ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রচ্ছদ

রূপচর্চায় কোরিয়ান ধারা

রূপচর্চায় কোরিয়ান ধারা
×

ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার জরুরি মডেল: রাইজা; মেকওভার: রেড বিউটি স্যালন; ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

রুমী আমীর

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের মূল কথা
ত্বকের যত্নে সবচেয়ে জরুরি 

হলো নিয়মিত পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনে সানস্ক্রিন লাগানো। কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের সব ধাপ অনুসরণ না করেও সহজ রুটিন তৈরি করা যায়। সকালে মৃদু ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে ত্বক পরিষ্কার করে প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার বা উপযোগী সিরাম লাগালে 
ত্বক ভালো থাকবে। 

সৌন্দর্য প্রসাধনীর বৈশ্বিক মানচিত্রে কে-বিউটি আজ এক যুগান্তকারী বিপ্লবের নাম। এ দেশের তরুণীরাও ঝুঁকেছেন কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের মূল দর্শন ‘ত্বকের যত্নই আসল মেকআপ’-এর দিকে। মুখ উজ্জ্বল করার চেয়ে ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ, পুষ্ট ও হাইড্রেটেড রাখা এবং কাঙ্ক্ষিত গ্লাস স্কিন বা কাচের মতো স্বচ্ছ ত্বক অর্জন করা এখন তাদের মূল লক্ষ্য। 
কে-বিউটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লেয়ারিং, অর্থাৎ ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ধাপে বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করা। ত্বক পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ময়েশ্চারাইজিং, প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা–প্রতিটি ধাপের জন্য রয়েছে আলাদা ধরনের পণ্য। ফলে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে একটি পূর্ণাঙ্গ স্কিন কেয়ার রুটিন তৈরি করা যায়। 

ঘরে বসে কোরিয়ান ধাঁচের ত্বকের যত্ন
ঘরে বসে ধাপে ধাপে কোরিয়ান পদ্ধতিতে রূপচর্চার পরামর্শ দিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী ও বিউটি আর্টিস্ট আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, কোরিয়ান ধাঁচের ত্বকের যত্নের মূল কথা হলো–ত্বককে পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখা। এর জন্য সবসময় পার্লারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক নিয়ম মেনে ঘরে থেকেই ত্বকের সুন্দর যত্ন নেওয়া সম্ভব।

প্রথম ধাপ: ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করা
দিন শেষে ত্বক থেকে মেকআপ, সানস্ক্রিন, ধুলাবালি ও অতিরিক্ত তেল ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রথমে তেল বা মেকআপ পরিষ্কার করার উপযোগী প্রসাধনী দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: মৃত কোষ পরিষ্কার করা
ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করার জন্য সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন মৃদু ধরনের ত্বক পরিষ্কারকারী ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রতিদিন এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

তৃতীয় ধাপ: টোনার ব্যবহার
মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে টোনার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বককে পরবর্তী পরিচর্যার জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

চতুর্থ ধাপ: ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনা
এই ধাপে হালকা ধরনের তরল পরিচর্যাকারী ব্যবহার করা যেতে পারে; যা ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আরও সতেজ ও কোমল দেখাতে পারে।

পঞ্চম ধাপ: প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচর্যা
ত্বকের ধরন ও সমস্যার ওপর নির্ভর করে এই ধাপে বিশেষ পরিচর্যার প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা আর্দ্রতা ধরে রাখার উপযোগী প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক যদি নিষ্প্রভ হয়, তাহলে ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সহায়ক উপাদানসমৃদ্ধ প্রসাধনী বেছে নেওয়া যেতে পারে। বয়সের ছাপ কমানোর জন্যও নির্দিষ্ট পরিচর্যা রয়েছে। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যবহার করা ভালো।

ষষ্ঠ ধাপ: চোখের চারপাশের যত্ন
চোখের চারপাশের ত্বক খুবই কোমল ও সংবেদনশীল। সে জন্যে এই অংশে আলাদা করে হালকা পরিচর্যাকারী ব্যবহার করা যেতে পারে।
চোখের চারপাশে কখনও জোরে ঘষবেন না। অনামিকা আঙুল দিয়ে খুব আলতোভাবে চাপ দিয়ে লাগাতে হবে।

সপ্তম ধাপ: ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্বক তৈলাক্ত হলেও ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করতে হবে।

অষ্টম ধাপ: অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য তেল
যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা রাতে ময়েশ্চারাইজারের পর এক থেকে দুই ফোঁটা উপযুক্ত মুখের তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে এটি ব্যবহার করার আগে সতর্ক হতে হবে।

