‘কিছুক্ষণ পড়লেই বাঁ চোখে চাপ লাগে’
রাহাতুল হাসান রাহাত
রাসেল মাহমুদ
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘আগে একটানা মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারতাম। এখন পারি না। কিছুক্ষণ পড়লেই বাঁ চোখে চাপ লাগে। রোবটিক্স যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে হয়। এই কাজ করতে গিয়ে এক চোখে চাপ পড়ে। কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে পড়লেও চাপ লাগে। আগে খেলাধুলা করতাম, সেটিও এখন করতে পারি না।’
কথাগুলো বলছিলেন জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ডান চোখ হারানো শিক্ষার্থী রাহাতুল হাসান রাহাত। তখন তিনি কুমিল্লার ইস্পাহানি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথম সেমিস্টারে পড়ছেন।
গুলি লাগার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রাহাত জানান, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই প্রথম আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। ৩ আগস্ট সকাল থেকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের সামনে কয়েকশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সেখানে অবস্থান নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের একটি এপিসিও (সাজোয়া যান) ছিল। তারা যৌথভাবে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় রাহাতের বুক, মুখ, গলা, হাত ও ডান চোখে গুলির স্প্লিন্টার লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। সহপাঠীরা উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্প্লিন্টারের আঘাতে রাহাতের ডান চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। হাত ও কানে থাকা বেশ কিছু স্প্লিন্টার অপসারণ করা গেলেও শরীরের অন্যান্য স্থানে থাকা স্প্লিন্টার এখনও আছে। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও ডান চোখের দৃষ্টি ফেরেনি। চিকিৎসকদের মতে, বাংলাদেশে তাঁর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা। এ জন্য তাঁকে প্রতি মাসে প্রায় ১৩ হাজার টাকার ওষুধ সেবন করতে হয়। বাইরে বের হলে সানগ্লাস পরে চলাফেরা করেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ডান চোখ অপসারণ করলে রাহাতের বাঁ চোখের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে নিজের চেহারার পরিবর্তনের কথা ভেবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে চান না এই শিক্ষার্থী। রাহাত বলেন, ‘অপারেশন করে ডান চোখ ফেলে দিলে চেহারা ভিন্ন হয়ে যাবে।’