সন্ধ্যার পর কেন অবরুদ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সামিনা লুৎফা
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৪ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত, তাদের অনেকের কাছেই ইদানীং কিছু প্রশ্ন অত্যন্ত পীড়াদায়কভাবে ফিরে ফিরে আসে। প্রশ্নগুলো– এ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, এর দর্শন এবং নাগরিক সমাজের প্রতি এর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা নিয়ে। আমাকে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরকার কোনো ‘অভিযান’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন দ্বিধা নিয়েই বলতে হয়– আমি বিশেষ কিছু জানি না। আগেও জানতাম না, এখনও জানি না। মাঝখানে একটা অভ্যুত্থান হয়ে হাজারো তাজা প্রাণের রক্তের বিনিময়ে অনেকে অনেক ক্ষমতার মালিক হয়েছেন। আগের মালিকরা পালিয়েছেন, নতুন মালিকরা নতুন ‘অভিযান’ চালাচ্ছেন।
মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমি বোধ হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেকহোল্ডার’ কখনও ছিলাম না। কারণ, স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন ঠিক কোথায় হয়, কার সঙ্গে হয়– তা আজও আমার কাছে রহস্য। যখন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বাজতেই শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হঠাৎ থমকে যায়, রাস্তায় বিশাল জ্যাম তৈরি হয় এবং বলা হয়, ‘আর কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া যাবে না’; ঠিক তখনই আমি বুঝতে পারি, ‘ও আচ্ছা, এ রকম কিছু হয়েছে।’ প্রবল সাইবার হয়রানির মুখে পড়তে পারি– এই আশঙ্কা নিয়েও আমাকে কিছু মনঃপীড়ার কথা তাই বলতে হচ্ছে।
নিরাপত্তা বনাম আধিপত্য
সঙ্গে কিছু প্রশ্ন জাগে: এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের বলে যারা দাবি করেন, তারা যখন অন্যদের, সাধারণ নাগরিকদের এই পথে ঢুকতে বাধা দেন, তখন আসলে কোন নীতি বা দর্শন কাজ করে? বা কোনো একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব যখন দেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অংশীজন নিরাপদ বোধ করেন, আর কারা করেন না? বা এই নিরাপত্তা কার জন্য? কার কাছ থেকে কাকে বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে? বহিরাগতদের হাত থেকে ক্যাম্পাসের বাসিন্দাদের? তাহলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু বাস্তবতার দিকে তাকাই–
১. অভ্যন্তরীণ অপরাধ: একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী যে একজন শিক্ষার্থীকে বাচিক নিপীড়ন করে এবং ফজলুল হক হলে বহিরাগত সন্দেহে তোফাজ্জল নামের এক নাগরিককে যারা পিটিয়ে খুন করে, সে অপরাধীরা কি ‘বহিরাগত’ ছিল? না। তারা ছিল আমাদেরই অংশ। এমনকি আগের মতোই শাহবাগ থানায় ছাত্রনেতাদের কাউকে কাউকে উপস্থিত হতে দেখা যায় সমঝোতা করতে; তারা অনেকেই আমাদের ছাত্র।
২. ন্যায়বিচারের অভাব: মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বানিয়ে করা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পতিত শাসক শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে যে আগুন দিয়েছিল, সেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
৩. সাইবার হয়রানি: গত আগস্টের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে যে অনলাইন সাইবার বুলিং এবং হয়রানির সুনামি শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-প্রশাসকদের উপস্থিতিসম্পন্ন ফেসবুক পেজের সম্পৃক্ততা আছে সরাসরি।
এসবের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও এসব ঘটনার কি কোনোটির বিচার হয়েছে? কোনো তদন্ত প্রতিবেদন কি এসেছে? যদি অভ্যন্তরীণ অপরাধের বিচার না হয়, যদি খুনি বা নিপীড়করা আমাদের ক্যাম্পাসেই বাস করে, তবে এই ‘আটকানো’ বা নিয়ন্ত্রণের মূল কারণ মনে হয় নিরাপত্তা না; অন্য কিছু! নিন্দুকরা বলে, এটি ক্যাম্পাসের ওপর একটি একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। ঠিক যেমনটা অন্য সময়ে অন্য কোনো ছাত্র সংগঠন আগে করে এসেছে।
গায়ের জোরে পরিবর্তন এবং সুবিধাভোগী মনস্তত্ত্ব
