ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সাক্ষাৎকারে জিনাত ফেরদৌস

‘যদি বক্সিংয়ে মন থাকে, তাহলে শুরু করো’

‘যদি বক্সিংয়ে মন থাকে, তাহলে শুরু করো’
×

জিনাত ফেরদৌস- ফাইল ছবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ১২:৫৬

বাংলাদেশের বক্সিংয়ে রিংয়ে প্রথমবারের মতো নেমেছেন নিউইয়র্ক থেকে আসা জিনাত ফেরদৌস। মঙ্গলবার জাতীয় বক্সিংয়ে অভিষেকটা দারুণ হয়েছে তাঁর। বক্সিংয়ে নিজের স্বপ্ন ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জিনাত ফেরদৌস...

প্রশ্ন: দেশের মাটিতে প্রথম টুর্নামেন্ট খেললেন ও জিতলেন। কেমন লাগছে?
জিনাত: খুব ভালো লাগছে। এই প্রথম ঢাকায় খেলছি। গত দুই বছর বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি, তবে সেটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। নিজ দেশে খেলতে পারছি বলে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। 

প্রশ্ন: বক্সিংয়ে বাংলাদেশের তরুণদের কীভাবে প্রেরণা দিতে পারেন?
জিনাত: আমি খুব দেরিতে বক্সিং শুরু করেছি। আমার বয়স যখন ২৭, তখন আমি বক্সিং খেলা শুরু করি। আমেরিকাতে ভালো ট্রেনিং করি। সেখানকার অনেককে দেখেছি ১৮ বছর বয়সে বক্সিং প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে। যারা আগে শুরু করেছেন, তাদের মতো আমার অনেক অভিজ্ঞতা নেই। বক্সিংয়ে আমার অভিজ্ঞতা মাত্র চার বছর। তাই তরুণদের উদ্দেশে আমার বার্তা– যদি বক্সিংয়ে তোমার মন থাকে, তাহলে শুরু করো। বয়স কোনো বিষয় নয়। বক্সিংয়ে অনেক রকম ট্রেনিং আছে। একটা ফিজিক্যাল ট্রেনিং, একটা মানসিক ট্রেনিং। সবসময় চেষ্টা করে যাবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে বক্সিংয়ের পরিবেশনটা কেমন লেগেছে?
জিনাত: অনেক সাপোর্টার। আমাকে দেখে সবাই রোমাঞ্চিত। তাদের কাছে মনে হয়েছে একজন আসছে, খেলছে বাংলাদেশের জন্য। তারা আমার নাম ধরে স্লোগান দিয়েছে। আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তাদের আগ্রহ দেখে খুবই ভালো লাগছে। এসব দেখে আমি নিজেও শিহরিত। এটা তো মাত্র শুরু। আমি বুঝতে পারছি বাংলাদেশে বক্সিংয়ের ভালো ভবিষ্যৎ আছে। 

প্রশ্ন: আপনাকে ঘিরে ফেডারেশন এসএ গেমসে পদকের স্বপ্ন দেখছে।
জিনাত: এখন পর্যন্ত আমি সাতটি টুর্নামেন্ট খেলেছি। এর মধ্যে পাঁচটিতে পদক জিতেছি। ইচ্ছে আছে, এসএ গেমসে পদক জয়ের। আমি চেষ্টা করব, স্বর্ণপদক জিততে। 

প্রশ্ন: হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেননি। এরপর নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছেন?
জিনাত: ওই সময় আমি যখন হেরে যাই, তখন নিজের কাছে প্রশ্ন রাখি এটা (বক্সিং) আমি করতে চাই নাকি চাই না। কিছুদিন সময় নিয়েছিলাম। এরপর সিদ্ধান্ত নিই বক্সিং করব। আমার মধ্যে একটা জেদ আছে। জেদ থেকে আমি ধীরে ধীরে ভালো করার চেষ্টা করছি এবং এখন তা করছি। মানসিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করেছি।

প্রশ্ন: বক্সিং নিয়ে আপনার স্বপ্নটা কী?
জিনাত: আমার স্বপ্ন হলো বাংলাদেশকে পদক এনে দেওয়া। আমিই এসএ গেমসে পদক জিততে চাই। সেখানে যেন সবাই আশ্চর্য হয় এবং বলে বাংলাদেশও এই খেলাতে পদক জিততে পারে। 

প্রশ্ন: আপনি গুগলে চাকরি করেন। এর সঙ্গে বক্সিংটা কীভাবে করেন?
জিনাত: চেষ্টা করি, তবে দুটো একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। এখন আমি বাংলাদেশে খেলছি, রাতে কাজ করব। কোম্পানি আমাকে খুব সাপোর্ট দেয়। তারা জানে আমি কী করছি।

প্রশ্ন: যে পরিবেশে খেলেছেন, এটা কি বক্সিংয়ের জন্য আদর্শ?
জিনাত: মানুষ আসছে, বাদ্য বাজছে, অনেক বাচ্চা খেলছে এখানে। যুক্তরাষ্ট্রে তেমনটা দেখা যায় না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বক্সিং সেন্টার, অনেক যন্ত্রপাতি, অনেক কোচ থাকেন। আশা করি, ফান্ড এলে এই জায়গাটা আরও সুন্দর হবে। 

প্রশ্ন: বক্সিংয়ে আসতে আপনাকে কে অনুপ্রেরণা দিয়েছে?
জিনাত: আমার হাজব্যান্ড আগে খেলত। সেই ফাইটার ছিল। ওর থেকে আমি শিখছি। দেখছি, ভালো লাগছে। একদিন জিমে গিয়েছি, তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি বক্সিং খেলব। স্বামীর প্রেরণাতেই বক্সিংয়ে এসেছি।

প্রশ্ন: আপনি কি জানতেন জাতীয় বক্সিংয়ে আপনার সঙ্গে ফাইট দেওয়ার মতো কেউ নেই?
জিনাত: জানি। তবে এটাও চিন্তা করেছি প্রতিপক্ষ কাউকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। আমি সেটাই করেছি। আমি এটাও জানি এখানে অভিজ্ঞ বক্সার নেই। তার পরও মাথায় একটা বিষয় কাজ করেছিল যে বক্সিংয়ে যে কোনো কিছুই হতে পারে।

আরও পড়ুন

×