ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নগরীতে দুই আড্ডা

দ্বিমাত্রিক শিল্পীসত্তায় রনবী নীল বিদ্রোহে সৈয়দ জামিল

দ্বিমাত্রিক শিল্পীসত্তায় রনবী নীল বিদ্রোহে সৈয়দ জামিল
×

রাজধানীর ইউপিএল কার্যালয়ে গতকাল সৈয়দ জামিল আহমেদের গবেষণাগ্রন্থ ‘মেমোরিস অব ইনডিগো রেবেলিওন: রিটেইনড, ইরেসড, ট্রান্সমিউটেড’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৮:২৫ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১০:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাহিত্য, চিত্রকলা ও ইতিহাস– এই তিনটি ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও তাদের ভেতরকার আন্তঃসম্পর্কে জড়িয়ে আছে মানুষের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা। এসব বহুমাত্রিক সংযোগের কথা নিয়ে গতকাল শনিবার বসেছিল দুটি ভিন্নধর্মী আড্ডা। 

ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত ‘সাহিত্যে কালি ও কলমের টান: সাহিত্যের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ছিলেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। 
সিটি ব্যাংক নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২৫’ অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন সাজ্জাদ শরিফ, রফিক হক, মাসরুর আরেফিন, সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম এবং সব্যসাচী হাজরা।

লেখক ও গবেষক সাজ্জাদ শরিফ সাহিত্য ও চিত্রকলার সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করেন দার্শনিক ও নন্দনতাত্ত্বিক পরিসরে। তিনি বলেন, অক্ষর ও রূপের সম্পর্ক মানবসভ্যতার বহু পুরোনো ঐতিহ্য। কবিতা যেমন শব্দের ভেতর দিয়ে দৃশ্য নির্মাণ করে, তেমনি চিত্রকলা স্থির ছবির মধ্যেও সময়, অনুভূতি ও ভাবনার প্রবাহ তৈরি করে। 

ইউরোপীয় আধুনিক শিল্পচর্চার নানা উদাহরণ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মার্সেল দুশাঁর ‘ফাউন্টেন’, রেনে মাগ্রিতের ‘দিস ইস নট এ পাইপ’ কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা কাটাকুটির ভেতর থেকে চিত্ররূপের জন্ম। 

সাহিত্য ও চিত্রকলা একে অপরকে প্রভাবিত করলেও সাজ্জাদ শরিফ মনে করেন, সাহিত্য দিয়ে ‘অন্ধকার, আদিমতা কিংবা বীভৎসতাকে সবসময় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি’। বরং এসব অনেক সময় চিত্রকলার মাধ্যমে ‘বিস্ফোরিত’ হয়েছে। আর্জেন্টিনায় ‘ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর উৎসাহে রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার বিকাশ’ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সাহিত্যের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ লেখ্যরূপের আগে থেকে উল্লেখ করে আলাপে অংশ নেন সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম। কথার ধারাবাহিকতায় তিনি যোগ করেন, গুহাচিত্র এর প্রমাণ। 

অন্যদিকে, বেলা ১১টায় গ্রিনরোডে ইউপিএল কার্যালয়ে প্রকাশিত হয় গবেষক ও নাট্যনির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদের গবেষণাগ্রন্থ ‘মেমোরিস অব ইনডিগো রেবেলিওন: রিটেইনড, ইরেসড, ট্রান্সমিউটেড’। বইটিতে ঔপনিবেশিক বাংলার নীল বিদ্রোহের ইতিহাস, জনস্মৃতি এবং সমকালীন সমাজে তার প্রভাব বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এই বই নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন নিয়াজ জামান, মেঘনা গুহঠাকুরতা, মানস চৌধুরী এবং নাজিয়া মনজুর। তারা বলেন, ১৮৫৯ থেকে ১৮৬২ সালের নীল বিদ্রোহ শুধু একটি কৃষক আন্দোলন ছিল না; এটি বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত এক অভিজ্ঞতা। 

বাংলাদেশের ১৪টি জেলায় মাঠ পর্যায়ের গবেষণা, পুরোনো দলিল এবং মানুষের মৌখিক স্মৃতির ভিত্তিতে রচিত এই গ্রন্থে দেখানো হয়েছে, কীভাবে নীল বিদ্রোহের স্মৃতি কখনও সংরক্ষিত হয়েছে, কখনও মুছে গেছে, আবার কখনও নতুনভাবে ব্যাখ্যা হয়েছে; নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ, লোককথা, সাংস্কৃতিক চিহ্ন ও জনস্মৃতির মধ্য দিয়ে এই বিদ্রোহ এখনও বাংলাদেশের সামাজিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। 

আরও পড়ুন

×