দশমীর সাজে
পূজায় লাল-সাদা শাড়ির আবেদন সব সময়ই জনপ্রিয় মডেল: কাশফিয়া মুন্নী; পোশাক: জ্যোতি; ছবি: হিমেল
রিক্তা রিচি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
আজ বিজয়া দশমী। আজকের মেকআপ ও সাজে ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকাই ভালো। সাদা-লাল শাড়ির সঙ্গে ভারী বেজের মেকআপ করতে পারেন। এতে সিঁদুর খেলার পর মুখ লাল হয়ে গেলেও, সাজ অপূর্ণ মনে হবে না। লিখেছেন রিক্তা রিচি
দশমীর সকাল থেকেই বিবাহিত নারীদের ব্যস্ততা থাকে। সকালে বিহিত পূজা। এরপর দেবীর প্রতিমায় সিঁদুর, মিষ্টি, পান ও সুপারি নিবেদন করে মাকে বরণ করা হয়। তারপর সিঁদুর খেলার আসর। প্রথাগত বিশ্বাস অনুযায়ী এ অনুষ্ঠানটি মূলত বিবাহিত নারীদের জন্য পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে সমাজ ও ভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক জায়গায় উৎসবে অংশ নেওয়ার আনন্দ ও সর্বজনীনতার অংশ হিসেবে কুমারী, অবিবাহিত তরুণী এবং সধবা-বিধবা নির্বিশেষে সব নারীই আনন্দে মেতে ওঠেন; সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। পুরুষরাও যুক্ত হন ফটোসেশনে। উৎসবমুখর আবহে কাটে দিন। এ দিনের সাজ তাই বিশেষ। একদিকে উৎসবের রঙে মন রঙিন, অন্যদিকে বিষাদের সুরও যেন বাতাসে ভাসে। কারণ এ দিনে মাকে বিদায় জানানো হয়। সে যা-ই হোক। মূলত উৎসবের আনন্দ ও সাজ নিয়েই কথা হোক।
সিঁদুর খেলার দিনে সাদা শাড়ি পরতে পারেন। শাড়িতে থাকতে পারে লাল পাড় কিংবা জমিনজুড়ে থাকতে পারে লাল সুতার এমব্রয়ডারি। আবার সাদা ব্লাউজের সঙ্গে লাল জমিনের শাড়িও পরতে পারেন। হ্যান্ডপেইন্ট, ব্লক-বাটিক কিংবা কাঁথা স্টিচের শাড়িও বেছে নিতে পারেন। দুর্গার প্রতিকৃতি-জবা ফুল-পদ্ম ফুল, স্বস্তিক চিহ্ন অথবা শঙ্খ আঁকা আছে– এমন শাড়ি হলে জমবে বেশ। সিল্ক, তসর, খাদি, তাঁত, জামদানি, মসলিন শাড়ি রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। অবিবাহিতরা যদি শাড়ির ঝক্কি এড়াতে চান, তাহলে কুর্তি-টিউনিকের দ্বারস্থ হতে পারেন। শ্রাগ, কাফতান, টিউনিক আপনাকে অন্যরকম লুক দেবে। সে ক্ষেত্রে সাজটা হবে হালকা বেজের।
শাড়ির সঙ্গে মানানসই সাজ
দশমী ও সিঁদুর খেলার সাজ জমকালো হওয়াই ভালো। সিঁদুর খেলার পর মুখ লাল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে এদিন মেকআপের বেস একটু ভারী করা যেতে পারে বলে মনে করেন মেকআপ আর্টিস্ট রুমানা ইসলাম। মেকআপের বেসের জন্য বেছে নিতে পারেন লিকুইড ফাউন্ডেশন। তবে খেয়াল রাখতে হবে বেস যেন বেশি ভারী না হয়। এতে ক্র্যাক পড়ে যায়, গরমে মেকআপ দ্রুত গলে যায়। তবে শুরুতে ত্বক অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগানোর পর ফুল কাভারেজ ম্যাটিফাইয়িং ফাউন্ডেশন, তার ওপর প্রেসড পাউডার লাগিয়ে বেইজ সেট করে নিন।
নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে ভ্রুযুগল এঁকে নিতে পারেন। ভ্রুতে একটু জেল দিয়ে বুশি করে নেওয়া যেতে পারে। চোখে আইলাইনার দিন টানা করে। মাসকারা লাগান। এদিন বেশি মোটা করে চোখ সাজাতে পারেন। শ্যাডো ব্যবহার করুন শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। চাইলে দুটি কিংবা তিনটি রঙের মিশেলেও চোখ সাজাতে পারেন। স্মোকি আই লুকটাও এদিন মানিয়ে যাবে। নাক, জলাইন, চিবুকের অংশ কন্টুরিং করে নিন। নাকের আগায়, কপালের মধ্যখানে আর ঠোঁটের নিচে বুলিয়ে নিন হাইলাইটার। গালে ব্লাশন বুলাতে ভুলবেন না যেন।
