সৌরশক্তিকে সাশ্রয়ী মনে করেন জেলেরা
ছবি-সমকাল
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০২:৩৪
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদী ও খালের ওপর মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে নৌকা চালাতে ডিজেল ও পেট্রোলের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় খরচ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে নৌকাতে সৌরশক্তির ব্যবহার হচ্ছে।
সৌরচালিত নৌকার মূল অংশ হলো ছাদে বসানো সৌর প্যানেল। সূর্যের আলো শোষণ করে প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, যা ব্যাটারিতে সংরক্ষিত হয়। বিদ্যুৎ দিয়ে নৌকার মোটর চালানো হয়। ফলে ডিজেল বা পেট্রোলের কোনো প্রয়োজন হয় না। নোয়াখালীর হাতিয়ায় ২৫০ থেকে ৩০০ নৌকা বা ট্রলার সৌরশক্তি বা সোলার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
জেলেরা মনে করেন, এটি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ সাশ্রয়ী। আসকা বাজার ঘাটের জেলে আবুল কালাম বলেন, ‘সৌরচালিত নৌকা ব্যবহার করলে তেলের খরচ কমে এবং নদীর পানিও পরিচ্ছন্ন থাকে। এটি আমাদের জীবিকার জন্য অনেক সহায়ক ও পরিবেশ বান্ধব। কেননা ধোঁয়া বা শব্দদূষণ নেই। জ্বালানিসাশ্রয়ী অর্থাৎ সৌরশক্তি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার টেকসই ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক।
জেলেরা কিছু অসুবিধার কথাও জানান। প্রথমত– সূর্যালোকের ওপর নির্ভরতা। মেঘলা দিনে বা রাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। প্রাথমিক ব্যয় বেশি। প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন ব্যয়বহুল। ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে ঘাট থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ওছখালি গিয়ে নতুন ব্যাটারি কিনতে হয়। নতুন ব্যাটারি কিনতে হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে। ডিজেলচালিত নৌকার তুলনায় সৌরবিদ্যুতের নৌকার গতি ধীর। ব্যাটারির চার্জ শেষ হলে চালানো কঠিন।
নোয়াখালী হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাটের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি তিনটি সৌরচালিত নৌকা ব্যবহার করি। দিনের বেলায় এগুলো খুব ভালো কাজ করে। তেলের খরচ প্রায় শূন্য। তবে মেঘলা দিনে বা রাতের বেলা আমরা সীমিতভাবে এগুলো ব্যবহার করতে পারি। তবুও এটি আমাদের জীবিকার জন্য অনেক সহায়ক।’
আসকা বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলা উদদীন বলেন, প্রথমদিকে খরচ একটু বেশি হলেও সৌরশক্তি পরিবেশবান্ধব ও জেলেদের জন্য নিরাপদ। নৌকায় জেনারেটর চালাতে গিয়ে আগুন লেগে বহু নৌকা পুড়ে গেছে।
- বিষয় :
- সৌরবিদ্যুৎ
- জেলে
- নৌকা
