ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সাক্ষাৎকার : কাজী রুহুল আমিন

গুলশানে প্রিন্স সুপারশপ চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি

গুলশানে প্রিন্স সুপারশপ চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি
×
×

কাজী রুহুল আমিন, চেয়ারম্যান প্রিন্স সুপারশপ, মিরপুর-১ এবং মিরপুর-১৪

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিন্স সুপারশপের চেয়ারম্যান কাজী রুহুল আমিন বলেছেন, মাছ-মাংস, শাকসবজিসহ সব ধরনের কাঁচাবাজারের পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এনে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় তারা চলে যাচ্ছেন গ্রামে। এ কারণে প্রিন্স সুপারশপের ক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য পাচ্ছেন। 

সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি পরিবর্তন এসেছে তাদের কেনাকাটার অভ্যাস ও চাহিদাতে। বর্তমানে একজন ক্রেতা একটি পণ্য কেনার আগে এর মান সম্পর্কে পরিপূর্ণ নিশ্চিত হয়ে সঠিক মূল্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কেনাকাটা এবং আন্তরিক সেবা প্রত্যাশা করেন। ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রিন্স সুপারশপ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রতিটি ক্রেতার জন্য কেনাকাটা আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক হয়।

প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা সম্পর্কে কাজী রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রিন্স বাজার নামে মিরপুর-১ নম্বরে প্রিন্স সুপারশপের যাত্রা হয় ২০০৫ সালের ১২ অক্টোবর। মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করে  মিরপুরে সুপারশপ চালু করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করি। প্রথমেই একদল সৎ নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা নিয়োগ করি এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। আমরা তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করি। এগুলো হলো গুণগত মান, দাম এবং সেবা।’ 

তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা মিরপুর-১৪ নম্বরে আরও একটি প্রিন্স সুপারশপ খুলতে সক্ষম হয়েছি। মিরপুরবাসী প্রিন্স সুপারশপকে সানন্দে গ্রহণ করেছে। আগামীতে গুলশানে আরও একটি প্রিন্স সুপারশপ খোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। তিনি জানান, প্রিন্স সুপারশপ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি সর্বোচ্চ এবং সঠিক নিয়মের মধ্যে সরকারি ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ করে আসছে।’ 
কাজী রুহুল আমিন আরও জানান, মিরপুর-১ এবং মিরপুর-১৪ প্রিন্স সুপারশপে এক হাজার কর্মী কাজ করছেন। তারা নিরলসভাবে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ডিপার্টমেন্টাল পণ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে প্রিন্স সুপারশপ তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পেরেছে। সরাসরি নিজেরা আমদানি করার কারণে অনেক কম দামে ক্রেতাদের পছন্দের বৈচিত্র্যময় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করা যাচ্ছে।  
প্রিন্স সুপারশপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ৫০ হাজার পরিবারকে মেম্বারশিপ কার্ডের মাধ্যমে সারাবছরই সেবা দিচ্ছি। কার্ডহোল্ডারদের জন্য রয়েছে বোনাসের ব্যবস্থা। যে যত বাজার করবে শতকরা দেড় টাকা হারে বছর শেষে তারা বোনাস পাবেন। ইতোমধ্যে আমরা ই-কমার্স Princebazarbd.com চালু করেছি। যারা সারাদিন ব্যাস্ত থাকেন তাদের জন্য প্রিন্স সুপারশপ ই-কমার্সের মাধ্যমে ঘরে বা অফিসে বসে অর্ডারের মাধ্যমে বাজার পেয়ে যাবেন খুব সহজে।

সার্বিকভাবে এই খাতের বিষয়ে কাজী রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশের সুপারশপে বেশ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সরকার সুপারশপের প্রতি বিশেষ নজর দিলে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশে সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্যের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় এবং সঠিক সিদ্ধান্তে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

আরও পড়ুন

×