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের বাড়াবাড়ি দেখা যাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডে সংযমের অভাব লক্ষ্য করছি; সেই সঙ্গে মনে হচ্ছে তারা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার যে সূক্ষ্ম ‘বাউন্ডারি’, তা অস্পষ্ট করে ফেলেছেন। অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ডের মতো বানাতে চান। খুবই খুশির কথা, কিন্তু পরিবর্তন কি রাতারাতি গায়ের জোর খাটিয়ে সম্ভব? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র ভিন্ন। এটিকে আপনি রাতারাতি বদলে ফেলতে পারবেন না। পরিবর্তনগুলো করতে হবে ধীরে ধীরে এবং অবশ্যই এই শহরের অন্যান্য নাগরিকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে। কারণ, ক্যাম্পাসটা নগরের একদম প্রাণকেন্দ্রে, যা বিভিন্ন দিক থেকে শহরের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে। এখানে এখন যা করা হচ্ছে, তা হলো দেশের অন্যান্য আপামর নাগরিকের সঙ্গে এক ধরনের অসম্ভব উচ্চমন্য অহম বা জমিদারিসুলভ আচরণ প্রকাশ করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের নিরাপত্তার জন্য যখন আপনি একটি পাবলিক রাস্তা বন্ধ করে দেন, তখন আপনি ভুলে যান যে এ শহরের বেশির ভাগ নাগরিকই আপনার মতো সুবিধাভোগী নন। আপনি কি চান, একদিন ঢাকা শহরের নাগরিকরা এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে কার্ড দেখিয়ে ঢোকা-বের হওয়া বাধ্যতামূলক করুক? তা তারা করবেন না জানেন বলেই কি আপনাদের এই উচ্চমন্যতা; কারণ, শহরের অন্য নাগরিকদের মানবিক অধিকার নেই, তা লাঠি হাতে ছুটে বেড়ানো আপনাদের নেতৃত্ব এবং অনলাইনে আপনাদের ট্রল, মিম, পোস্টসহ আরও অনেক কিছুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু আপনাদের অহমের উৎস কী? দারিদ্র্যকে ‘জাদুঘরে’ পাঠানোর গবেষণা, না দেশের রাজনীতি? উত্তর হচ্ছে দ্বিতীয়টা; মানে রাজনীতি। কাজেই আপনারা রাজনৈতিকভাবে দারিদ্র্যকে মোকাবিলা করতে ‘অভিযানে’ নেমেছেন!
স্বার্থপরতা সমাধান নয়
যে মাদকচক্রের দোহাই দিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের তুলে দেওয়া হচ্ছে বা ভবঘুরেদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাতে কি সমস্যার সমাধান হচ্ছে? এ নিয়ে প্রাপ্ত গবেষণাসমূহ এবং সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে বুঝি যে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট যাদের হাতে, তারা সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাতে শুয়ে থাকেন না বা টং দোকান চালান না। নিশ্চয়ই গুলশানে বা বারিধারায় থাকেন। আইসক্রিম খেতে সিঙ্গাপুরে যান। যদি এ রকম কাউকে দিয়ে তারা ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা যেতে পারে। এদের সঙ্গে রাতের আঁধারে বাগ্বিতণ্ডা তো শিক্ষার্থীদের কাজ হতে পারে না! আর হকারদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা কী বলে? দরিদ্র হকারদের তাড়িয়ে দিলে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়? কোথাও হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের নিচে যারা ফুটপাতে শুয়ে থাকেন, তারা তো নিছক শখের বশে আসেন না। তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলেই তারা এখানে আসেন। তাদের স্রোত এত বেড়েছে, কারণ দেশের মানুষের আয় কমেছে; অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত যে দেশের অর্থনীতিকে লাইফ সাপোর্টে রাখে, সেই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত নিয়ে করা গবেষণা কী বলছে? তাদের দোকান ভেঙেচুরে দিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? দেশের অন্যতম রাজনৈতিক বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের দায়িত্ব কি ছিল না, এই মানুষগুলো কেন এখানে শুয়ে থাকে, তাদের অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কোথায়– সেই সমস্যার মূলে গিয়ে প্রশ্ন করা? যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে আপনি দেশের মূল সমস্যা– দারিদ্র্য, দুর্নীতি, বৈষম্য সমাধান করতে না পারেন, তবে আপনি আসলে আপনার নিজের উন্নয়নের জন্যই পড়ালেখা করেছেন। আপনার বৈষম্য বিরোধিতা একপেশে এবং নিজ স্বার্থপ্রণোদিত। আপনি আপনার এলাকা থেকে সমস্যাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিলেন, কিন্তু আপনি তো এ এলাকা থেকে বের হবেন। এটি কোথাও না কোথাও আপনার, আপনার পরিচিতজনের বা আপনার ভাই বা বোনের জন্য সমস্যা হিসেবে বর্তমান থাকবেই। সমস্যার মূলে না গিয়ে কেবল ‘তাড়িয়ে দেওয়া’ জ্ঞান-বিজ্ঞানের এত বড় আলাপকে অর্থহীন করে তোলে।
অক্সফোর্ড কেন প্রাচীর তোলে না?
