আপনার হার্ট কেমন আছে
ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৩
অসচেতনতা ও অবহেলার ফলে আমাদের রক্তনালিতে ধীরে ধীরে চর্বি জমে। কায়িক শ্রমের অভাবে এই বাড়তি চর্বি ঝরে পড়ার সুযোগ পায় না। বার্ধক্যে উপনীত হলে ধমনির গাত্রে ক্যালসিয়াম ও রক্তকণিকার জমাট উপাদানে ভরে ওঠে। ফলে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি বা করোনারি আর্টারি যেসব মাংসপেশিতে রক্ত সরবরাহ করে, দীর্ঘক্ষণ অক্সিজেনের অভাবে সে পেশিগুলো একসময় অকেজো হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিগুলো নিস্তেজ হওয়ার আগেই অক্সিজেনের অভাবে বুকে তীব্র ব্যথা হয়, যা এনজাইনা ব্যথা নামে পরিচিত। এ ধরনের ব্যথা হলো হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব সংকেত। এরপরও যদি আমরা হৃৎপিণ্ডের প্রতি যত্নশীল না হই, তখনই প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দেয়।
হৃদরোগের কারণ ও জটিলতা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে করোনারি হৃদরোগের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে সচেতন না হলে ছেলেদের ৪৫ বছর এবং মেয়েদের ৫৫ বছর বয়স থেকেই এই ধরনের মৃত্যুঝুঁকি থাকে।
শুধু রক্তনালিতে চর্বি জমা ও উচ্চ রক্তচাপের কারণেও হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদরোগের কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—দুশ্চিন্তা, ধূমপান, মদ্যপান, আরামপ্রিয় জীবনযাপন, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ এবং পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস। অনেক সময় জন্মগত হৃদরোগের কারণেও হার্ট ফেইলিউর হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও ফেইলিউর হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শুধু হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে না, ব্রেনস্ট্রোক এবং কিডনি ফেইলিউরও হতে পারে। হঠাৎ ভয় বা দুশ্চিন্তা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হতে পারে।
হৃদরোগের লক্ষণ
রক্ত জমাটবদ্ধতাজনিত এনজাইনার কারণে যে বুকের ব্যথা হয়, তার নির্দিষ্ট ধরন আছে। এ ক্ষেত্রে ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে হাড়ের পেছনে অনুভূত হয়। শরীর ঘর্মাক্ত হয়ে ওঠে এবং ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে বাম হাতের ভেতরের দিক বরাবর নেমে আসে। হাঁটাচলা করলে, বিশেষ করে সিঁড়ি বেয়ে উঠলে এ ব্যথা আরও তীব্র হয়। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাদের কোনো এক পর্যায়ে বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে অনেক সময় মাথা ও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। সঙ্গে কিডনির সমস্যা থাকলে মুখ ফুলে যেতে পারে। হৃদরোগ জটিল আকার ধারণ করলে হার্ট ফেইলিউর হয়ে হাত-পা ও পেটে পানি আসতে পারে।
[অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল]
- বিষয় :
- হৃদরোগ
