ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

কেনাকাটায় স্বস্তি, বাঁচে সময়ও

কেনাকাটায় স্বস্তি, বাঁচে সময়ও
×
×

ফাইল ফটো

 রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

আড়াই বছর বয়সী আয়াত সুপারশপের আউটলেটের ট্রলিতে বসা। পাশে বাবা-মা কেনাকাটা করছেন। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস ট্রলিতে রাখতেই হাততালি দিচ্ছে সে। মাঝে মাঝে ট্রলি থেকে নেমে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতেও দেখা গেছে তাকে। আবার সে নিজেই চকলেট এনে রাখছে ট্রলিতে। 

এ দৃশ্য গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরার মহানগর প্রজেক্টের স্বপ্ন সুপারশপের। এ সময় কথা হয় বাবা চাকরিজীবী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, মাসে অন্তত ৮-১০ বার স্বপ্নে বাজার করেন তিনি। কারণ, সুপারশপে একসঙ্গে অনেক ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্য পাওয়া যায়। নির্ধারিত মূল্য থাকায় দামাদামি করতে হয় না, আবার পণ্যের গুণগত মানও ভালো। তাছাড়া উপযুক্ত পরিবেশে পরিবার নিয়ে বাজার করার আলাদা আবহ পাওয়া যায়। ছোট্ট মেয়ে আয়াত বেশ মজা পায় বলে সুপারশপে বাজার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। মা নুসরাত ইসলাম জানান, তারা প্রায়ই স্বপ্নে এসে কেনাকাটার পাশাপাশি সময়টা উপভোগ করেন। 

শুধু মহানগর প্রজেক্ট নয়, রাজধানীর বিভিন্ন আউটলেট সাধারণ মানুষের কেনাকাটার পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে। অনেক কর্মজীবী নারী-পুরুষকে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও দেখা যায়। বনশ্রী এ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরিদ জানান, দুর্গন্ধমুক্ত, ঝামেলাহীন, পরিচ্ছন্ন ও শীতল পরিবেশে বাজার করার জন্যই মূলত সুপারশপে আসা হয়। স্বপ্ন ও ডেইলি শপিং দুই জায়গা থেকেই বেশি বাজার করেন তিনি। ফরিদ জানান, মাসে তিন থেকে চারবার সুপারশপে আসেন এবং মাসে ১০-১৫ হাজার টাকার বাজার করেন। 

বেসরকারি চাকরিজীবী জুবায়দুর জানান, সুপারশপ থেকে নিয়মিত বাজার করেন তিনি। মাসে পাঁচ থেকে সাতবার প্রায় ৩০ হাজার টাকার বাজার করেন। তাঁর মতে, সুপারশপে সফট ড্রিংকস খেতে খেতে সাশ্রয়ী মূল্যে, রিল্যাক্স মুডে বাজার করা যায়। এ কারণেই সাধারণ বাজারের তুলনায় সুপারশপে বাজার করতে স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করেন তিনি। 

সুপারশপ ঠিক এমনই, যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো পণ্য পাওয়া যায়। ব্যস্ত নগরজীবনে সময়ের মূল্য অনেক। অফিস, সংসার, সন্তান আর ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততায় বাজার করার জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সুপারশপ হয়ে উঠেছে অনেকের স্বস্তির জায়গা। চাল, ডাল, তেল, মসলা থেকে শুরু করে ফলমূল, দুগ্ধজাত খাবার, প্রসাধনী ও ঘর পরিষ্কারের উপকরণ–  সবকিছুই পাওয়া যায় এক ছাদের নিচে। ফলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছোটাছুটির ঝামেলা কমে। স্বপ্ন ও প্রিন্স বাজারের মতো সুপারশপগুলোতে পোশাকেরও আলাদা কর্নার রয়েছে। একই ছাদের নিচে বাহারি পণ্য থাকায় একটু সময় নিয়ে ঘুরে ঘুরে বাজার করা যায়। 

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনন্যা আক্তার মনে করেন, সুপারশপে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে ফল, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ননস্টিকের পাত্র, গ্লাস, শিশুদের খাবার, ফ্রোজেন খাবার সব পাওয়া যায়। তাছাড়া শিশুদের নিয়ে সুন্দর সময় উপভোগ করা যায় এখানে। তিনি বলেন, অফিস থেকে ফিরে কিংবা ছুটির দিনে আমি বাজার করি। শুকনো বাজার যেমন চাল, ডাল, তেল, নুডলস, বিভিন্ন মসলা, ফুড কালারসহ মুরগি-মাছও কিনি স্বপ্ন থেকে।

উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত কর্মজীবী নারী-পুরুষ, গৃহিণী, ব্যবসায়ী ছাড়াও ব্যাচেলর ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারশপ হয়ে উঠেছে ভরসার স্থান। কারণ, অল্প সময়ে কিছুটা কম কিংবা অফার মূল্যে অনেক পণ্য পাওয়া যায় সুপারশপে। ঋতু অনুসারে বিভিন্ন পণ্যে ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ও মেলে। 
গৃহিণী মিতা খানম সব সময় বাজার করেন উত্তরার ১৪ নং সেক্টরের আগোরা থেকে। তিনি শুকনো খাবার, তেল, ডিম, ডাল, ময়দাসহ প্রয়োজনীয় সব বাজার করেন সেখান থেকে। প্রতি মাসে দুবার করে প্রায় ২০ হাজার টাকার বাজার করেন। কখনও বাজার শেষ হয়ে গেলে, শপে যেতে না পারলে অনলাইনে অর্ডার দিয়েও পণ্য কেনেন তিনি। অনলাইনে পণ্য সহজেই কিনতে পারা এবং নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ডে পেমেন্ট করলে ২৫ শতাংশ ছাড়ের ব্যাপারটি তাঁকে অনুপ্রাণিত করে বলেও জানান তিনি। 

সুপারশপ থেকে কেউ হয়তো নিয়মিত কেনেন পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য। আবার কেউ নতুন কোনো খাবার কিংবা রান্নার উপকরণ খুঁজে নিতে ভালোবাসেন। বিদেশি সস, ভিন্ন স্বাদের পাস্তা, নতুন কোনো স্ন্যাকস কিংবা রান্নার অচেনা উপাদান চোখে পড়লে কেনাকাটার তালিকায় যুক্ত হয় বাড়তি কিছু। এভাবেই বাজার করার পাশাপাশি ঝুলিতে  যোগ হয় ছোট ছোট আনন্দ।

সুপারশপের বিভিন্ন অফার, ছাড় ও বিশেষ মূল্য অনেক ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে। নির্দিষ্ট পণ্যে মূল্যছাড় কিংবা একসঙ্গে কয়েকটি পণ্য কেনার সুবিধা কাজে লাগিয়ে সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে ছাড় দেখেই অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ফেললে উল্টো খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই বাজারে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা তৈরি করা এবং বাজেট নির্ধারণ করা জরুরি। কেনাকাটার সময় পণ্যের মূল্য তুলনা করা, মেয়াদ যাচাই করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ নির্বাচন করে পণ্য কেনা ভালো। শুধু আকর্ষণীয় প্যাকেট বা প্রচারণা দেখে নয়, পণ্যের মান ও ব্যবহারিক প্রয়োজন বিবেচনা করে কেনাকাটা করলেই পাওয়া যায় প্রকৃত তৃপ্তি।

মহানগর প্রজেক্টের স্বপ্নের সিনিয়র আউটলেট অপারেশন ম্যানেজার মমিন রানা বলেন, আমাদের এখানে ক্রেতারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিজের ইচ্ছামতো বাজার করতে পারেন। অনেকে পরিবার নিয়ে আসেন, ঘোরাঘুরি ও বাজার করেন। প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পাশাপাশি আচার, মোমোসহ মুখরোচক খাবারও খেতে পারেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে ক্রেতারা বেশ কিছু অফার পেয়ে থাকেন। এ কারণে সব শ্রেণির মানুষ এখানে বাজার করতে পারেন। প্রতি শুক্রবার চাল-ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর অফার দেওয়া হয়। সেদিন চাল, ডাল, মাছ ও মাংস বাজারের চেয়েও কম মূল্যে পাওয়া যায়। যেমন বাইরে যে চাল ৬০-৬৫ টাকায় পাওয়া যায়, সেটি স্বপ্নে ৫৫-৫৭ টাকায় মেলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন বাইরে আলু পাওয়া যায় ৩০ টাকা করে, আমাদের এখানে ২৫ টাকা করে দিয়ে থাকি। রুই, পাঙাশ মাছ বাজারের চেয়ে ৩০-৪০ টাকা কমেও দিই। আর এ কারণে স্বপ্ন মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত, ব্যাচেলর ও সিঙ্গেলদের জন্য ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। 

একনজরে চলমান অফার ও মূল্যছাড়
স্বপ্ন সুপারশপ থেকে ২৮-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুষ্টির ওয়াও নুডলস ৫৪ টাকা ছাড়ে এবং এসিআই, ফ্রেশ ও পুষ্টির দুই কেজি আটা ২৫ টাকা ছাড়ে কেনা যাবে। ফ্রোজেন পরোটায় ৬৫ টাকা পর্যন্ত ছাড় মিলবে। পাঁচ লিটার রাইস ব্রান অয়েল ১০৯০ এবং প্রতি কেজি মসুর ডাল ৯৮ টাকায় কেনা যাবে। অ্যারোসল, মশার কয়েল, ব্যাটেও চলছে মূল্যছাড়। শীতের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কেটলি, হিটার ও কম্ফোর্টারও পাওয়া যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে।

আগোরাতেও চলছে নির্দিষ্ট পণ্যে ৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। মসুর ডালে সাত টাকা, চালে পাঁচ টাকা, গুঁড়া দুধে ৩০-৬০ টাকা এবং চানাচুরে ১০ টাকাসহ বিভিন্ন পণ্যে ছাড় চলছে। সাবানসহ কিছু পণ্যে বাই ওয়ান গেট ওয়ান এবং বাই টু গেট ওয়ান অফার চলছে।

মীনাবাজারসহ অন্য সুপারশপেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, শুকনো খাবার এমনকি মাছ-মাংসেও ৫-২৬ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে।

আরও পড়ুন

×