ঘটনাচক্রে আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, চার বছর ওই শহরের বাসিন্দা ছিলাম। যে অক্সফোর্ডের সঙ্গে আমাদের তুলনা করা হয়, সেই ইউনিভার্সিটির মধ্যে আছে অনেক হেরিটেজ গ্রাউন্ড। প্রায় প্রতিটি বিল্ডিং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা শহরজুড়েই ছড়িয়ে আছে। ফলে বিভিন্ন পাবলিক রাস্তাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত কনভোকেশন হয়; কিন্তু আমি কোনোদিন দেখিনি ওই পাবলিক চলাচলের রাস্তা আটকানো হয়েছে। হ্যাঁ, সিটি করপোরেশন কিছু রাস্তা গাড়ি চলাচলের জন্য বন্ধ করে এবং তা অনেক বছর ধরে অনুসৃত নিয়ম; রাতারাতি হয়নি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী গোছের কেউ চাইলেই ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে একটা মেট্রোলাইন ও স্টেশন বানিয়ে ফেলতে পারবেন না।
পৃথিবীর এক নম্বর এ বিশ্ববিদ্যালয়টির রিসার্চ করতে বা গুরুত্বপূর্ণ ডিবেট, যেমন অক্সফোর্ড ইউনিয়নে আলোচনা করতে কখনও রাস্তা বন্ধ করার প্রয়োজন হয়নি। তাদের ডিবেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই হয়, যা পৃথিবীর ইতিহাস, ধর্ম ও বিজ্ঞানকে বদলে দিয়েছে।
তারা তাদের দরজা বন্ধ করে দেয় না। আমি বরং দেখেছি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সিক্সথ ফর্মে (কলেজ) গিয়ে স্বেচ্ছাসেবা দিচ্ছেন; পিছিয়ে পড়া স্কুলগুলোর শিশুদের পড়াচ্ছেন, যাতে তারা ঝরে না পড়ে বা অক্সফোর্ডের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে। আছে লাইফ লং লার্নিংয়ের কেন্দ্র, যার মাধ্যমে শহরের নাগরিকদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক ধরে রাখে বিশ্ববিদ্যালয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা নেই তা নয়, কিন্তু এমনকি তাদের মেডিকেল ফ্যাকাল্টির সামনে সাপ্তাহিক প্রাণী অধিকার কর্মীদের নিয়মিত মিছিল-পিকেটিংকেও কোনোদিন পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ওঠাতে দেখিনি।
তবে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এ রকম আটকে ফেলতে হচ্ছে?
আমরা আসলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের (ওয়েলফেয়ার স্টেট) ধারণা, সাম্যের ধারণা আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখাতে পারিনি। চব্বিশের ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা নিয়ে আমি তৎকালীন প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে তর্ক করেছি। প্রশ্ন তুলেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে কি ১৪৪ ধারা চলছে? সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তখন আমাদের এই ভূমিকা যাদের ভালো লেগেছিল, এখন কেন আর লাগছে না? কারণ, রাজনৈতিক শক্তিগুলো বৈষম্য বিরোধিতাকেও সিলেক্টিভ করে তুলেছে। আপনি ক্ষমতায় না থাকলে যে প্রতিবাদ বৈধ, আপনি ক্ষমতায় গেলে ওই একই কাজ অবৈধ– এর জন্য যে কাউকে হত্যাযোগ্য করা যায়, ‘খুনি’, ‘বেশ্যা’, ‘মাদকসেবী’ বা ‘ব্যবসায়ী’ বলে অবৈধকরণ করা যায়; কখনও ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র নামে, কখনও গায়ের বা পদের জোরে। এ অবস্থার অবসান দরকার।
আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাবতে বলি, এই অব্যবস্থাপনা ও জোরাজুরির কারণে নাগরিকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি সত্যিই একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হতে হয়, তবে তাকে নাগরিক সমাজের অংশ হতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে মানবিক বিদ্যায়তন হয়ে উঠতে হবে। যদি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তবে তা অবশ্যই নাগরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, ধীরে ধীরে করতে হবে। হঠাৎ করে বলে দেওয়া– ‘এখন অতটা থেকে রাস্তা বন্ধ’, এটি কোনো যুক্তিসংগত কথা হতে পারে না। পুরো জিনিসটাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধানের মধ্যে নিয়ে এসে একটা অনন্য ইনোভেশন ইনকিউবেটর এই ক্যাম্পাসই হয়ে উঠতে পারে, যা সারাবিশ্বকে পথ দেখাবে কী করে স্বল্প সম্পদে অনেক ধরনের স্বার্থকে ‘একোমোডেট’ করা যায় আর সমস্যার সমাধানও করা যায় অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে; ঐতিহ্যকে অপাঙ্ক্তেয় না করে।
লেখক: অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