নবম ধাপ: রাতের বিশেষ পরিচর্যা
রাতে ঘুমানোর আগে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ত্বকের জন্য বিশেষ ঘুমকালীন মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি রাতের পরিচর্যার শেষ ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
কোরিয়ান পদ্ধতিতে রূপচর্চায় সহজেই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। 

এক্সফোলিয়েশন
ত্বক এক্সফোলিয়েট করার জন‍্য চিনি বা কফির সঙ্গে যে কোনো তেল মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এরপর মুখে ভালোভাবে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে তারপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে মেকআপ ডাস্ট, অতিরিক্ত তেল, মৃত চামড়া, হোয়াইট বা ব্ল্যাক হেডস সবকিছু পরিষ্কার করা যায়। সপ্তাহে দুবারের এক্সফোলিয়েশন বেশি করা ঠিক নয়। 

ডাবল ক্লিনজিং
ত্বক পরিষ্কার করতে কোরিয়ানরা প্রাকৃতিক ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ তেল দিয়ে ম্যাসাজ করে। চাইলে অলিভ অয়েল, খাঁটি নারকেল তেল, সরিষার তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তেল ম্যাসাজ করতে হবে নিচে থেকে ওপরে দুই-তিন মিনিট। তারপর তুলা হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে মুখমণ্ডল পরিষ্কার করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ঘরে তৈরি ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মধুর সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এতে সামান্য পরিমাণে হলুদ মিশিয়ে সেটি দিয়ে মুখ ম্যাসাজ করে পরিষ্কার করতে হবে। তারপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

স্কিন টোনিং
টোনার হিসেবে কোরিয়ান স্কিন কেয়ারে ব্যবহার হয় চাল ধোয়া পানি। প্রথম দুবার চাল ধোয়ার পর পানি ফেলে দিয়ে তৃতীয় বার চাল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে যে পানি বের হবে সেই পানি নিতে হবে। একটি কটন প‍্যাড বা টিস্যুর সাহায্যে এ চালের পানি সোক করে ত্বকে সুন্দর করে লাগাতে হবে। এটি ত্বকের টোনার হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া শসার রস, গোলাপজল, বেদানার রস, আপেল সাইডার ভিনেগার ব‍্যবহার করা যায়।

এসেন্স 
কোরিয়ান স্কিন কেয়ারে এসেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বককে আর্দ্র এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে। এক চামচ গোলাপজলের সঙ্গে আধা চামচ মরক্কোর আরগান তেল মিশিয়ে এটি ব্যবহার করতে হবে। গোলাপজল ত্বকের পোরস মিনিমাইজ করবে এবং আরগান তেল সঠিকভাবে হাইড্রেট করে ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনে। এ কারণে এ তেলকে ‘লিকুইড গোল্ড’ বলা হয়। একটি কটন প‍্যাডের সাহায‍্যে এ তরল প্রয়োগ করতে হবে।

রাইস মাস্ক
রাইস মাস্কের জন্য প্রথম দুবার চাল ধোয়ার পর পানি ফেলে দিতে হবে। তৃতীয় বার চাল ভিজিয়ে রেখে সেই চালের পানিসহ সেদ্ধ করে নিতে হবে। যখন চালের পাতলা মাড় হবে, তখন নামিয়ে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা হলে এক চামচ মধু মিশিয়ে ব্লেন্ড করে আঠালো পেস্ট তৈরি করুন। এটি ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সপ্তাহে এক দিন এটি ব্যবহার করা যাবে।

গ্রিন টির সতেজতা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ গ্রিন টি ত্বকের যত্নে খুবই জনপ্রিয়। এক টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে এক টেবিল চামচ ঠান্ডা সবুজ চা নিন। এটি চোখ বাদে পুরো মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার বা দুবার ব্যবহার করুন। 

আই ক্রিম
চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল, ফোলা ভাব দূর করতে এক চামচ অ্যালোভেরা জেল, এক চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল, আধা চামচ গ্লিসারিন, একটি ভিটামিন-ই সিরাম ভালো করে মিশিয়ে বানিয়ে নেওয়া যাবে ঘরোয়া আই ক্রিম। এটি ব্যবহার করার সময় আইবেল দুই আঙুল দিয়ে হালকা করে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এতে চোখে আরাম অনুভব হবে। বলিরেখার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে শসার রস, বেদানার রস, ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ব্যবহার করতে পারেন। 
 

আরও পড়ুন

×