চোখে ভারী মেকআপ নিলে ঠোঁটে লাগান ন্যুড, পিচ, বারগেন্ডি, হালকা গোলাপি ও বেরিস কালারের লিপস্টিক। রাতের সাজের জন্য গ্লসি লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। অনেকে বিজয়া দশমীতে দুর্গার লুক নিতে চান। শাড়ি ও সাজের সঙ্গে মিলিয়ে মাথায় শোলার চূড়া কিংবা মুকুট পরতে পারেন।
দশমীর দিনে কুঁচিবিহীন এক প্যাঁচে শাড়ি পরলে চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। চাইলে মাঝ বরাবর সিঁথি করে সামনের দিকে টুইস্ট করে পেছনে খোঁপা করতে পারেন। খোঁপায় পরে নিতে পারেন রজনীগন্ধা, অর্কিড অথবা গাজরা। তাজা ফুলের পরিবর্তে কৃত্রিম ফুলও গুঁজে দিতে পারেন খোঁপায়।
টিপে পূর্ণ হোক সাজ
দশমীর সাজকে পূর্ণতা দিতে পরতে পারেন টিপ। গোল, ত্রিকোনাকার, চারকোনা ও লম্বাটে আকারের টিপ পাওয়া যায় বিভিন্ন পেজে। স্বস্তিক চিহ্ন, শিউলিসহ নানা ফুল, লতাপাতা, মাছ, ময়ূর আঁকা টিপও পরতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে বড় আকারের টিপ কিন্তু বেশ মানায়।
গহনা
সাজ তো হলো, এবার গহনার পালা। এখন কিন্তু সাবেকি নকশার গহনা বেশ চলছে। এবারের পূজায় ধাতবের সাবেকি গহনা হতে পারে সঙ্গী। কানপাশা, কানটানা ঝুমকা শাড়ির সঙ্গে মানাবে। মেটালের গহনার পাশাপাশি চাইলে অক্সিডাইজ, কুন্দন, সিলভারের গহনা পরতে পারেন। জামদানি শাড়ির সঙ্গে পার্লের গহনা বেছে নিন। হাতে গোলাপ বালা, চুড়ি, চুড় পরতে পারেন। গলায় সীতাহার, মালা, নেকলেস পরে নিন ইচ্ছেমতো। পলা-শাঁখাও পরতে পারেন। যদি মাথায় মুকুট না পরেন তাহলে সিঁথিতে টিকলি পরে নিন। এতে দারুণ মানাবে।
আলতা রাঙা পায়ে
দশমীর দিনে পা সাজাতে পারেন আলতায়। আজকাল বিভিন্ন পেজ ও মার্কেটে আলতা ও আলতা পেন পাওয়া যায়। নিজের ইচ্ছেমতো নকশায় পা ও হাত সাজাতে পারেন রঙিন করে। এ জন্য আগে হাত ও পা গরম পানিতে ভিজিয়ে, স্ক্রাবার দিয়ে ঘষে নিন। পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুছে এরপর আলতা লাগান। আলতা দেওয়ার সময় হাতের কাছে টিস্যু বা পুরোনো সুতি কাপড় রাখুন। এতে কোথাও অতিরিক্ত আলতা গড়িয়ে গেলে দ্রুত মুছে নেওয়া যাবে।
টিউনিকের সঙ্গে
টিউনিকের সঙ্গে মেকআপের বেজ হালকা রাখুন। চাইলে বিবি ক্রিম দিয়ে করতে পারেন বেস। শুরুতে প্রাইমার এবং খুঁত ঢাকতে কনসিলার অবশ্যই দেবেন। সানস্ক্রিন দিতে ভুল করা যাবে না। যদি লিকুইড ফাউন্ডেশন লাগান, তাহলে প্রেসড পাউডার, লুজ পাউডার দিয়ে তা সেট করুন। এরপর চোখ সাজান হালকা করেই। টিউনিকের সঙ্গে বেশি মোটা করে আইলাইনার ও কাজল ভালো লাগবে না। শ্যাডো দিতে পারেন কনট্রাস্ট করে। মুখের গড়ন ঠিক দেখাতে কন্টুরিং করে নিন। গালে গোলাপি কিংবা বাদামি ব্লাশন বুলিয়ে নিন। ঠোঁট রাঙাতে বুলিয়ে নিন ন্যুড শেডের লিপস্টিক।
টিউনিকের সঙ্গে ভারী গহনা একেবারেই মানানসই নয়। তাই হালকা ও ছিমছাম গহনা পরুন। লম্বা মালা বা স্টাড কানের দুল পরুন। যদি টিউনিক অল্প দৈর্ঘ্যের হয়, তবে এর সঙ্গে একটি বড় লকেটের মালা বেছে নিতে পারেন।
সাজের আগে ত্বকের প্রস্তুতি
মেকআপের আগে ত্বককে প্রস্তুত করে নিন। নয়তো বেস ঠিকভাবে বসবে না। এতে মেকআপ মেকি লাগবে। ক্র্যাক করবে। মেকআপের আগে ত্বক ক্লিনজারের সাহায্যে ধুইয়ে নিন। একটি সুতি কাপড়ে বরফের টুকরা নিয়ে তা ত্বকে ঘষে নিন। এতে ত্বক মেকআপ ব্যবহারের উপযোগী হবে। বাড়বে রক্ত সঞ্চালন। বরফ ঘষলে আলাদা টোনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ত্বক সতেজ রাখতে হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
- বিষয় :
- উৎসব মণ্ডল