফিজুর রহমান যেন জানিয়ে দেন–জীবনের মানে খুঁজতে হলে ডুবে যেতে হয় পাঠের গভীরে। প্রাবন্ধিক যতীন সরকারের চশমার ফাঁক দিয়ে তাকানো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেয় সময়ের দিকে। সিগারেট হাতে যুবক সৈয়দ শামসুল হক কিংবা নাতনির পাশে বসে থাকা আল মাহমুদ–এসব মুহূর্ত ধরা পড়ে ব্যক্তিজীবন আর সৃষ্টিশীলতার অনিবার্য মেলবন্ধনে। প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কিছু দুর্লভ আলোকচিত্র। 

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে পিজি হাসপাতালের একটি বিরল ফ্রেমে একসঙ্গে ধরা পড়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম ও পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন। সাদা-কালো ছবির সংযমী ভাষা আর গভীর বিষয়বস্তু মিলে তৈরি করেছে এক বিশেষ আবহ। যেখানে কথা কম, অনুভব বেশি। প্রদর্শনী দেখতে আসা সরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল হাসান বলেন, ‘আমি নিজেও একজন ফটোগ্রাফার। আমার কাছে এই প্রদর্শনী শুধু দেখার নয়। এটি এক ধরনের পাঠ, যেখানে শব্দ নেই, কিন্তু অর্থ স্পষ্ট। এখানে প্রতিটি মুখই যেন বলে দেয়–সময় চলে যায়, কিন্তু মানুষ থেকে যায় তার কাজ, চিন্তা আর স্মৃতির ভেতর।’ 
বর্ধমান হাউসের দুই ফ্লোরে ৮৫ জন প্রয়াত লেখক ও সাহিত্যিকের ৮৫টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

আরও পড়ুন

×