সাক্ষাৎকার : গালিব ফাররুখ বখত
দেশজুড়ে বিস্তৃতির কারণে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে
গালিব ফাররুখ বখত চিফ অপারেটিং অফিসার, ডেইলি শপিং
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমকাল : দেশের সুপারশপ খাতের সামগ্রিক অবস্থা কেমন দেখছেন?
গালিব ফাররুখ বখত : সুপারশপ খাতকে আমরা সম্ভাবনাময় একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে দেখছি। ক্রেতারা এখন সাশ্রয়ী দামের পাশাপাশি পণ্যের মান, সঠিক ওজন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং এক জায়গায় প্রয়োজনীয় বাজার করার সুবিধা চান। এই চাহিদা বড় শহরের বাইরেও তৈরি হচ্ছে। তবে দেশের মোট খুচরা বাজারের তুলনায় সংগঠিত খুচরা ব্যবসার পরিসর এখনও ছোট। ফলে এর বিকাশের বড় সুযোগ রয়েছে। আমাদের কাছে এই খাতের ভবিষ্যৎ হলো সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বাজারের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে ওঠা। ডেইলি শপিংয়ে আমরা সাশ্রয়, সহজলভ্যতা ও ক্রেতার আস্থাকে সেই অগ্রযাত্রার ভিত্তি হিসেবে দেখছি।
সমকাল : মূল্যস্ফীতি, পরিচালন ব্যয় ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন ব্যবসায় কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?
গালিব ফাররুখ বখত : মূল্যস্ফীতির কারণে একই বাজেটে পরিবারের বাজারের পরিমাণ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। ক্রেতা কী কিনবেন, কতটুকু কিনবেন এবং কোথায় বেশি সাশ্রয় পাবেন– এসব বিষয়ে আরও হিসাবি হচ্ছেন। অন্যদিকে দোকান ভাড়া, জনবল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও পণ্য সংরক্ষণের ব্যয় ব্যবসার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে ক্রেতার জন্য মূল্য সহনীয় রাখা এবং ব্যবসার স্থায়িত্ব বজায় রাখা– দুটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হচ্ছে। ডেইলি শপিংয়ে আমাদের অগ্রাধিকার হলো প্রয়োজনীয় পণ্যের সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎস থেকে সরাসরি সংগ্রহ বাড়ানো এবং অপচয় কমানো। শুধু ছাড় দেওয়ার চেয়ে নিয়মিত বাজারে ক্রেতার মোট সাশ্রয় নিশ্চিত করাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশজুড়ে আমাদের বিস্তৃতি হওয়ার কারণে আমাদের ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে; যার মাধ্যমে আমরা খরচ পুষিয়ে আনছি।
সমকাল : অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহারের পর সুপারশপগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রির পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে?
গালিব ফাররুখ বখত : কেনাকাটার সময় বাড়তি ভ্যাটের বোঝা কমায় সুপারশপে বাজার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর হয়েছে। আগে অনেক ক্রেতার ধারণা ছিল, সুপারশপে একই পণ্য কিনলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। সেই ধারণা বদলানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সাম্প্রতিক চিত্রেও ক্রেতার আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিক্রির পরিবর্তনকে শুধু ভ্যাটের প্রভাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; পণ্যের দাম, প্রাপ্যতা, প্রচার কার্যক্রম ও আউটলেটের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাছে মূল সুযোগ হলো এই আগ্রহকে নিয়মিত কেনাকাটার অভ্যাসে রূপ দেওয়া– সাশ্রয়ী দাম ও ধারাবাহিক ভালো সেবার মাধ্যমে।
সমকাল : সুপারশপ খাতের বিকাশে সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
গালিব ফাররুখ বখত : আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো সব ধরনের খুচরা ব্যবসার জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং সহজ ও স্থিতিশীল নীতিকাঠামো। একই পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিক্রয় স্থানের কারণে ক্রেতাকে যেন বাড়তি করের বোঝা বহন করতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিভিন্ন লাইসেন্স ও অনুমোদনের জন্য একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সেবা চালু হলে সময় ও ব্যয় কমবে।
সমকাল : আপনাদের বর্তমানে কতটি আউটলেট রয়েছে এবং কোন ধরনের এলাকায় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছেন?
গালিব ফাররুখ বখত : বর্তমানে দেশে ডেইলি শপিংয়ের ১৫০টি আউটলেট রয়েছে। আমরা বড় শহরের আবাসিক এলাকার পাশাপাশি জেলা শহর, উপজেলা সদর এবং শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন জনবসতিতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছি। বিশেষ করে যেসব এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ, কিন্তু কাছাকাছি সংগঠিত কেনাকাটার সুবিধা সীমিত, সেসব এলাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সমকাল : দেশের খুচরা বাজারকে আরও আধুনিক ও সংগঠিত করতে সুপারশপগুলোর ভূমিকা কী হতে পারে বলে মনে করেন?
গালিব ফাররুখ বখত : সুপারশপ খুচরা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দৃশ্যমান মূল্যতালিকা, সঠিক ওজন, ক্রয়ের রসিদ, মেয়াদ যাচাই এবং অভিযোগের সমাধান– এসব চর্চা ক্রেতার আস্থা তৈরি করে। কৃষক ও উৎপাদকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ালে পণ্যের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া, মান নিশ্চিত করা এবং অপচয় কমানো সহজ হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ, কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়ে। আমরা মনে করি, খুচরা বাজারের আধুনিকায়নের সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত পণ্য পাবেন এবং কৃষকও তাঁর পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। ব্যবসায়িক জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব কমানোর মাধ্যমে সবার মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার