বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বয়কটে অরুন্ধতী রায়ের বার্তা
গণহত্যার সামনে নিরপেক্ষতা মানে পক্ষ নেওয়া
অরুন্ধতী রায়
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
৩৮ বছর আগে আমার লেখা খেয়ালি মেজাজের সিনেমা ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ বার্লিনালে ২০২৬-এর ক্ল্যাসিকস বিভাগে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। আমার কাছে বিষয়টির মধ্যে এক ধরনের মধুর ও চমৎকার অনুভূতি জড়িয়ে ছিল।
যদিও ফিলিস্তিন ইস্যুতে জার্মান সরকার এবং বিভিন্ন জার্মান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেওয়া অবস্থানে আমি গভীরভাবে বিচলিত, তবুও গাজায় চলমান গণহত্যা নিয়ে আমার মতামত যখনই আমি জার্মান দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছি, সব সময়ই তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক সংহতি পেয়েছি। ঠিক এই কারণেই বার্লিনালেতে ‘অ্যানি’-র প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকার কথা ভাবাটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল।
আজ সকালে, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মতো আমিও শুনেছি, গাজার গণহত্যা সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি সদস্যরা কী বিবেকবর্জিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের মুখে শিল্পকলা রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয়– এমন কথা শোনাটা রীতিমতো বিস্ময়কর। মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি অপরাধ যখন আমাদের চোখের সামনেই ঘটে চলেছে, তখন সেটি নিয়ে আলোচনা থামিয়ে দেওয়ার এটি একটি কৌশলমাত্র–অথচ শিল্পী, লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উচিত ছিল এটি থামানোর জন্য তাদের সাধ্যমতো সবকিছু করা।
আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই–গাজায় যা ঘটেছে এবং যা ঘটে চলেছে, তা হলো ইসরায়েল রাষ্ট্র কর্তৃক ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো গণহত্যা। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মান সরকার, সেইসঙ্গে ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি দেশ দ্বারা সমর্থিত ও অর্থায়িত; যা তাদেরও এই অপরাধের সহযোগী করে তুলেছে।
আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং শিল্পীরাও যদি উঠে না দাঁড়ান এবং এই সত্য উচ্চারণ না করেন, তবে তাদের জেনে রাখা উচিত যে ইতিহাস তাদেরও বিচার করবে। আমি স্তম্ভিত এবং বীতশ্রদ্ধ।
গভীর দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে যে, আমি বার্লিনালেতে উপস্থিত থাকছি না।
অরুন্ধতী রায়
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাষান্তর: শাহেরীন আরাফাত
