ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রামের বীরগাথায় স্মরণ সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম

সংগ্রামের বীরগাথায় স্মরণ সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম
×

রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার ‘রবীন্দ্রনাথের বাঁশি’ শীর্ষক আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আবৃত্তি সংগঠন শ্রুতিঘর। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আবৃত্তিশিল্পীরা সমবেত ও একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০১ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, নারী জাগরণ ও প্রগতিশীল সমাজচিন্তার ইতিহাসে দুটি নাম পাশাপাশি উচ্চারিত হয় গভীর শ্রদ্ধায়– কবি বেগম সুফিয়া কামাল ও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে কাজ করলেও দুজনের জীবনেই মিলেছে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, মানবিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল অঙ্গীকার। তাদের সেই সংগ্রামী জীবন ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান ‘তাঁদের সংগ্রামের বীরগাথা’।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মিলনায়তনে এ আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিরা। কাব্য, সংগীত, নৃত্য ও জীবনালেখ্য কথনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় বাংলাদেশের দুই মহীয়সী নারীকে। তাদের সাহিত্যকর্ম থেকে পাঠ ও আবৃত্তির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, নারী জাগরণ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে তাদের ভূমিকার নানা দিক উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
আয়োজনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সারা যাকের। তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমামের জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ এবং মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ নির্মাণের যে আকাঙ্ক্ষা তাদের জীবন ও কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা।

কবিতার পঙ্‌ক্তি, কথনের আবহ আর গানের সুরে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় দুই সংগ্রামী নারীর জীবনপথ। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ ও ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’। এর সঙ্গে ছিল গণসংগীত ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’। সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক সমাজ এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা।
সুফিয়া কামালের জীবন ছিল সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারও এক দীর্ঘ অধ্যায়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা তাঁকে পরিণত করেছে এক অনন্য সামাজিক ব্যক্তিত্বে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কবিতা ও গদ্যের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হয়েছে প্রতিবাদী চেতনা ও মুক্তচিন্তার প্রত্যয়।

জাহানারা ইমামের জীবনেও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে নতুন এক সংগ্রামের জন্ম দেয়। মুক্তিযুদ্ধে ছেলে রুমীর আত্মত্যাগ এবং একাত্তরের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা তিনি ধারণ করেছিলেন তাঁর স্মরণীয় গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’তে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান মুখ। ১৯৯২ সালে গণআদালত আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে তিনি জনপরিসরে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। তাঁর সেই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
স্মরণানুষ্ঠানে সুফিয়া কামালের রচনা থেকে পাঠ করেন সানজিদা সোহেলী। জাহানারা ইমামের রচনা থেকে পাঠ করেন সুপ্রভা সেবন্তী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন তাপস হাওলাদার ও ইমরুন নাহার ইমু। সংগীত পরিবেশন করেন মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা, পূরবী দে সেমন্তী, অর্ণব বড়ুয়া ও মইনুর রহমান খান। নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা।

আরও পড়ুন

×