৭ দাবি না মানলে ডিম-মুরগি উৎপাদন বন্ধ থাকবে
সংবাদ সম্মেলনে পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন
রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বিপিএ। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৪৪ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৪৫
দেশের পোলট্রি খাত নিয়ন্ত্রণ করা করপোরেট সিন্ডিকেট ভাঙাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সরকার এসব দাবি না মানলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ডিম-মুরগি উৎপাদন স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। আজ শনিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ হুমকি দেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার।
সুমন হাওলাদার বলেন, দেশের প্রান্তিক খামারিরা প্রতিকূল পরিবেশেও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ফিডের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, করপোরেট সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের কার্যকর তদারকির অভাবে পুরো পোলট্রি খাত গভীর সংকটে নিমজ্জিত। সরকারের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এ খাতে প্রকৃত অর্থে চলছে অর্থনৈতিক হরিলুট।
তাই, প্রান্তিক খামারিদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিপিএ সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এগুলো হলো- করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফিড, মুরগির বাচ্চা ও ওষুধ-টিকার দাম সরকারের নির্ধারণ করতে হবে। অবিলম্বে করপোরেট প্রভাবমুক্ত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ১০ শতাংশ লাভ যুক্ত করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনা, সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ ও ভর্তুকি দিতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত ও করপোরেটপন্থি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিপিএ সভাপতি বলেন, সিন্ডিকেট আগের সরকারের সময় সক্রিয় ছিল, বর্তমান সরকারের সময়েও বিদ্যমান। প্রান্তিক খামারিরা আজ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বিগত দিনে তারা বারবার দাবি তুলে ধরেছেন, খামার বন্ধের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন এবং ধৈর্যের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছেন। তারা সরকারকে সম্মান দেখিয়েছেন, কিন্তু তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।
সুমন হাওলাদার আরও বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি সরকার নিবন্ধনহীন সংগঠন বিপিআইসিসিসহ ১০-১২টি কোম্পানির একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ না করে এবং তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে সারাদেশের প্রান্তিক খামারিরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে খামার বন্ধ ও ডিম-মুরগি উৎপাদন স্থগিত কর্মসূচি শুরু করবে। এ কর্মসূচি চলবে যত দিন পর্যন্ত সরকার থেকে বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া হবে।
সুমন বলেন বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে কেবল করপোরেট গ্রুপের পরামর্শে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের বাজারে প্রতি কেজি ফিডে ১৫ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। সরকার তবুও কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে ফিডের দাম কমাতে? পার্শ্ববর্তী দেশের বাজারে প্রতি কেজি ফিডের দাম যদি ৩২-৪০ টাকার মধ্যে হয়, একটি ডিম উৎপাদন খরচ যদি পাঁচ টাকা এবং এক কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ৮০-৯০ টাকা হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাজারে কেন একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ও এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬৫ টাকা হয়?
দেশের বাজারে সিন্ডিকেট যখন থামানো যাচ্ছে না, আমাদের উচিত যেভাবে চাল, ডাল, পেঁয়াজ আমদানি করি ঠিক একই ভাব ফিড, মুরগির বাচ্চা এবং ওষুধ ও টিকা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে আমদানি করা। তাহলে সিন্ডিকেট বিলুপ্ত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। দেশের ফিড মিল ও হ্যাচারিদের সুবিধা দিতে গিয়ে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে ডিম ও মুরগির দাম। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে- জানান বিপিএ সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিএর সিনিয়র সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ মো. সোহেল রানা প্রমুখ।
- বিষয় :
- ডিম
- পোলট্রি খামার
- খামারি
