ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নতুন মায়ের নিজের যত্ন

নতুন মায়ের নিজের যত্ন
×

.

শিরিন আক্তার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫১

সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন মায়ের জীবনে আসে বিশাল পরিবর্তন। মা হওয়া নিঃসন্দেহে একটি আশীর্বাদ। এই নতুন ভূমিকা নেওয়ার পথে মাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পাড়ি দিতে হয় অনেকটা কঠিন পথ। নতুন মা মানেই নিদ্রাহীন রাত, বুকভরা টানাপোড়েন আর নিজের জন্য সময়ের অভাব। সন্তানের পরিচর্যায় পুরোটা সময় ঢেলে দেওয়ার মধ্যে নিজের যত্ন নেওয়া কোথায় যেন হারিয়ে যায়! মায়েরা নিজের কথা ভাবতেই ভুলে যান।   
এই নিজেকে ভুলে যাওয়া অনেক সময় নতুন মায়ের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই একজন মা হিসেবে আপনার নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়– এটি প্রয়োজন, দায়িত্ব এবং ভালো থাকার উপায়। 
নিজের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হোন
নতুন মা হলে সবসময় সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারে না–এটিই স্বাভাবিক। রাত জেগে বাচ্চাকে খাওয়ানো, কখনও হয়তো সময়মতো নিজের খাওয়া হয়নি–এসব নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করবেন না। ভুল হতে পারে, ক্লান্তি আসবে–আপনি একজন মানুষ এটিই মেনে নিন।
নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। আপনি যত বেশি মানসিকভাবে স্থির থাকবেন, তত ভালোভাবে বাচ্চার যত্ন নিতে পারবেন।
শরীরের যত্ন নিন ধীরে ধীরে
প্রসবের পর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সিজারিয়ান ডেলিভারি হলে দুর্বলতা বেশি স্থায়ী হয়। তাই ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে হবে।
হালকা হাঁটাহাঁটি শুরু করুন–তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রচুর পানি পান করুন। এতে বুকের দুধ বাড়ে এবং শরীর ডিহাইড্রেট হয় না। পুষ্টিকর খাবার যেমন ডিম, দুধ, সবজি, মাছ, ফল ইত্যাদি খান। প্রতিদিন অন্তত একবার বিশ্রাম নিন, এমনকি ১৫ মিনিট হলেও।
নিজের মতো করে সময় কাটান
নতুন মা হলে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন। তবে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন। একটা বই পড়া, প্রিয় গান শোনা, চুলে তেল লাগানো কিংবা একটা মুভি দেখা–এই সময়গুলো আপনাকে মানসিকভাবে অনেক হালকা করে দেবে।
শিশু ঘুমিয়ে গেলে চাইলে নিজেও একটু চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে পারেন। ঘুম হলো নতুন মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় ওষুধ।
সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না
সবকিছু একা সামলানোর দরকার নেই। বরং স্বামী, পরিবার, বন্ধু বা একজন সাহায্যকারীর সাহায্য নিন। বাচ্চা দেখার দায়িত্ব কিছুক্ষণ কাউকে দিয়ে আপনি একটু নিজেকে সময় দিন।
বাচ্চা কখন খেয়েছে, কতক্ষণ ঘুমিয়েছে এসব নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রযুক্তির সহায়তাও নিতে পারেন। অনেক মমি অ্যাপ বা প্ল্যানার এই কাজে দারুণ সহায়ক।
অনুভূতির খেয়াল রাখুন
অনেক নতুন মা মানসিক চাপ বা বিষণ্নতায় ভোগেন, যাকে বলা হয় পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। অতিরিক্ত কান্না, নিজের প্রতি বিরক্তি, ক্লান্তি, মন খারাপ থাকলে সেটিকে হালকাভাবে নেবেন না, এটি খুব স্বাভাবিক অবস্থা। তবে তা নিয়ে কথা বলা দরকার, আপনজনদের কাছে মনের কথা খুলে বলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নিন। আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সন্তানের ভালো থাকার জন্য জরুরি।
নিজেকে একটু সাজান
একজন নতুন মা যখন আয়নায় তাকিয়ে নিজের ক্লান্ত মুখ, এলোমেলো চুল দেখেন, তখন তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। তাই সময় পেলেই চুল আঁচড়ান, হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান, পরিপাটি পোশাক পরুন। এতে আপনি নিজেকে একটু অন্যভাবে দেখতে পাবেন। সাজ মানেই ভারী মেকআপ নয়। পরিষ্কার, গোছানো চেহারা ও পোশাক এটুকুই যথেষ্ট।
ভালো থাকার অনুভবটাই গুরুত্বপূর্ণ
নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া মানে স্বার্থপর হওয়া নয়। বরং আপনি যদি ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন, তখনই শিশুর জন্য আপনি পুরোপুরি নিবেদিত হতে পারবেন। তাই নিজের যত্নে সময় ব্যয় করাটা দায়িত্বের বাইরে নয়, বরং সেটিই দায়িত্ব। নতুন মা হওয়া মানে জীবন বদলে যাওয়া। এই পরিবর্তনের মধ্যে নিজেকে ভুলে গেলে চলবে না। আপনার শরীর, মন, আবেগ সবকিছুর খেয়াল রাখা দরকার। কারণ একজন খুশি মা মানেই একজন সুস্থ শিশু। v

আরও পড়ুন

×