সংস্কৃতি
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য-দর্শন এখনও সমান প্রাসঙ্গিক
বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে গতকাল সোমবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৮:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সময়ের সীমানা অতিক্রম করে যে ক’জন স্রষ্টা এখনও বাঙালির বোধ, চিন্তা ও সৃজনজগৎকে আলোড়িত করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের শীর্ষে। জন্মের দেড়শ বছরের বেশি সময় পরও তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও মানবিকতা নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।
গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসাহিত্য গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ ও রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় অবদানের জন্য সংগীতশিল্পী বুলবুল ইসলামকে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আমাদের সমকালে অন্ধ রবীন্দ্রভক্তি কিংবা রবীন্দ্রবিরোধিতা– উভয়ই সাহিত্যবিচারের জন্য ক্ষতিকর। রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রতিক জ্ঞানচর্চার আলোকে মুক্ত দৃষ্টিতে আবিষ্কারের পথ তৈরি করতে হবে।’
‘রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের গদ্যসাহিত্যের মধ্যে গল্পগুচ্ছ এমন এক সৃষ্টি, যা তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস এবং কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক রায়হান রাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য সৃষ্টির এত বছর পরও আজ সমান প্রাসঙ্গিক। নিজস্ব রূপরীতি নির্মাণের পাশাপাশি তিনি জনমানুষের জীবনকে গভীরভাবে ধারণ করেছেন।’
আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী লাইসা আহমদ লিসা ও ফারহিন খান জয়িতা। রবীন্দ্রকবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ।
সুরে, স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায় মুস্তাফা জামান আব্বাসী
প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণানুষ্ঠান। আয়োজন করে কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদ ও ইন্টেলেকচুয়াল রিসার্চ সেন্টার (আইআরসি)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতজ্ঞ শেখ সাদী খান বলেন, আব্বাসী ছিলেন প্রকৃত অর্থেই সুফি মানুষ। তাঁর জীবনযাপন, আচরণ, কথা বলার ভঙ্গি– সবকিছুর মধ্যেই ছিল এক ধরনের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য ও মানবিক গভীরতা। সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাজন তৈরি হলে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় দুর্বল হয়ে পড়বে।
স্মরণানুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শরীফ বায়জীদ ও সীমা ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন ইয়াসমিন মুশতারী ও আবু বকর সিদ্দিক। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গান পরিবেশন করেন ফাতেমা তুজ জোহরা।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি
