ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেকআপের যে ভুলে বয়সের ছাপ বাড়ে

মেকআপের যে ভুলে বয়সের ছাপ বাড়ে
×

অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহারে ত্বক বয়সী দেখাতে পারে মডেল: অলিভা; ছবি: মঞ্জু আলম

সুরাইয়া হেনা

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩০ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ত্বকের খুঁত ঢাকার জন্য মেকআপ করা হয় না। মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে মুখে মেকআপ ব্যবহার করেন রূপসচেতন অনেক নারী। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য বেছে নিয়ে পরিমিতভাবে মেকআপ করলে চেহারায় আসে সতেজতা, ঔজ্জ্বল্য ও পরিপাটি ভাব। কিছু সাধারণ ভুলের কারণে মেকআপের ফল হতে পারে উল্টো। অতিরিক্ত মেকআপ, ভুল শেড বা সঠিকভাবে ত্বক প্রস্তুত না করার কারণে মুখ ভারী, ক্লান্ত কিংবা তুলনামূলক বয়সী দেখাতে পারে। তাই মেকআপ করার সময় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত তা জেনে নেওয়া জরুরি।

ত্বক প্রস্তুত না করে মেকআপ
মেকআপের আগে ত্বক প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ফাউন্ডেশন ত্বকে সমানভাবে বসতে চায় না। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকে মেকআপ খসখসে দেখাতে পারে এবং সূক্ষ্ম রেখার আশপাশে জমে সেগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। তাই মেকআপের আগে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।

অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন
দাগ-ছোপ বা অসম ত্বকের রং ঢাকতে অনেকে ফাউন্ডেশনের একাধিক স্তর ব্যবহার করেন। এতে ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচার ঢাকা পড়ে মুখ ভারী ও কৃত্রিম দেখাতে পারে। পাশাপাশি সূক্ষ্ম রেখায় ফাউন্ডেশন জমে গেলে সেগুলো আরও দৃশ্যমান হয়। পুরো মুখে ভারী বেস তৈরির বদলে পাতলা স্তরে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় জায়গায় কনসিলার দিয়ে বাড়তি কভারেজ দেওয়া ভালো। 

ভুল শেডের কনসিলার
চোখের নিচের কালচে ভাব ঢাকতে কনসিলার বেশ কার্যকর। তবে ত্বকের রঙের তুলনায় খুব বেশি ফ্যাকাশে বা উজ্জ্বল শেড বেছে নিলে চোখের নিচের অংশ অস্বাভাবিক দেখাতে পারে। আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কনসিলার ব্যবহার করলে তা সূক্ষ্ম রেখায় জমে যেতে পারে। অল্প পরিমাণ কনসিলার ব্যবহার করে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে স্বাভাবিক ফল পাওয়া যায়। 

পাউডারের অতিরিক্ত ব্যবহার
মেকআপ সেট করতে পাউডার ব্যবহার করা হলেও অতিরিক্ত পাউডার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্য কমিয়ে দিতে পারে। এতে মুখ শুষ্ক দেখানোর পাশাপাশি সূক্ষ্ম রেখা ও ত্বকের টেক্সচারও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই পুরো মুখে মোটা করে পাউডার দেওয়ার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী, বিশেষ করে যেসব অংশে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দেখা দেয়, সেখানে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা ভালো। 

ভুল জায়গায় ব্লাশ
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ব্লাশ মুখে সতেজতা ও স্বাভাবিক আভা এনে দেয়। গালের নিচের দিকে অতিরিক্ত ব্লাশ লাগালে মুখের গঠন ভারী বা নিচের দিকে টানা মনে হতে পারে। তাই গালের স্বাভাবিক গঠন অনুসরণ করে হালকা হাতে ব্লাশ লাগিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করা উচিত। ত্বকের সঙ্গে মানানসই শেড বেছে নিলে মেকআপ আরও স্বাভাবিক দেখায়।

অতিরিক্ত হাইলাইটার
মুখের নির্দিষ্ট অংশ উজ্জ্বল করে তুলতে হাইলাইটার ব্যবহার করা হয়। তবে অতিরিক্ত শিমারি বা চকচকে হাইলাইটার ত্বকের অসম টেক্সচার ও সূক্ষ্ম রেখাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হাইলাইটার ব্যবহার না করে মুখের উপযুক্ত অংশে হালকা হাতে লাগানোই ভালো।

চোখের মেকআপে অতিরিক্ত ভার
চোখের চারপাশের ত্বক তুলনামূলক পাতলা ও সংবেদনশীল। নিচের ল্যাশলাইনে খুব মোটা বা গাঢ় কাজল ও আইলাইনার ব্যবহার করলে চোখকে ছোট বা ভারী দেখাতে পারে। একইভাবে বেশি পাউডারি আইশ্যাডো চোখের পাতার সূক্ষ্ম রেখায় জমে যেতে পারে। তাই হালকা হাতে আই-মেকআপ করে ভালোভাবে ব্লেন্ড করলে চেহারায় ভারী ভাব আসে না।

অতিরিক্ত গাঢ় বা ভারী ভ্রু
ভ্রু মুখের সামগ্রিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভ্রু অতিরিক্ত গাঢ়, মোটা বা খুব নির্দিষ্ট আকৃতিতে আঁকলে মুখের স্বাভাবিক কোমলতা কমে চেহারা ভারী দেখাতে পারে। তাই ভ্রুর ফাঁকা জায়গাগুলো হালকা হাতে পূরণ করে প্রাকৃতিক আকৃতি বজায় রাখা এবং প্রয়োজনমতো ব্লেন্ড করা ভালো।

বয়সের ছাপ আড়াল করতে মেকআপের স্তর বাড়ানোর বদলে ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য ও কৌশল বেছে নিতে হবে। পরিমিত ও সঠিকভাবে করা মেকআপে চেহারায় আসে সতেজ, স্বাভাবিক ও পরিপাটি সৌন্দর্য। 

আরও পড়ুন

×