সংস্কৃতি
সুরে-ছন্দে শ্রমের উচ্চারণ
মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে তূর্যশিকড়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের পরিবেশনা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৭:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিকেলের নরম আলো যখন ধীরে ধীরে গাঢ় হতে শুরু করে, তখন আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত মঞ্চ যেন রূপ নেয় একটি প্রতীকী প্রান্তরে। যেখানে ইতিহাস, সংগ্রাম আর শিল্প হাত ধরাধরি করে দাঁড়ায়। মহান মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিটি ছিল ঠিক তেমনই একটি সম্মিলিত শিল্পযাত্রা। যেখানে প্রতিটি কণ্ঠ, প্রতিটি পদক্ষেপ শ্রমজীবী মানুষের কথা বলে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট এই আয়োজনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। প্রধান আলোচক হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিকের অবস্থান বিশ্লেষণ করেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান, যিনি শিল্প ও সংগ্রামের এই ঐক্যকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরপর মঞ্চজুড়ে শুরু হয় পরিবেশনার ধারাবাহিকতা। যেখানে প্রতিটি অংশ যেন আরেকটির সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হয়ে তৈরি করে একটি বৃহত্তর বয়ান। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর কণ্ঠে স্বাধীনতার অপূর্ণতার আক্ষেপ যেমন ধ্বনিত হয়েছে, তেমনি ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী সেই ইতিহাসকে টেনে এনেছে ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের রক্তাক্ত প্রেক্ষাপটে। বহ্নিশিখা ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় ছিল প্রতিবাদের ঢেউ, কখনও নিপীড়িত মানুষের জয়গান।
এই ধারাবাহিকতায় আনন্দন, ভিন্নধারা, উঠোন, সুরতাল, সমস্বর ও পঞ্চভাস্করের পরিবেশনা যেন একই গল্পের ভিন্ন অধ্যায়। বহ্নিশিখার নৃত্যে অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, ধৃতি নর্তনালয়ের পরিবেশনায় কৃষিজীবনের ছন্দ, আর স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্রের নৃত্যে ছিল যাত্রার আহ্বান।
ছায়ানটে সাংস্কৃতিক আয়োজন
মে দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘তূর্যশিকড়’-এর উদ্যোগে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট মূল মিলনায়নে ‘মানুষের শ্রম, মানুষের জয়’ শীর্ষক এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী মফিদুল হক। তিনি বলেন, তূর্যশিকড়ের এই আয়োজন বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়কে আরও দৃঢ় করবে। সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের সমন্বয়ে এক মনোরম প্রযোজনা উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে কবিতা ও গানে শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম তুলে ধরা হয়। ছিল সাংস্কৃতিক দল জলতরঙ্গ, স্বনন ঢাকা, নৃত্য নিকেতন, গানের তরী বাংলাদেশ, ঢাকা ড্যান্স অ্যান্ড আর্ট সেন্টার ও মুক্তধারা নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনাও।
অনুষ্ঠানে তুর্যশিকড়ের সভাপতি সুমনা শিল্পী প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও উপহার দেন।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি
