ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংস্কৃতি

চিত্রের ভেতর কবিগুরুকে ফিরে দেখা

চিত্রের ভেতর কবিগুরুকে ফিরে দেখা
×

রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল রোববার জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। ছবি: সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ | ১০:৪১

জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-২-এ ঢুকতেই মনে হয়, শব্দের কবি যেন হঠাৎ রঙের কবিতে রূপ নিয়েছেন। কোথাও বিষণ্ন মুখাবয়ব, কোথাও বিমূর্ত রেখার গোপন ভাষা, কোথাও আবার বাংলার মাটি, মানুষ ও আত্মার গভীর অনুরণন। ১৬৫তম রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হওয়া ১৪ দিনব্যাপী ‘রবির চিত্র, চিত্রের রবী’ প্রদর্শনী যেন কেবল একটি শিল্প আয়োজন নয়, বরং কবিগুরুকে নতুন চোখে আবিষ্কারের এক নীরব যাত্রা।

গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-২-এ চারুকলা বিভাগের আয়োজনে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে মোট ৯৫টি চিত্রকর্ম। এর মধ্যে রয়েছে– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের আঁকা ৪৫টি চিত্রকর্মের অনুলিপি এবং দেশের বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী, বীরেন সোম, ফরিদা জামান, হামিদুজ্জামান খানসহ আরও অনেকের আঁকা কবিগুরুকে নিবেদিত আরও ৫০টি শিল্পকর্ম।

প্রদর্শনীর দেয়ালে ঝুলে থাকা ৪৫টি ছবিই যেন রবীন্দ্রনাথের আরেকটি অপ্রকাশিত কবিতা। শব্দহীন অথচ গভীর। দর্শনার্থীরা একেকটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে যেন খুঁজে নিচ্ছিলেন কবির অন্তর্জগতের ভাঙা-গড়া, নিঃসঙ্গতা, মানবপ্রেম আর অনন্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কথোপকথন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ যে বহুমুখী এবং বিচিত্র পথে চলাচল করেছেন, তাঁর প্রতিভার অন্যতম দিক এই চিত্রশিল্প। এতে চিত্রশিল্পী রবীন্দ্রনাথকে আরেক রূপে দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন করে পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের দেশের প্রায় হারিয়ে যাওয়া বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়া ঐতিহ্যকে, যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল, কক্ষচ্যুত করা হয়েছিল, আমরা তা পুনরুজ্জীবিত করতে চাই।’

আলোচনা পর্ব শেষে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শুরু হয় কবিগুরু রচিত গান, নৃত্য ও আবৃত্তির পরিবেশনা। রবীন্দ্রসংগীতের সুরে, নৃত্যের ছন্দে আর আবৃত্তির উচ্চারণে মিলনায়তনজুড়ে তৈরি হয় এক অনির্বচনীয় আবহ। যেন কবিগুরুর সৃষ্টি এখনও সমানভাবে স্পন্দিত এই বাংলার সংস্কৃতি ও চেতনাজুড়ে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, অনেকেই আছে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছুই জানে না, কিন্তু কবিগুরুর বিরুদ্ধে একটা লাইন বলে হলেও বিখ্যাত হতে চায়। অথচ রবীন্দ্রনাথ এমন একজন মানুষ ছিলেন, যাকে স্বয়ং মহাত্মা গান্ধীও গভীর সম্মান করতেন। তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমির এই আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের মানবিকতা, শান্তির দর্শন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজচিন্তা। 

প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চল এবং সহকারী কিউরেটর হিসেবে রয়েছেন আয়েশা নাজমীন।

প্রদর্শনী চলবে ২৩ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এটি।

আরও পড়ুন

×