টবের গাছের যত্ন
শৈলী ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৭:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গ্রীষ্মের তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া টবের গাছের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গরমের সময় প্রায়ই দেশের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এ সময় গাছের পাতা শুকিয়ে যায় এবং ফুল ও ফল ঝরে পড়ে। তবে সঠিক যত্ন নিলে এ সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
গরমকালে পানি দেওয়ার সঠিক সময় হলো সকাল বা সন্ধ্যা। প্রচণ্ড গরমে গাছে পানি দিলে পানি গাছের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এ জন্য গরমের সময় গাছে পানি দিতে সকালের ঠান্ডা আবহাওয়া বেছে নিন। তাহলে বাষ্পীভবনের জন্য পানি নষ্ট না হয়ে মাটির ভেতরের দিকে ভালোভাবে যেতে পারবে। পাশাপাশি গাছগুলো সারাদিন পানি পাবে আর ভালোভাবে সূর্যের তাপ মোকাবিলা করতে পারবে। ছোট অথবা ঝোলানো টবে যেহেতু মাটি কম থাকে, তাই সেগুলোয় সকাল এবং রাতে দুবার পানি দিতে হবে। দুপুরের রোদে পানি দিলে তা দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ফলে গাছ পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পায় না। বড় টবে প্রতিদিন ১-২ লিটার এবং ছোট টবে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি দেওয়া যেতে পারে। তবে পানি দেওয়ার আগে মাটি পরীক্ষা করা জরুরি। আঙুল দিয়ে ২-৩ ইঞ্চি গভীরে মাটি শুকনো মনে হলে তবেই পানি দিন।
মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং কার্যকর একটি পদ্ধতি। টবের ওপর ২-৩ ইঞ্চি পুরু করে কোকোপিট বা কাঠের খোসা ছড়িয়ে দিলে মাটি দ্রুত শুকায় না এবং শিকড় সুরক্ষিত থাকে। এতে মাটির গুণগত মান ভালো থাকে। স্যান্ডি লোম মাটির সঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ ভার্মি কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করলে মাটি উর্বর হয় এবং পানি ধরে রাখতে পারে। প্রতি ১৫ দিনে একবার জৈব সার ব্যবহার করা ভালো আর রাসায়নিক সার এড়িয়ে চলাই উত্তম। রোদ থেকে গাছকে সুরক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সব গাছ সরাসরি তীব্র রোদ সহ্য করতে পারে না। তাই দিনে ৪-৬ ঘণ্টা রোদ পায় এমন আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানে টব রাখুন। হালকা রঙের টব ব্যবহার করলে তাপ কম শোষিত হয়। অতিরিক্ত গরমে টবের চারপাশে ভেজা কাপড় জড়িয়ে দিলে শিকড় ঠান্ডা থাকে।
গরমের দিনে গাছের শুকনো পাতা নিয়মিত কেটে ফেলুন। কোনো পাতার ডগা শুকিয়ে গেলে সেই অংশটা কেটে ফেলুন। কারণ সেই অংশে পুষ্টি জোগাতে গাছ দ্বিগুণ খাটবে।
গ্রীষ্মে কীটপতঙ্গের আক্রমণ বেড়ে যায়। নিম তেল মিশ্রিত পানি সপ্তাহে একবার স্প্রে করলে পোকামাকড় দূরে থাকে। গাছের পাতা পরিষ্কার রাখলে গাছ সুস্থ থাকে।
কিছু গাছ গরমেও সহজে টিকে থাকে। যেমন অ্যালোভেরা, মানি প্লান্ট, ল্যাভেন্ডার, জুঁই, রোজমেরি ও পুদিনা। এসব গাছ তুলনামূলক কম যত্নেই ভালো থাকে। চারাগাছের বড় শত্রু আগাছা। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। তাই এসব আগাছা ছাঁটাই করলে চারা যেমন দ্রুত বড় হবে, তেমনি সতেজও থাকবে।
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক যত্নের মাধ্যমে গ্রীষ্মের রুক্ষ আবহাওয়াতেও আপনার টবের গাছ থাকবে সবুজ, সতেজ ও প্রাণবন্ত। v
- বিষয় :
- গাছ
