ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাসিতে ভালো থাকুন

হাসিতে ভালো থাকুন
×

মন খুলে হাসলে মস্তিষ্ক থেকে সুখী হরমোন নিঃসৃত হয় মডেল: তমা; ছবি: কাব্য

রোজী আরেফিন 

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

মন খুলে এক ফালি হাসি নিমেষেই দূর করে দিতে পারে সারাদিনের ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ এবং কর্মব্যস্ততার যান্ত্রিকতা। লিখেছেন রোজী আরেফিন 

আধুনিক জীবনের নানা চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক উৎকণ্ঠা এবং প্রতিযোগিতার দৌড় আমাদের মুখ থেকে কেড়ে নিচ্ছে অমূল্য হাসি। অথচ এ ছোট্ট স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তিটি বদলে দিতে পারে আমাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান। হাসি কেবল মুখের সৌন্দর্য বা বাহ্যিক প্রকাশভঙ্গি বাড়ায় না, এটি মানব শরীর ও মনের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক মহৌষধ।

শরীর, মন এবং সম্পর্ক ভালো থাকে
মন খুলে হাসলে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপ্ত হয় এবং মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোরফিন ও ডোপামিনের মতো আনন্দদায়ক হরমোনগুলো নিঃসৃত হয়। এ রাসায়নিক উপাদানগুলো প্রাকৃতিকভাবে মন ভালো রাখে এবং শরীরের যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা কষ্ট কমাতে ব্যথানাশকের মতো কাজ করে। একই সঙ্গে এটি শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। শুধু মানসিক প্রশান্তি নয়, প্রাণখোলা হাসির সময় হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া হাসির কারণে শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা ও অ্যান্টিবডির কার্যকারিতা বাড়ে; যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে এবং কোষে কোষে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে পুরো শরীরকে সজীব ও চনমনে রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসি অত্যন্ত সংক্রামক; আপনি যখন কারও সামনে আন্তরিকভাবে হাসেন, তখন অবচেতনভাবেই আপনার কাছের মানুষটির মনেও এক ধরনের স্বস্তি ও ইতিবাচকতার সৃষ্টি হয়। এটি একাকিত্ব, মানসিক অবসাদ এবং বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী একটি মনস্তাত্ত্বিক মাধ্যম। 

দৈনন্দিন জীবনে হাসি ফিরিয়ে আনার সহজ উপায়
ব্যস্ততা, মানসিক চাপ ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রার ভিড়ে অনেক সময় আমাদের মুখ থেকে হাসি হারিয়ে যায়; যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অথচ একটু সচেতনতা ও ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে প্রতিদিনের জীবনে অনায়াসে হাসি ও আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করুন
প্রতিদিনের জীবন থেকে ছোট্ট কোনো প্রাপ্তি, সুন্দর মুহূর্ত বা প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার মানসিকতা তৈরি করুন–এগুলো ভেতর থেকে আপনার মনকে বেশ প্রফুল্ল রাখবে।
ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে সময় কাটান
অতিরিক্ত নেতিবাচক ও বিষণ্ন মানুষদের এড়িয়ে চলুন এবং যারা রসিকতা বোঝেন বা আপনাকে সহজে হাসাতে পারেন, তাদের সান্নিধ্যে থাকুন। ইতিবাচক মানুষ সবকিছু বেশ ইতিবাচকভাবে নিতে পারে; তাই বন্ধু হিসেবে তাদের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করুন।

নিজেকে নিয়ে হাসতে শিখুন
নিজের ছোটখাটো ভুল বা বোকামি নিয়ে নিজে হাসতে পারা এক ধরনের মানসিক পরিপক্বতা– এটি  মনকে নিমেষে হালকা এবং চিন্তাবিহীন করে দেয়।
হাস্যরসাত্মক বিনোদন উপভোগ করুন
কাজের ফাঁকে পছন্দের কোনো কমেডি শো, মজার বই পড়া বা কৌতুক শোনার অভ্যাস করুন। এটি মানসিক ক্লান্তি এক নিমেষে দূর করে আপনাকে বেশ রিল্যাক্সড করে দেবে।

আয়নার সামনে একাই হাসুন
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অন্তত ১ মিনিট নিজের দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসার অভ্যাস করুন! সকালের শুরুতে এমন চেষ্টা আপনার মস্তিষ্কে ইতিবাচক স্নায়বিক সংকেত পাঠায়। ফলে আপনার পুরোটা দিনের একটা শুভসূচনা হয়।
জীবনে যত সমস্যা থাকুক, এমনকি হাজারো ব্যস্ততা আর দুশ্চিন্তার ভিড়েও নিজের মুখে হাসি টিকিয়ে রাখুন। কারণ, একটি সুন্দর হাসি শুধু আপনার নিজের জীবনকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে না বরং আশপাশের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে। 
কঠিন পরিস্থিতিতে মন খুলে হাসতে পারা এক ধরনের মানসিক শক্তি; যা জীবনের যে কোনো প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহস জোগায়। মন খারাপের মেঘ কাটিয়ে একটি মুচকি হাসি চারপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয় ইতিবাচকতার এক অপূর্ব ছোঁয়া। তাই সব ক্লান্তি আর না পাওয়ার হিসাব ভুলে আজই ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তুলুন এক চিলতে হাসি। হাসুন, সুস্থ থাকুন এবং আপনার হাসিতে ভালো রাখুন চারপাশের মানুষগুলোকে। 

সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×